• প্রচ্ছদ » » পছন্দ করতে পারবেন, অপছন্দ করতে পারবেন নাঈমুল ইসলাম খানকে অস্বীকার করা যাবে না


পছন্দ করতে পারবেন, অপছন্দ করতে পারবেন নাঈমুল ইসলাম খানকে অস্বীকার করা যাবে না

আমাদের নতুন সময় : 21/01/2020

প্রভাষ আমিন : ভাব নেওয়ার জন্য বলতে পারি, নাঈমুল ইসলাম খান আমাদের সমসাময়িক। বাস্তবতা হলো আশি ও নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আগে-পরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন নাঈমুল ইসলাম খান। আমি ছিলাম কর্মী মাত্র। শুরু আর শেষের সময়কে সমসময় ধরলে তিনি আমাদের সমসাময়িকই বটে। তবে ভাবটা ফুটো হয়ে যাবে যখন জানবেন, তার সঙ্গে আমার কখনো কাজ করা হয়নি। এটা শুনে নাঈম ভাইও অবাক, কী কও মিয়া, তুমি আমার পত্রিকায় কজি করো নাই। নাঈম ভাই কথা দিলেন, তার নতুন প্রকল্পে আমার জন্য একটা পদ থাকবে। আমিও জানি বুড়ো বয়সে কোনো না কোনো একদিন আমি নাঈম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করবো। নাঈম ভাই আছেন বলে আমি বেকারত্বকে ভয় পাই না। শুধু আমি নই, নাঈম ভাই ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ডেকে অনেককে চাকরি দিয়েছেন। তবে নাঈম ভাইয়ের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তিনি টাকা কম দেন এবং গালাগাল করেন। টাকার কমবেশির মাপকাঠিটা আমি জানি না। তবে ওয়েজবোর্ড মেনে যে দেন না, সেটা আমিও জানি। বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা ওয়েজবোর্ডে বেতন দেয়, বাকি সবাই মিথ্যা দাবি করে। টাকার ব্যাপারে কারও না পোষালে সে থাকবে না। তবে দুর্ব্যবহার ও গালাগালের অভিযোগ অনেকের কাছেই শুনেছি। বয়স বাড়ছে। তার জন্য পরামর্শ, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আর রাগ স্বাস্থ্যের জন্যও খারাপ। তাই এই বয়সে মেজাজ আরও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। নাঈম ভাই যখন সাপ্তাহিক খবরের কাগজ করেন, তখন আমি বিচিন্তায়। নাঈম ভাই যখন আজকের কাগজে তখন আমি বাংলাবাজার পত্রিকায়। নাঈম যখন ভোরের কাগজ গড়েন, আমি তখন জনকণ্ঠে। আমি যখন ভোরের কাগজে যোগ দিই, ততোদিনে নাঈম ভাইয়ের ভোরের কাগজ অধ্যায় সমাপ্ত। আমি সবসময় বলি অনেক সমালোচনা থাকলেও বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টির শিরোনামÑ নাঈমুল ইসলাম খান। নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পর সব কিছুতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। সংবাদপত্রের পরিবর্তনটা এসেছিলো নাঈমুল ইসলাম খানের হাত ধরে, আজকের কাগজ নামে। এর আগে ‘খবরের কাগজে’র মাধ্যমে বদলে দিয়েছিলেন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের প্রচলিত ধারণা। বিশিষ্টজনদের ক্ষুরধার লেখনী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যোগ করে নতুন মাত্রা। সেই ‘খবরের কাগজে’র ধারণাটাই বিস্তৃত হলো দৈনিক আজকের কাগজে। কলামের ঠাঁই হলো দৈনিকেই। আজকের কাগজ স্মার্ট, আধুনিক, গদ্য ঝরঝরে, ভাষায় বাহুল্য নেই, বিবরণে আধিক্য নেই। জনাব, সর্বজনাব, মাননীয়, মহামান্যের অত্যাচার থেকে মুক্তি মেলে পাঠকের। আজকের কাগজ পড়তে পাশে অভিধান লাগে না। মানুষ বিস্মিতÑ আরে এতো আমাদের মতো করে লিখছে। প্রথম পাতায় তিন লাইন নিউজ পড়ে বাকিটার জন্য অতো বড় পত্রিকা হাতড়াতে হয় না। আজকের কাগজ দারুণ চমক, দারুণ রিলিফ। সেই আজকের কাগজের হাত ধরে, ভোরের কাগজ হয়ে আজকের প্রথম আলোর বিকাশ। যুগান্তর, সমকাল, কালের কণ্ঠও এই ধারারই অনুসারী। এরপর নাঈমুল ইসলাম খান এলেন ‘আমাদের সময়’ নিয়ে। আবার চমক, আবার আলোড়ন। মাত্র দুই টাকায় পূর্ণাঙ্গ দৈনিক! ধারণাটাই অভিনব। বাহুল্য-মেদ যা ছিলো, এবার তাও ঝরে গেলো। আজকের কাগজ ধরনের দৈনিকগুলো পাঠককে সারাদিন ব্যস্ত রাখে। আর ‘আমাদের সময়’ ধর তক্তা, মার প্যারেক স্টাইল। ঠিক যতোটুকু দরকার, ততোটুকুই। ব্যস্ত মানুষ একপলক চোখ বুলিয়েই জেনে নেবে প্রয়োজনীয় খবর। ‘আজকের কাগজ’ ধারার চরম উৎকর্ষের নাম প্রথম আলো। ‘আমাদের সময়’ ধারার সাফল্যের নাম ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন। এ দুটি দৈনিকই প্রচার সংখ্যার বিবেচনায় শীর্ষে। আর এ দুটি ধারারই শুরুটা নাঈমুল ইসলাম খানের হাত ধরে। নাঈমুল ইসলাম খানের আজকের কাগজকে অনুসরণ করে আজ বাংলাদেশে অনেক দৈনিক। আমাদের সময়ের ঘরানারও একাধিক দৈনিক আছে বাজারে। কিন্তু মজাটা হলো নাঈমুল ইসলাম খান কখনোই কাউকে অনুসরণ করেন না, এমনকি নিজেকেও না। নাঈম যখন আমাদের নতুন সময়ের ঘোষণা দেন, আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি, নতুন কী আসছে এবার। তবে এবার অপেক্ষাটা বড্ড দীর্ঘ হচ্ছে। আমাদের নতুন সময় প্রকাশিত হচ্ছে এখন। তবে চমক তো পাইইনি, বরং উল্টো অনেক সমালোচনা। নাঈম ভাইয়ের হাউজ থেকে এখন তিনটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। আমাদের নতুন সময়, আমাদের অর্থনীতি, আওয়ার টাইম। সমস্যা হলো তিনটি পত্রিকাতেই কন্টেন্টের পুনরাবৃত্তি থাকে। ফকিরেরপুলে একরুম মাস্ট হেড বদলে আর ম্যাটার উপর-নিচ করে তিনটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই সমালোচনা নাঈমুল ইসলাম খানের নামের পাশে বেমানান। নাঈমুল ইসলাম খানের সাফল্য যেমন আকাশচুম্বি, ব্যর্থতাও কম নয়। বারবার প্রতিষ্ঠান গড়েন, আর ছাড়েন। আজকের কাগজে তিনি থাকতে পারেননি। ভোরের কাগজ তাকে ছাড়তে হয়েছে। আমাদের সময়ও তার নিয়ন্ত্রণে নেই। বারবার একই ঘটনা কেন ঘটে, নাঈম ভাইকেই ভেবে দেখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে সাংবাদিকতায় এসেছেন নাঈমুল ইসলাম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়ে সাংবাদিক হয়েছেন। ভাগ্যিস হয়েছেন, নইলে গণমাধ্যমে এমন একটি উদার জানালা আমরা কোথায় পেতাম? পরমতসহিষ্ণুতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এই বিষয়গুলো নাঈম ভাইয়ের মতো করে ভাবার লোক খুব বেশি নেই। আমি জানি নাঈম ভাইয়ের কট্টর সমালোচনা করে লেখা শুধু তার পত্রিকাতেই ছাপা সম্ভব। তার পিতার একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নিয়ে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে তার পত্রিকাতেই। হাজারটা সমালোচনা সত্তে¡ও তার এই পেশাদারিত্বের কোনো তুলনা নেই। আপনি পছন্দ করতে পারবেন, অপছন্দ করতে পারবেন, কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে নাঈমুল ইসলাম খানকে অস্বীকার করতে পারবেন না। শরীরের বয়স বাড়বে, কিন্তু আমি জানি নাঈম ভাই কখনো বুড়ো হবেন না। নাঈম ভাইয়ের মতো উদ্যোক্তা, কর্মী মানুষের আরও অনেকদিন বাঁচতে হবে। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]