• প্রচ্ছদ » » বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি সাধারণ বিচারবুদ্ধি থেকে। গণপরিষদ বিতর্ক পড়ে উপলদ্ধি করেছি সব আত্মত্যাগ তিনি করেছেন স্রেফ সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখ ভারি হয়েছে বারবার। নিথর রাতে এটাও কখনো মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে আমরা উপলদ্ধি করতে পারিনি ঠিকমতো


বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি সাধারণ বিচারবুদ্ধি থেকে। গণপরিষদ বিতর্ক পড়ে উপলদ্ধি করেছি সব আত্মত্যাগ তিনি করেছেন স্রেফ সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখ ভারি হয়েছে বারবার। নিথর রাতে এটাও কখনো মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে আমরা উপলদ্ধি করতে পারিনি ঠিকমতো

আমাদের নতুন সময় : 15/01/2020

ড. আসিফ নজরুল : আমি বাবা হয়েছি প্রায় একযুগ আগে। এরপর থেকে যখনি কোনো মামলায় পড়েছি বা কোনো ঝামেলায়, মনে হতো হায় হায়! আমি না থাকলে কী অবস্থা হবে আমার সন্তানদের। শীলাকে বিয়ে করার পর মনে হতো, আমি জেলে গেলে বাঁচবে কীভাবে সে। আমাদের মতোই ভালোবাসাময় সংসার ছিলো বঙ্গবন্ধুর। তার সঙ্গে রাসেল, অল্প বয়সী হাসিনা, রেহানা আর তার স্ত্রীর ছবি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়, বুকের ভিতর নরম নদী উথলে উঠে আর ভাবি, আহারে কেমন করে তিনি তাদের রেখে বছরের পর বছর জেলে থেকেছেন? কীভাবে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন পথে-প্রান্তরে, সংসার থেকে বহুদূরে? দেশের জন্য কী গভীর প্রেম আর মায়া থাকলে করা যায় এমন অচিন্তনীয় আত্মত্যাগ। কিছু ভুল তিনি করেছেন জীবনের শেষ প্রান্তে। কিন্তু কোনো ভুলই নাকচ হয়ে যায় না তার প্রায় পুরো জীবনের অসীম আত্মত্যাগ। কোনো কিছ্ ুআড়াল করতে পারে না এই সত্য যে আমার দেশটা স্বাধীন হয়েছে তিনি জন্মেছিলেন বলে। ২. বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি সাধারণ বিচারবুদ্ধি থেকে। গণপরিষদ বিতর্ক পড়ে উপলদ্ধি করেছি সব আত্মত্যাগ তিনি করেছেন স্রেফ সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে এটা আরও ভালোভাবে জেনেছি। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ভারি হয়েছে বারবার। মনে হয়েছে এ বইয়ের লাইনের পর লাইন বলে আসি বাংলাদেশের সব শিশুর কাছে, তরুণের কাছে। নিথর রাতে এটাও কখনো মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে আমরা উপলদ্ধি করতে পারিনি ঠিকমতো। না তার বিরোধীরা, না তার স্তাবকের পাল, না তার নিজের প্রতিষ্ঠিত দল। ৩. আমার এ মনে করাটা দৃঢ়তর হয়েছে মুজিববর্ষ পালনের বিষয়টা দেখে। তাকে স্মরণ করা হচ্ছে অনেকাংশে স্থ‚ল, ব্যয়বহুল, আর আরোপিতভাবে। এসব করে কী মানুষের মনে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগবে নাকি মানুষ বিরক্ত হয় উঠবেÑ মনে হয় না তা বিবেচনা করা হয়েছে ভালো করে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের রাতে বারোটা-একটায় ¯েøাগান ওঠে বঙ্গবন্ধুর নামে। ভাবি, তিনি বেঁচে থাকলে কি পছন্দ করতেন এটা? আমার এলাকায় সবচেয়ে অত্যাচারী মানুষটা চোখ রাঙ্গান মুজিববর্ষের পোস্টারে-ব্যানারে। আমার সড়কের বহু সবুজ ঢেকে গেছে তার নামে করা বিকট তোরণে। আমার বাসায় পত্রিকার পর পত্রিকা ঢেকে গেছে অনাবশ্যক স্তুতিবাক্যে। তার কী ভালো লাগতো এসব? ৪. আসল বঙ্গবন্ধুকে আমরা বোধহয় মেরে ফেলেছি মুজিববর্ষেও। আসল বঙ্গবন্ধু এসবের চেয়ে অনেক সুন্দর, অনেক মহান, অনেক মানবিক, অনেক মঙ্গলময়। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে মুজিববর্ষ লাগে না। শুধু একটু জানতে হয়, থাকতে হয় সামান্য বিচারবুদ্ধি। মুজিববর্ষের অনেক আয়োজনে সে বিচারবুদ্ধিই হারিয়ে গেছে যেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]