যে ফুল এখনো সব পাপড়ি মেলেনি

আমাদের নতুন সময় : 21/01/2020

শামছুদ্দীন আহমেদ : আমার খুব প্রিয় আবুল বাশার নূরু ভাই ফোন করে বললেন, ‘নাঈম ভাইয়ের জন্মদিন ২১ জানুয়ারি, আমরা এবার বিশেষ আয়োজন করছি, তুমি একটা লেখা দাও’। শুনে ভীষণ আনন্দিত হলাম। এক সেকেন্ডও সময় না নিয়ে বললাম, ‘অবশ্যই দেবো’। লেখার শুরুতে ‘আমাদের অর্থনীতি’ ও ‘আমাদের নতুন সময়ে’র চিফ রিপোর্টার নূরু ভাইয়ের কথাটা বলছি এ কারণে, নাঈম ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এই নূরু ভাই। সেন্ট্রাল রোডের যে অফিস থেকে ‘আমাদের সময়ে’র যাত্রা শুরু, সেই অফিসটাতে নাঈম ভাইয়ের কাছে আমাকে নূরু ভাই-ই নিয়ে গিয়েছিলেন। নূরু ভাইয়ের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, কারণ তিনি যদি আমাকে নাঈম ভাইয়ের কাছে সেদিন না নিয়ে যেতেন তাহলে সাংবাদিকতা পেশায় আমার অবস্থান কী হতো সেটা বলতে পারবো না।
নাঈম ভাইয়ের কথা মনে হলেই আমার মাঝে অন্য রকম এক অনুভ‚তি কাজ করে। ভেতর থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্রোত নেমে আসে। আমার কাছে যিনি একজন শিক্ষক, অভিভাবক, বড় ভাই ও প্রিয়জন। তার জন্মদিনে কী লিখবো, কোথা থেকে শুরু করে কোথায় শেষ করবোÑ ভেবে ক‚ল পাই না। ‘আমার জীবনে নাঈম ভাই’Ñ এই শিরোনামে লিখতে গেলেই বড়সড় একটা বই হয়ে যাবে। সেজন্য ভাবছি অতোটা গুছিয়ে পাÐিত্যের নহর বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে বরং স্মৃতির ডায়েরি থেকে কিছু লিখি।
আমাদের সময়ের নির্মাণ পর্বের শুরুতে আমি যখন যুক্ত হই, তখন সেন্ট্রাল রোডের অফিসে একঝাঁক তরুণ-তরুণী কার্যত বিসিডিজেসির মাধ্যমে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। আধুনিক সাংবাদিকতার বরপুত্র নাঈম ভাই নিজের পরিবারের সদস্যের মতো করে সবাইকে হাতে-কলমে শেখাচ্ছিলেন। মূলত তাদের সঙ্গে আমার মতো কয়েকজন কাঁচা রিপোর্টারের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে আমাদের সময় প্রকাশ করতে শুরু করেন। সেখানেই প্রথম কম্পিউটারে কম্পোজ করা শিখি। পত্রিকা তখনো বাজারে না গেলেও আমাদের ছোট ছোট রিপোর্টগুলো সম্পাদনা করার জন্য নাঈম ভাই একটা অভিজ্ঞ টিম রেখেছিলেন। সেই টিমের সদস্যরা প্রত্যেক রিপোর্টারকে পাশে বসিয়ে রিপোর্টের লাইন বাই লাইন শেখাতেন। পত্রিকা বাজারে দেওয়ার আগে কয়েকজন দক্ষ রিপোর্টার টিমে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু আমাদের সময়ের মূল কর্মযজ্ঞ।বাজারে যখন বড় বড় রঙিন পত্রিকার ছড়াছড়ি। ১২, ১৬, ২০, ২৪ পৃষ্ঠার চাররঙের পত্রিকা, তার সঙ্গে আবার প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ম্যাগাজিন ফ্রি দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিলো, ঠিক সেই সময়ে স্রোতের একদম বিপরীতে গিয়ে সাদাকালো আট পৃষ্ঠার আমাদের সময় বাজারে ছাড়লেন নাঈম ভাই। সাধারণত বড় বাজেটের কোনো পত্রিকা বাজারে আসার আগে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে থাকে, উদ্বোধনী সংখ্যা শতপৃষ্ঠার বা তারও বেশি পৃষ্ঠার করে থাকে। কিন্তু বাজারে যেতে আমাদের সময়ের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখও ছিলো না, আগে থেকে কোনো প্রচারণাও ছিলো না। মনে পড়ে, আমরা শুধু একটা নির্ধারিত ফরমে বিভিন্নজনের কাছে গিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠাতা গ্রাহক করেছিলাম। বিনা প্রচারণায় সাদাকালো আট পৃষ্ঠার পত্রিকাটি ধীরে ধীরে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করলো। একটা পর্যায়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দুর্বার গতিতে এগোতে থাকে আমাদের সময়, পাঠকপ্রিয়তায় তুঙ্গে উঠে। পাঠক চাহিদা মেটাতেই আমাদের সময়ে আরও বিপুল অর্থের বিনিয়োগ অপরিহার্য হয়ে উঠে। যেটির যোগান দেওয়া নাঈম ভাইয়ের একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিলো না। বাড়ন্ত প্রচার সংখ্যা অব্যাহত রাখতে নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত করার পরই ভিন্ন পর্বে পদার্পণ করে নাঈম ভাইয়ের নেতৃত্বে আমাদেরই গড়া ‘আমাদের সময়’।

শুরু থেকে প্রথম দুই-তিন বছর বিভিন্ন স্থানে অ্যাসাইনমেন্টে গিয়ে কিংবা অনেকের সঙ্গে কথা বলার সময় আমাদের সময়কে নিয়ে কেউ কেউ কট‚ক্তি করতেন, বলতেন ‘দুই টাকার পত্রিকা’, আরও কতো কিছু বলে নাক সিটকাতেন। কোনো কোনো সাংবাদিকও বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন। আমরা নীরবে সব সহ্য করতাম। কিন্তু একটা পর্যায়ে আমরাই সবার ঈর্ষার কারণ হয়ে যাই। অন্য পত্রিকার খ্যাতিমান সাংবাদিকরাও যখন আমাদের সময়ে কলাম লিখতেন তখন কেউ কেউ নিজের লেখার মধ্যেই উল্লেখ করতেন, ‘আমাদের সময়ে ছাপা হলে পাঠকের প্রতিক্রিয়া বেশি পাওয়া যায়’। দিন পাল্টে এমনদিন এসেছিলো রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্নজন বলতেন, ‘আমাদের সময়ে ছাপা হলেই সবাই জানবে’। যখন থেকে এ রকম কথা শুনতে শুরু করলাম, তখন আগের তাচ্ছিল্যের কথা ভুলে যেতাম এবং গর্ববোধ করতাম। অনেকেই তখন প্রশ্ন করতেন, আচ্ছা আমাদের সময় এতো জনপ্রিয় হওয়ার কারণ কি? এর প্রধান কারণ ছিলেন সংবাদপত্র গড়ার দক্ষ ও নিপুণ কারিগর নাঈম ভাই। তার অতুলনীয় মেধা, সৃষ্টিশীলতা, বিরামহীন শ্রম আর নতুন নতুন আইডিয়াই ছিলো মূলমন্ত্র। অল্প কথায় মূল বিষয় উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে চর্বিহীন ছোট আকারের রিপোর্ট লেখার পারদর্শিতাটাও একটা কারণ ছিলো। রিপোর্টারদের নিয়ে সকাল নয়টার মধ্যে নাঈম ভাই যে মিটিং করতেন সেটিও অন্যতম কারণ ছিলো পাঠকপ্রিয়তার। আজকের পত্রিকায় কি কি রিপোর্ট মিসড্ হয়েছে, কোনটা ভালো হয়েছে, অন্য পত্রিকায় কারা কি করেছে, পরদিনের পত্রিকার জন্য বিশেষ কি রিপোর্ট করা যাযÑ এসব পরিকল্পনা হতো সেই প্রাতঃমিটিংয়ে। অন্য পত্রিকার সাংবাদিকরা যখন ঘুমাতেন কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন তখন আমরা পরদিনের পত্রিকা নিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করে কাজে নেমে পড়তাম। একটা সময় এমনো হয়েছিলো, নাঈম ভাই অফিসেই সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা রিপোর্টাররা কেউ-কেউ সকালে যেতে বিলম্ব করলেও নাঈম ভাই অফিসে চলে আসতেন সকাল সাতটায় বা তারও আগে।
বিপুল অর্থের বিনিয়োগে যখন বড় বড় পত্রিকা পাঠক ধরতে তীব্র প্রতিযোগিতায় তখন শুধু সৃষ্টিশীলতা আর মেধার উপর ভর করে দুই টাকার সাদাকালো আমাদের সময়কে পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান নাঈম ভাই। গতানুগতিক সাংবাদিকতার কিংবা নির্ধারিত ফরমেটের পত্রিকা ভেঙে তিনিই এ দেশে সর্বপ্রথম আধুনিক সাংবাদিকতার পথ দেখান। সেই মোড় বদল করেন আজকের কাগজের মধ্য দিয়ে।
আধুনিক সংবাদপত্রের জনক নাঈম ভাইকে নিয়ে সংবাদপত্র শিল্প কিংবা সাংবাদিক কমিউনিটিতে সমালোচনার অন্ত নেই। খুব কমন অভিযোগ, তিনি স্টাফদের কম বেতন দেন। আমি যখন আমাদের সময়ে ছিলাম তখনো, আমাদের সময় ছেড়ে ইত্তেফাকে আসার পরও কারও কারও মুখে নাঈম ভাই সম্পর্কে এই অভিযোগ শুনি। আমাদের সময়ে আমি শুরু করেছিলাম সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে। ২০১১ সালে যখন আমাদের সময় ছাড়ি তখন আমার বেতন ছিল ৬৫ হাজার টাকা। বুকে হাত রেখে বলছি, সাড়ে চার হাজার থেকে বাড়তে বাড়তে প্রায় সাত বছরে ৬৫ হাজার টাকা হওয়া পর্যন্ত কোনোদিনই আমি নাঈম ভাইকে একবারের জন্যও বলিনি নাঈম ভাই আমার বেতনটা বাড়িয়ে দিন। প্রথমদিকে অ্যাকাউন্ট সেকশনে ও পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তুলতে গিয়ে টের পেতাম আমার বেতন বেড়েছে। শুধু আমার নয়, ওই সময় আমরা যারা ছিলাম সবার ক্ষেত্রেই এটা কমবেশি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, যেহেতু নাঈম ভাই সার্বক্ষণিক পত্রিকার সঙ্গে থাকেন, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক সহকর্মী সম্পর্কে জানেন এবং বোঝেনÑ সেই কারণে কার বেতন, কার কি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার সেটি তিনি নিজেই জানতেন। এ জন্য কাউকে তার কাছে সুপারিশ করার দরকার হতো না। কে যোগ্য বা ভালো রিপোর্টার, কে আগ্রহী ও পরিশ্রমী, কে দুর্বল রিপোর্টার, কে কাজে ফাঁকি দেনÑ এর পরিষ্কার চিত্র তিনি নিজেই দেখতেন।
নাঈম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এমন একজন জুনিয়র সাংবাদিক কিছুদিন আগেও আমার সঙ্গে বেতন নিয়ে বিতর্ক করেন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, ‘আচ্ছা, নাঈম ভাইয়ের সঙ্গে আপনার যে কথা ছিলো সেই অনুযায়ী বেতন তিনি দেননি’? জবাব ‘হ্যাঁ, তা দিয়েছেন’। প্রশ্ন করলাম, ‘আচ্ছা, নাঈম ভাই কি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লোভ দেখিয়ে আপনাকে ভাগিয়ে নিয়েছিলেন’? বললেন, ‘না, তা করেননি’। এরপর প্রশ্ন করলাম, ‘আচ্ছা, আপনার জানামতে এমন কেউ কি আছেন যিনি প্রাপ্য বেতন পাননি’? ওই জুনিয়র সাংবাদিক এর কোনো জবাব দিতে পারেননি। আমি তখন ওই সাংবাদিককে বললাম, আমার জানামতে, এমন একজনও নেই যিনি অভিযোগ করেছেনÑ নাঈম তার প্রাপ্য বেতন দেননি। এমনকি একদিন চাকরি করলেও সেটি হিসাব করে টাকা দেওয়া হয়েছে। বেতন ইস্যুতে যখনই যেখানে কাউকে প্রশ্ন তুলতে দেখেছি সেখানেই যখন আমি এ রকম প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছি অভিন্ন জবাব মিলেছে। আমাদের সময় যখন লাভজনক তখন নাঈম ভাই কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে গাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন। নতুন গাড়ি না দিলেও কয়েকজনকে তিনি একটি করে পুরনো গাড়ি দিয়েছেন। আমিও সেই কয়জনের মধ্যে একজন ছিলাম। গাড়ি পুরনো হওয়ায় তিনি সেগুলোকে মেরামত করে পলিসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের খরচে। এরপরও আরেক দফা মেরামত করে দিয়েছিলেন। এমনকি আমাদের গাড়ির চালকের বেতনও হতো অফিস থেকে। তখন থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন বৈশাখী বোনাস পান। অথচ বাংলাদেশে নাঈম ভাই প্রথম এটা চালু করেছিলেন। আমরাই আমাদের সময়ে প্রথম বৈশাখী বোনাস পেয়েছিলাম। হোক সেটা টোকেন, কিন্তু চালু তো তিনিই করেছিলেন। এটা অস্বীকার করবো কীভাবে। এখন বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজপোর্টালে ভালো রিপোর্টের জন্য মাসিক কিংবা বাৎসরিক পুরস্কার দেওয়া হয়। অথচ আমাদের সময়ে প্রতিদিন সকালের মিটিংয়ে বাছাই করা কয়েকটি ভালো রিপোর্টের জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০, এমনকি ৫০০ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কার চালু করেছিলেন নাঈম ভাই। টাকার সঙ্গে একটি ধন্যবাদপত্রও দেওয়া হতো। আমার মনে আছে, পুরস্কারের সেসব টাকা আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীকে দিতাম। মাস শেষে দেখা যেতো কয়েক হাজার টাকা জমেছে। আমাকে প্রথম বিদেশ সফরেও পাঠিয়েছিলেন নাঈম ভাই, ২০০৯ সালে। আমার মেয়ে সামারার বয়স তখন মাত্র তিন মাস। আমি যেতে চাইনি। আমার তখন পাসপোর্টও ছিলো না। নাঈম ভাই বললেন, ‘শান্তি মিশনের কার্যক্রম দেখতে আর্মিদের সঙ্গে তুমি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভোরিকোস্টে যাবা, এই ধরনের দেশ সফরের সুযোগ সাধারণত হয় না, এটা মিসড করো না, তুমি যাও’। আসলে ইচ্ছার বিরুদ্ধেই জরুরি পাসপোর্ট বানিয়ে তখন আইভোরিকোস্টে গিয়েছিলাম। টিভি টকশোতেও আমি প্রথম যাই নাঈম ভাইয়ের সুবাদে। যুগান্তরের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম তখন চ্যানেল আইতে একটি টকশো করতেন। নাঈম ভাই আগেরদিন আমাকে বললেন, ‘চ্যানেল থেকে ফোন করেছিলো, আমি তোমার নাম বলেছি, তুমি যেও’। এটা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি নাঈম ভাই। টকশোতে কি রঙের শার্ট পরে গেলে ছবি ভালো দেখাবে সেটিও তিনি বলে দিয়েছিলেন।
আমাদের সময়ে সাংবাদিকদের উৎকর্ষ সাধন ও মানোন্নয়নে প্রায়ই রিসোর্স পারসন আনার উদ্যোগও নিয়েছিলেন নাঈম ভাই। তারা আমাদের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক শেখাতেন। ভালো রিপোর্ট তৈরির শৈলী শেখাতেন। একদিকে নাঈম ভাই প্রতিদিনই আমাদের শেখাতেন, আরেকদিকে রিসোর্স পারসন এসে ভালো রিপোর্ট তৈরির উপায় নিয়ে আলোচনা করতেন। ফলে বলতে গেলে বছরজুড়েই আমরা শেখার সুযোগ পেতাম। আমার মনে পড়ছে, প্রয়াত তিমির লাল দত্ত, সাইফুল ইসলাম তালকুদার, দীনেশ দাসসহ আমরা যারাই আমাদের সময়ে ছিলাম প্রত্যেকেই কম্পিউটারে কম্পোজ করা শিখেছি আমাদের সময়ে। তিমির দা ও সাইফুল ভাইকে শুরুর দিকে নাঈম ভাই বলতেন, ‘আপনাদের এখন ডিউটিই হলো কম্পিউটার শেখা’। ঠিকই একসময় তারা শিখে গেছেন।
নাঈম ভাই মাঝে মধ্যেই মিটিংয়ে প্রচÐ ক্ষেপে যেতেন। চিৎকার করতেন শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে। বেশি রেগে গেলে সামনে থাকা ফাইল বা অন্য কিছু ফ্লোরে ছুড়েও মারতেন। এ সময় রাগে কাঁপতো তার মুখমÐল। যেদিন এমন ঘটনা ঘটতো সেদিন অফিসে কিছু সময়ের জন্য একধরনের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হতো, নেমে আসতো একধরনের নীরবতা। আমরা সবাই আরও ভালো কাজ করার নতুন তাগিদ অনুভব করতাম। তবে সময়ের ব্যবধানে নাঈম ভাইয়ের এই রাগারাগিকে আমরা শিক্ষক বা অভিভাবকের শাসন হিসেবেই মেনে নিতাম এবং প্রকৃত অর্থে সেটাই ছিলো সত্য। কারণ সকালে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা মানুষটিই যে বিকালে আবার বন্ধুর মতো আচরণ করতেন আমাদের সঙ্গে। এমনও দেখতাম সকালে যে মানুষটি অন্য রকম ছিলেন, বিকালে অফিসে এসে ফ্লোরজুড়ে পায়চারি করছেন আর গুনগুন করে গান গাইছেন। নাঈম ভাইয়ের মেয়ে লাবিবা ও যূলিকা যখন ছোট ছিলো তখন তারা এসে অফিসে এদিক-ওদিক ছুটতো, খেলতো। তখন অফিসে পারিবারিক আবহ তৈরি হতো, যেটিকে অন্তত আমি খুব উপভোগ করতাম। নাঈম ভাই মাঝে মধ্যে লুঙ্গি পরে অফিসে আসতেন, এটাও মন্দ লাগতো না। একদিন এ নিয়ে আমি যখন গল্প করছিলাম তিনি তখন বললেন, ‘বিশ্বাস করো, আমার সত্যিই ইচ্ছা করে লুঙ্গি পরে টকশোতেও যাই, কারণ এটা তো আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিরই অংশ’।
নাঈম ভাই সবসময়ই আমার কাছে একটি নিরাপদ নির্ভরতার স্থান। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতাকে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। নাঈম ভাইকে আমি তুলনা করি ফুলের সঙ্গে। যিনি একেকটি পাপড়ি মেলেন, আর সংবাদপত্র নতুন কিছু পায়। এই ফুলটির সব পাপড়ি এখনো মেলা হয়নি। আরও বহু কিছু দেওয়ার রয়েছে। প্রিয় নাঈম ভাইÑ আপনি সবসময় সুন্দর, সুস্থ ও নিজের স্বভাবসুলভ প্রাণচঞ্চল থাকুন। আপনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন বহুকাল। শুভ জন্মদিন। লেখক : সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]