• প্রচ্ছদ » » ধর্ষণ ঠেকাতে আপনি পারবেন তখন যখন দুইটা লাথি দিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবেন, যখন রেপের শিকার হয়েও প্রতিবাদ করতে পারবেন এবং নিজের সম্মান যোনিতে নিয়ে ঘুরবেন না


ধর্ষণ ঠেকাতে আপনি পারবেন তখন যখন দুইটা লাথি দিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবেন, যখন রেপের শিকার হয়েও প্রতিবাদ করতে পারবেন এবং নিজের সম্মান যোনিতে নিয়ে ঘুরবেন না

আমাদের নতুন সময় : 15/01/2020

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

বোরখা পরা এক মেয়ে ময়মনসিংহে তিনদিন আগে ধর্ষিত হয়েছে। তনু ধর্ষিত হয়েছে হিজাব পরা অবস্থায়। নুসরাতও মাথায় হিজাব পরতো। ইয়াসমিন আরিয়ানি নামের একজন ইরানের জেলে বন্দী আছেন। ইয়াসমিনের অপরাধ হচ্ছে, তিনি হিজাব পরার ইরানের রাষ্ট্রীয় আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন! ইরানে এই আন্দোলন এখনো চলমান। আপনি হিজাব পরবেন কী পরবেন না, সেটা আপনার চয়েজ। এতে আমার দ্বিমত নাই। কিন্তু এই পোশাক যে বছরের পর বছর নারীর ডমিনেশানের জন্য চাপায়ে দেওয়া, এতেও আমার দ্বিমত নাই। আপনি কি জানেন, এই ডমিনেশান মেনে মেনে কয়েক শতাব্দী ধরে আপনার ডিএনএ কোডিংয়ে লেখা হয়ে গেছে যে আপনি এই পোশাককে ধর্ষণ থেকে বাঁচার উপায় বলে ভাবছেন? কোরআনের কোথাও বলা নাই বোরখা পরতে হবে। লেখা আছে শালীন পোশাক। এখন শালীন বলে আপনার যা মনে হয় আমার তা নাও মনে হতে পারে, বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু আমরা কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারি না। এটা একেকজনের রুচির ওপর নির্ভর করে। আপনারে জানিয়ে রাখি জয়পুরের খাঁটি হিন্দু ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়েও বোরখা পরেন ওই এলাকার ধুলা আর গরম থেকে রক্ষা পেতে। আরবের মেয়েরা শুধু না ছেলেরাও বোরকা জাতীয় জোব্বা পরে আর মাথায় পাগড়ী জড়ায় কেবল রোদ থেকে রক্ষা পেতে? এইগুলার কোনোটাই কোনো ধর্মীয় পোশাক না। পোশাক নির্ধারণ করতে হয় আবহাওয়া বুঝে, এই ভয়াবহ শীতে যেমন ¯িøভলেস পরতে পারছি না, সেরকম। ময়মনসিংহের মেয়েটা বোরখা পরে গ্যাং রেপ ঠেকাতে পারে নাই। তনু পারে নাই, নুসরাতও পারে নাই। কাজেই আপনিও পারবেন না? আপনাকে জানায়ে রাখি ‘বাইরে যাবো না’ বললেও আপনি রেপ থেকে রেহাই পাবেন না। কারণ গত এক বছরে যতো রেপ হয়েছে তার একটা অংশ হয়েছে বাড়িতে ঢুকে! আপনি রেপিস্টের সামনে একটা শিকার, দুর্বল প্রাণী। রেপিস্টের ধর্মের মা বা বোন বা, নাইলে আশি বছরের বৃদ্ধা বা চারমাসের শিশু রেপড হইতো না। কাজেই বোরখা পরলেই, হিজাব মাথায় দিলেই রেপিস্ট আপনাকে সালাম দিয়ে শান্তিবর্ষণ করে চলে যাবে, এটা মাথা থেকে বের করে দিন? ধর্ষণ ঠেকাতে আপনি পারবেন তখন যখন দুইটা লাথি দিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবেন, যখন রেপের শিকার হয়েও প্রতিবাদ করতে পারবেন এবং নিজের সম্মান যোনিতে নিয়ে ঘুরবেন না। যদ্দিন প্রতিবাদ না করবেন, মলেস্ট হয়ে কান্নাকাটি করবেন, রেপ হইলে আত্মহত্যা করবেন এবং যদ্দিন নিজের নিরাপত্তা পোশাক ও পুরুষের ঘাড়ে চাপাবেন, তদ্দিন আপনি মার খাবেন, আত্মহত্যা করবেন। আর আমি আপনার বেকুবি দেখে আবার এরকম করে চিল্লাপাল্লা করবো। বুঝলেন? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]