• প্রচ্ছদ » » এইটা করা যাবে না, সেইটা খাওয়া যাবে না, ওই প্রশ্ন করা যাবে না, সেইরকম হাঁটা যাবে না, এই কথা বলা যাবে না ইত্যাদির নিয়মে বাঁধা পড়া মানে বন্ধ্যাত্ব


এইটা করা যাবে না, সেইটা খাওয়া যাবে না, ওই প্রশ্ন করা যাবে না, সেইরকম হাঁটা যাবে না, এই কথা বলা যাবে না ইত্যাদির নিয়মে বাঁধা পড়া মানে বন্ধ্যাত্ব

আমাদের নতুন সময় : 15/01/2020

কামরুল হাসান মামুন

এইটা করা যাবে না, সেইটা খাওয়া যাবে না, ওই প্রশ্ন করা যাবে না, সেইরকম হাঁটা যাবে না, এই কথা বলা যাবে না, একটি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড থাকা। ইত্যাদির নিয়মে বাধা পরা মানে বন্ধ্যাত্ব। এই সমাজ সামনে এগোবে না। আমাদের গ্রামগঞ্জের সমাজে আগে জারি গান, কবি গান, পালা গান, মুর্শিদী গান, বাউল গান, যাত্রা পালা ইত্যাদি প্রায় লেগেই থাকতো। এইসবের মাধ্যমে কবির লড়াই, গানের লড়াই করত। যুক্তি তর্কে যুদ্ধ হতো। এইসব ছিলো খুবই সৃষ্টিশীল মানুষ তৈরির পরিবেশ। এজন্যই ভ‚মিতে লালন, নজরুল হয়েছিলো। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়েও তারা নিজেরা আলোকিত হতে পেরেছিলেন। তখন তো কেউ বলেনি তুমি ওটা করতে পারবা না। সেটা বলতে পারবা না।
হাড়িপাতিল ঢাকার মতো মানুষের চিন্তার জগৎকে যখনই ঢেকে দেওয়া হয় বুঝতে হবে মানুষটি মরে গেছে। আমি অনেককে দেখেছি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যেন আগুনের গোলা। তার চলনে বলনে কী তেজ! সেই মানুষটি যখনই চিন্তা ছেড়ে দিলো যেন গাড়ির টায়ারের ঢ়ঁহপঃঁৎব হয়ে নেতিয়ে পরেছে। কথার মধ্যে ধার নেই। পোশাক-পরিধানেও কেমন জানি। আর হাঁটা চলাতে তো পুরোই ঢিলাঢালা। এরা মরার আগেই মরে গেছে। আবার এও দেখেছি স্কুল কলেজে পড়ার সময় ধার ছিলো না কিন্তু পরবর্তী সময়ে আলোকিত হয়েছে। তখন ঢের মধ্যে তেজি ভাব আসতে দেখেছি।
সমস্যা আমাদের দেশটি এখন রাষ্ট্রীয়ভাবেই তেজহীন। এমন কি রাজনৈতিক দলের মধ্যেও ড্রেস কোড দেখি। দলে দলে সহমত হতে দেখি। চিন্তায় ভিন্নতাকে শত্রæ ভাবে। এইরকম পরিবেশে জ্ঞানী মানুষ তেমন জন্মাবে না। বাংলাদেশটার অবস্থা খুবই শোচনীয়। এই মুহূর্তে আমাদের কোনো ভালো রাজনীতিবিদ নেই, ভালো কোনো কবি, শিক্ষক, চিন্তাবিদ প্রায় নেই বললেই চলে। দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে কষ্টে মনটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]