• প্রচ্ছদ » » চারদিকে জয় বাংলা বাংলার জয় জয়কার


চারদিকে জয় বাংলা বাংলার জয় জয়কার

আমাদের নতুন সময় : 13/01/2020

ড. এম শাহ্ নওয়াজ আলি

‘জয় বাংলা’ আসলে কোনো সাধারণ ¯েøাগান নয়। এটি একটি অবিনাশী শক্তির মন্ত্র। এ হলো শব্দব্রহ্ম। একটি শব্দের বা শব্দসমষ্টির মধ্যে অসীম শক্তি নিহিত। ‘জয় বাংলা’ বাঙালি জাতিসত্তার বীজমন্ত্র, বাঙালির আত্মপরিচয়ের নিশান, সর্বোপরি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির হাতিয়ার। পাকিস্তানি শোষক এবং তাদের এ দেশীয় দালালরা চিরকালই এই ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগানকে ভয় পায়। যখন যেখানেই এই অমর বাণী ধ্বনিত হয়েছে, তখনই সেখান থেকে বাংলার শত্রæরা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। সেই অগ্নিঝরা একাত্তর থেকেই আমরা সবাই এই শাশ্বত, সীমাহীন, অপ্রতিরোধ্য বাণীর মর্মার্থ উপলব্ধি করে আসছি। ‘জয় বাংলা’ মন্ত্র যতোদিন বাঙালির মনে-প্রাণে জাগ্রত থাকবে, ততোদিন তাকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। তাই বাংলার শত্রæ, স্বার্থান্বেষী, লোভীরা ও কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য এই মন্ত্রদাতাকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে হত্যা করে। তৎপরবর্তী বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ‘জয় বাংলা’Ñ এই শব্দ দুটির নানা রূপ অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ দেশের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল ও পাকিস্তানি শোষকদের অনুসারীরা এই সর্বজনীন মহামন্ত্রকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ¯েøাগান হিসেবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় ব্যাপৃত এবং বাংলাদেশ থেকে এই মন্ত্রের চিহ্ন মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে আছে। কিন্তু তারা জানে না যে, এর ক্ষয় নেই, ভয় নেই। এ এক অবিনাশী দুর্বার অগ্নিমন্ত্র। এ মন্ত্রের ধ্বংস মানে বাংলাদেশেরই বিনাশ। তাই তাদের সব অপচেষ্টার জটাজাল ছিন্ন করে সাম্প্রতিক বাংলাদেশে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি।
বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ বলতে বাংলার জয় হোক, বাংলার মানুষের জয় হোক, বাংলা ভাষার জয় হোকÑ এই বোঝাতে চেয়েছিলেন। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জন্য সীমাহীন ভালোবাসাই বঙ্গবন্ধুকে করেছিলো মহিমান্বিত। আজ তিনি সশরীরে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার অমর অবিনাশী মন্ত্র ‘জয় বাংলা’ রয়েছে বাংলাদেশের অস্থিমজ্জায়, আমাদের জীবনসত্তায়। আমরা জানি যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপসের ঊর্ধ্বে। বাংলার মানুষের মুক্তি কামনাই ছিলো তার পরম ব্রত। তাই শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দৃঢ়তার কাছে নতি স্বীকার করে ইয়াহিয়া খানকে ১৯৭০ সালে নির্বাচন দিতে হয়েছিলো। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ লাভ করেছিলো ১৬৭টি আসন। ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ লাভ করেছিলো ২৯৮টি আসন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অসাধারণ বিজয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানিদের দোসর, রাজাকার, আলবদরের দল বঙ্গবন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয় এবং বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও ‘জয় বাংলা’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। আর ষড়যন্ত্রের বীভৎস ফল আমরা ১৯৭৫ সালে দেখেছি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মনে করেছিলো যে, বাংলার অবিসংবাদিত নেতা ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করতে পারলেই হয়তো বাংলাদেশ থেকে ‘জয় বাংলা’র চিহ্ন মুছে দেয়া যাবে। কিন্তু তাদের এ ধারণা ভুল ছিলো। ‘জয় বাংলা’Ñ এই অমর অবিনাশী মন্ত্রের যে কতোটা শক্তি, বাঙালির অস্থিমজ্জায় এ বাণী যে কতোটা নিবিড়ভাবে যুক্ত, তার প্রমাণ আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]