১৬০ বছর আগের ব্রিটিশ দ-বিধি সময়োপযোগী করার তাগিদ আইন বিশেষজ্ঞদের

আমাদের নতুন সময় : 14/01/2020

 

এস এম নূর মোহাম্মদ : অখ- ভারতে দ-বিধির খসড়া করা হয় ১৮৩৭ সালে। প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে। কার্যকর হয় ১৮৬২ সালে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এই দ-বিধিই চালু হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দ-বিধি সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০০৪ সালে। সংশোধনীতে বলা হয়, ৯ বছরের কম শিশুর কোন কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না, যা আগে ছিলো ৭ বছর পর্যন্ত।
দ-বিধির ৫১০ ধারায় বলা আছে কোন ব্যাক্তি নেশাগ্রস্ত হয়ে মাতলামি করলে তাকে মাত্র ১০ টাকা জরিমানা বা ২৪ ঘণ্টা আটক রাখা যাবে। ১৬০ ধারায় বলা হয়েছে কেউ মারামারি করলে তার জন্য একমাস কারাদ- বা ১০০ টাকা অর্থদ- করা যাবে। ১৭১ ধারায় বলা আছে কেউ প্রতারণার জন্য সরকারি কর্মচারিদের পোষাক পরিধান করলে তাকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদ- বা ২০০ টাকা অর্থদ- করা যাবে। ১৮৬ ধারায় বলা আছে, কোন ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি কর্মচারির কাজে বাধা দিলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদ- বা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- করা যাবে।
২৭৪ ধারায় ওষুধে ভেজাল মেশানোর শাস্তি হিসেবে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদ- বা ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। আর ২৭৫ ধারায় ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায়েও একই সাজার বিধান উল্লেখ আছে। ৪৪৮ ধারায় গৃহে অনধিকার প্রবেশের দায়ে এক বছর পর্যন্ত কারাদ- অথবা ১ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। উপরোক্ত ধারাগুলো ছাড়াও ১৪০, ১৭২, ১৭৩, ১৭৪, ১৭৬, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০, ১৮৩, ১৮৪, ১৮৭, ২২৮, ২৭৩, ২৭৬, ২৭৭, ২৮০, ২৮২, ২৮৪, ২৮৫, ২৮৬, ২৮৭, ২৮৮, ২৮৯, ৩৩৪, ৩৩৬, ৩৩৭, ৩৪১, ৩৪২, ৩৫৭, ৩৫৮, ৪২৮, ৪৪৭ এবং ৪৯১ ধারাতেও অপ্রতুল সাজা তথা অর্থদ-ের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অনেক বিশেষ আইন হলেও সংশোধন করা হয়নি পুরনো দ-বিধি। দ-বিধিতে থাকা অনেক দ- এখন অপ্রতুল। বিশেষ করে কারাদ-ের বিপরীতে থাকা অর্থদ-ের পরিমাণ বর্তমান সময়ে অনেকটা হাস্যকর। তাই দ-বিধিতে পরিবর্তন এনে অপ্রতুল সাজা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইনজ্ঞরা।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বৃটিশ আমলে প্রণীত দ-বিধি ভারতে পরিবর্তন হয়েছে, আমাদের এখানেও পরিবর্তন করা উচৎ। বিশেষ আইনগুলো দ-বিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া যেতে পারে।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়–য়া বলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে দ-বিধি। ১৬০ বছর আগের আর এখনকার সমাজ একরকম না। অপরাধের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। সমাজ ব্যবস্থারও আমুল পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিবর্তনটা এই আইনের মধ্যে অনুপস্থিত। তাই প্রয়োজনীয় সংশোধন করে দ-বিধি যুগোপযোগী করা উচিৎ।
ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার) বলেন, কোন অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ আইন থাকলে সেটিই কার্যকর হবে, দ-বিধি নয়। তবে প্রয়োজনবোধে দ-বিধি সংশোধন করা যেতে পারে। যে অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ আইন হয়ে গেছে, দ-বিধির ওইসব ধারা বিলুপ্ত করা যেতে পারে। এতে বিচার প্রার্থীদের ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]