• প্রচ্ছদ » » ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে শেখ মুজিবুর রহমান
    শেখদের দুর্দিন আসলেও তারা ইংরেজদের সহ্য করতে পারতো না, ইংরেজকে গ্রহণ করতে না পারায় এবং ইংরেজি না পড়ায় তারা অনেক পেছনে পড়ে গেলো


‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে শেখ মুজিবুর রহমান
শেখদের দুর্দিন আসলেও তারা ইংরেজদের সহ্য করতে পারতো না, ইংরেজকে গ্রহণ করতে না পারায় এবং ইংরেজি না পড়ায় তারা অনেক পেছনে পড়ে গেলো

আমাদের নতুন সময় : 17/01/2020

আমিরুল ইসলাম : শেখরা মুক্তি পেলো আর ওদের যাবজ্জীবন জেল হলো। শেখরা মামলা থেকে বাঁচলো, কিন্তু সর্বস্বান্ত হয়েই বাঁচলো। ব্যবসা নাই, জমিদারি শেষ, সামান্য তালুক ও খাস জমি, শেখ বংশ বেঁচে রইলো শুধু খাস জমির জন্য। এদের বেশ কিছু খাস জমি ছিলো। আর বাড়ির আশপাশ দিয়ে কিছু জমি নিষ্কর ছিলো। খেয়ে পরার কষ্ট ছিলো না বলে বাড়িতে বসে আমার দাদার বাবা-চাচারা পাশা খেলে দিন কাটাতেন। সকলেই দিনভর দাবা আর পাশা খেলতেন, খাওয়া ও শোয়া এই ছিলো কাজ। এরা ফার্সি ভাষা জানতেন এবং বাংলা ভাষার উপরও দখল ছিলো। রেণুর দাদা আমার দাদার চাচাতো ভাই, তিনি তার জীবনী লিখে রেখে গিয়েছিলেন সুন্দর বাংলা ভাষায়। রেণুও তার কয়েকটা পাতা পেয়েছিলো যখন তার দাদা সমস্ত সম্পত্তি রেণু ও তার বোনকে লিখে দিয়ে যান তখন। রেণুর বাবা মানে আমার শ্বশুর ও চাচা তার বাবার সামনেই মারা যান। মুসলিম আইন অনুযায়ী রেণু তার সম্পত্তি পায় না। রেণুর কোনো চাচা না থাকার জন্য তার দাদা সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। আমাদের বংশের অনেক ইতিহাস পাওয়া যেতো যদি তার জীবনীটা পেতাম। কিন্তু কে বা কারা সেটা গায়েব করেছে বলতে পারবো না, কারণ অনেক কথা বের হয়ে যেতে পারে। রেণু অনেক খুঁজেছে, পায় নাই। এ রকম আরও অনেক ছোটখাটো গল্প আছে, কতোটা সত্য আর কতোটা মিথ্যা বলতে পারি না। যা হোক, শেখদের দুর্দিন আসলেও তারা ইংরেজদের সহ্য করতে পারতো না। ইংরেজকে গ্রহণ করতে না পারায় এবং ইংরেজি না পড়ায় তারা অনেক পেছনে পড়ে গেলো। মুসলমানদের সম্পত্তি ভাগ হয় অনেক বেশি। বংশ বাড়তে লাগলো, সম্পত্তি ভাগ হতে শুরু করলো, দিন দিন আর্থিক অবস্থাও খারাপের দিকে চললো। তবে বংশের মধ্যে দুই-একজনের অবস্থা ভালোই ছিলো। আমার দাদাদের আমল থেকে শেখ পরিবার ইংরেজি লেখাপড়া শুরু করলো। আমার দাদার অবস্থা খুব ভালো ছিলো না। কারণ দাদারা তিন ভাই ছিলেন, পরে আলাদা আলাদা হয়ে যান। আমার দাদার বড় ভাই খুব বিচক্ষণ লোক ছিলেন; তিনি দেশের বিচার-আচার করতেন। আমার দাদা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। আমার বড় চাচা এন্ট্রান্স পাস করে মারা যান। আমার আব্বা তখন এন্ট্রান্স পড়েন। ছোট্ট ছোট্ট ভাইবোন নিয়ে আমার আব্বা মহাবিপদের সম্মুখীন হন। আমার দাদার বড় ভাইয়ের কোনো ছেলে ছিলো না। চার মেয়ে ছিলো। আবার বাবার সঙ্গে তার ছোট মেয়ের বিবাহ দেন এবং সমস্ত সম্পত্তি আমার মাকে লিখে দেন। পৃষ্ঠা-৭




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]