• প্রচ্ছদ » » বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু হাসিনার বাবা নন, বাঙালির প্রাণপুরুষ; আমার দুঃখ লাগে এই মানুষটাকে আমরা সবাই মিলে স্বাগত জানাতে পারলাম না, বললেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু হাসিনার বাবা নন, বাঙালির প্রাণপুরুষ; আমার দুঃখ লাগে এই মানুষটাকে আমরা সবাই মিলে স্বাগত জানাতে পারলাম না, বললেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আমাদের নতুন সময় : 21/01/2020

সমীর কুমার দে : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে কী সম্পৃক্ত করা হয়েছে? সবাইকে যদি সম্পৃক্ত না করা হয় তাহলে আয়োজন কি রং হারাচ্ছে? গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শেখ মুজিব’ শুধু হাসিনার বাবা নয়, বাঙালির প্রাণপুরুষ। আমার দুঃখ লাগে, এই মানুষটাকে আমরা সবাই মিলে স্বাগত জানাতে পারলাম না। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এতো বড় একটা মানুষের জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করবো অথচ সাবাইকে নিয়ে করা হচ্ছে না। এতো বড় একজন মহাপুরুষ, তার বৈচিত্র্যময় জীবন, কর্মময় জীবন অনেক কিছু জানার আছে। এটা নিয়ে তারা লৌকিকতা করছে। যেমন ধরেন ঢাকা শহরে তার আগমন ১৯৪৮ সালের পর। পরিবার নিয়ে তিনি থেকেছেন নাজিরাবাজারে অর্থাৎ ইংলিশ রোড এই অঞ্চলে। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় থেকেছেন সম্ভবত ১০৮ সিদ্ধেশ্বরীতে। একটি পুকুরপাড়ে, ইন্সপেক্টর আখতারুজ্জামানের বাড়িতে। সম্ভবত তার ছেলেমেয়ে বেঁচে আছে। সবশেষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। ১৯৭১ সালে প্ল্যানিংয়ের মেম্বার সেক্রেটারি এ কে এম আরকানের একতলা বাড়িতে থেকেছেন। ঢাকা শহরে তার যে বিচরণক্ষেত্র ছিলো সেই সব এবং সবাইকে নিয়ে করলে আরও অনেক বেশি গ্রহণীয় হতো। আমরা সবাই তার এই দিনটাকে পালন করতে চাই। তারা বঙ্গবন্ধুকে শেখ হাসিনার বাবা বানিয়ে ফেলেছে। আমাদের সবার প্রিয় মানুষ হতে তারা বাধা দিচ্ছে। এ নিয়ে আমি একটা লেখাও লিখেছি। সেটাই তো বলছি, একজন মহাপুরুষকে নিয়ে যেটা হওয়ার দরকার ছিলো সেটা হচ্ছে না। যেমন ধরেন আমাদের নির্বাচন নিয়ে যা হচ্ছে, আগে নির্বাচন ছিলো একটা উৎসব। এখন এটা লৌকিকতায় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের নির্বাচন হলো এখানে মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রত্যেক নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ ভোট দেন। এমনকি বয়োবৃদ্ধ, শয্যাশায়ী লোকও কাঁধে চড়ে এসে ভোট দেয়। এটা আনন্দঘন ব্যাপার। আমরা সব কিছুকে শেষ করে দিয়েছি। এটাই তো খারাপ জিনিস। শেখ মুজিব তো শুধু আওয়ামী লীগের নয়। সব বাঙালির, আমাদের সবার প্রিয় মানুষ। তারা যেভাবে জয় বাংলাকে দলীয় ¯েøাগান করে নিয়েছিলো। শেখ মুজিব শুধু হাসিনার বাবা নয়, বাঙালির প্রাণপুরুষ। আমার দুঃখ লাগে, এই মানুষটাকে আমরা সবাই মিলে স্বাগত জানাতে পারলাম না। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তা তো পারতোই। তারা তো ডাকেইনি। আমরাও অনেক কিছু জানি। তার সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করেছি, একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। এখনো তো অনেক লোক জীবিত আছেন। তারা মার্শালের মতো জন্মবার্ষিকী পালন করছে, এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। দু’টোই। প্রথমত, তাদের চিন্তার প্রসারতার অভাব। তার যে মহানুভবতা ছিলো সবাইকে নিয়ে করার, যেমন ধরেন আজকে এই আয়োজনের আহŸায়ক হওয়া উচিত ছিল ড. ইউনূসের। তাকেই বলতে পারতো আপনি এই কমিটির চেয়ারম্যান হন। তারা গৎবাঁধা আনিসুজ্জামান ছাড়া আর কাউকে দেখে না। আমি নিশ্চিত তিনি বেঁচে থাকলে ইউনূসকে জড়িয়ে ধরে বলতেন, শাব্বাশ, তুই দেখাইছোস। তুই আমাদের নাম বড় করেছিস। তারা চিন্তাই করতে পারে না, শেখ মুজিব ব্যক্তি কতো বড় ছিলেন। তারা যে বড় জিনিসটা চিন্তা করছে, হৃদয় থেকে এটা গ্রহণ করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে কেন একটি গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে ফেলা হচ্ছে? এটা জাতির দুর্ভাগ্য এবং আওয়ামী লীগের অপরিণামদর্শিতা। কীভাবে এই অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করা যেতো? আপনার পরামর্শ কী? অবশ্যই করা যেতো। একটা অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডাকা, আর সম্পৃক্ত করা এটা তো এক জিনিস নয়। এমন দাওয়াত তো আমাদেরও ছিলো। কামাল হোসেন তো তাদের জীবনের অংশ। তাকে কি পাশে ডেকে বলেছে, বলেন তো পাকিস্তানে এক বছর কেমন ছিলো। সেই বর্ণনা তো কামাল হোসেনের দেওয়ার কথা। আমার সবসময় অনুসন্ধিৎসা ছিলো তার জীবনটা কেমন কেটেছিলো। পাকিস্তানে কী করেছিলো, তার মুক্তিটা কেমন করে হলো? পাকিস্তানের ফাইন্যান্স মিনিস্টার মোবাশ্বর হাসান। মোবাশ্বর হাসান কিছুটা বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন। এই কথাটা অনেক বেশি সুন্দর হতো যদি ড. কামাল হোসেনের মুখ দিয়ে শোনা যেতো। তাকে যদি ডেকে বলা হতো, আপনি আসেন এক বছর পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু কেমন ছিলেন সেটা আপনি বলেন। তা কী করেছে? করেনি। শুধু একটা লৌকিকতার কার্ড পাঠিয়ে দিয়েছে। আরও যে দশ হাজার লোককে দাওয়াত দিয়েছে, সেভাবে আমাকেও দাওয়াত দিয়েছে। আমাকে তো কথা বলার জন্য ডাকেনি, স্মৃতি রোমন্থনের জন্য ডাকেনি। অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডেকেছে। অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডাকা, আর সম্পৃক্ততার জন্য ডাকা কী এক কথা? ডয়চে ভেলে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]