• প্রচ্ছদ » » ভোটের তারিখ নিয়ে পুনর্বার ভাবার অবকাশ আছে কি না?


ভোটের তারিখ নিয়ে পুনর্বার ভাবার অবকাশ আছে কি না?

আমাদের নতুন সময় : 18/01/2020

রাশেদা রওনক খান

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোটের তারিখ (৩০ জানুয়ারি) সরস্বতী পূজার দিনে ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলন করে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনেও বসেছেন। বিষয়টি একটি কঠিন ভাবনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। তাই সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচন হোক, সেটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমাদের সংবিধানে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলা আছে, সেখানে আমরা কোনো সাম্প্রদায়িক ভাবনাকে উসকে দিতে পারে এমন চিন্তার বিকাশ দেখতে চাই না। ধর্ম পালনে কারও যেন কোনো বিঘœ না হয় সেইদিক বিবেচনার কথা সবসময় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহŸান শুনে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর সময়ে প্রণীত ৭২’র সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে একেবারেই স্পষ্টভাবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা একটি। আমরা নিজেরাও শিক্ষার্থীদের শেখাই, সব ধর্ম, শ্রেণি, বর্ণের মানুষ এক ও অভিন্ন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে সব ধর্মের সহাবস্থানের কথা বারবার উচ্চারণ করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে। এখন কেন নির্বাচন ও পূজার উদযাপনের মাঝে একটি দ্বিমুখী অবস্থান দেখতে পাচ্ছি? শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে গেছে অর্থ হচ্ছে বিষয়টি তাদের বিবেককে তাড়িত করছে। সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পূজা উদযাপিত হলেও ঘরে ঘরে আনন্দ আয়োজন ও উৎসব চলে। তাছাড়া নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রই তো থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তাই তাদের উৎসব আয়োজন কিছুটা মলিন হতে পারে নির্বাচনের দিনে বলে এবং এই ভাবনা তাদের জন্য স্বাভাবিক। তাদের এই ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রইলো, যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা হতে প্রতিবছর পূজার উৎসবে আমরা শিক্ষকরাও একাত্মতা প্রদর্শন করে জগন্নাথ হলে পূজার আয়োজন দেখতে যাই। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। সরস্বতী হচ্ছে বিদ্যার দেবী। তাই সরস্বতীর কৃপা লাভের আশায় রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঘরে ঘরে পূজা হয়ে থাকে দেবীর আগমন উপলক্ষে। ধর্মীয় বিধান অনুসারে সাদা রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসেন। প্রতিবছর এমন সময় বিভাগের হিন্দু ধর্মের শিক্ষার্থীরা আমাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠান এবং আমরা শিক্ষকরা একযোগে সবাই মিলে শিক্ষার্থীদের ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। মন্ত্রে সবাইকে উৎসাহিত করতেই যোগ দিই জগন্নাথ হলের উৎসবে। শিক্ষকদের কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা কি যে আনন্দিত ও উৎসাহিত হয় তা চোখে পড়ার মতো। সেই আনন্দ, উৎসব ও আয়োজনে যেন কোনো ঘাটতি না হয় সেই চাওয়া হতেই শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। এমনকি সরস্বতী পূজার জন্য ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘পূজার ক্ষোভ ভোটে দেবেন’ (সূত্র : প্রথম আলো)। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে ধর্মকে আবারও ভোটের রাজনীতিতে সামনে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করা হলো। নিজ ধর্মের উপর তাদের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতি, শিক্ষার্থীদের পূজাকে ঘিরে নানা আয়োজনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আরেকবার ভেবে দেখার সুযোগ হবে আশা করছি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]