• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশের চোর-ডাকাত, যারা ব্যাংকের টাকা লুট করে কানাডায় বসতি গড়েছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টাকারীরাও আছে


বাংলাদেশের চোর-ডাকাত, যারা ব্যাংকের টাকা লুট করে কানাডায় বসতি গড়েছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টাকারীরাও আছে

আমাদের নতুন সময় : 23/01/2020

সওগাত আলী সাগর

যেকোনো মহৎ কাজে, সেটি নতুন সমাজ বিনির্মাণের প্রচেষ্টা হোক আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন হোকÑ সবাইকে আপনি সহযোগী হিসেবে পাবেন না। বরং কিছু মানুষ সংশয় সৃষ্টি করবে, কিছু মানুষ আপনাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে, কিছু মানুষ আপনার সঙ্গী হবে। যারা বাধা দেবে, যারা বিরোধিতা করবে, তারা প্রকাশ্যেই সেটা করবে, ফলে তাদের আপনি চিনতে পারবেন। কিন্তু সংশয় সৃষ্টিকারীদের নিয়ে আপনি একটু দ্বিধায় থাকবেন। তাদের আপনি ঠিক ‘বিরোধীপক্ষের’ লোক হিসেবে সরাসরি চিহ্নিত করতে পারবেন না। কিন্তু তারা আসলে বিরোধী পক্ষের লোকই। আমাদের বিরোধী পক্ষ কারা? এই মুহুর্তে আমরা বাংলাদেশের চোর-ডাকাত যারা ব্যাংকের টাকা লুট করে কানাডায় বসতি গড়েছে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনে কমিউনিটির সিংহভাগ মানুষের সমর্থন আছে, প্রকাশ্যেই আছে। কিন্তু এই আন্দোলনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টাকারীরাও আছে। এই সংশয় সৃষ্টির চেষ্টাকারীরা আসলে চোর-ডাকাতদের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে। কেউ যখন বলে ‘আন্দোলনে নামার আগে আয়নায় নিজের মুখ দেখেন’, ‘এই আন্দোলন আর কয়দিন, দুদিন বাদে সব শেষ হয়ে যাবে, সবাই আবার চোর-ডাকাতদের সঙ্গে মিশে যাবে’Ñ তিনি বা তারা সংশয়বাদী। তারা আন্দোলনের ব্যাপারে আপনাকে নিরুৎসাহী করতে চায়। তারা আসলে চোর-ডাকাতকে বাঁচিয়ে দিতে চায়। কেউ যখন লুটেরা আর ‘সোশ্যালে থেকে ক্যাশে কাজ করার’ আলোচনাকে সামনে নিয়ে আসতে চায় তারাও সংশয়বাদী। এই আলোচনা কিন্তু তারা এতোদিন তোলেনি। এখন সবাই যখন লুটেরাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার, তখন তারা এই আলোচনা সামনে নিয়ে আসছে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই। আগে কিন্তু তারা এটি নিয়ে/এগুলো নিয়ে কথা বলেনি। সামনেও বলবে না। কাজেই তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।
শাহবাগের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনের সময়ও কিন্তু একদল বলতো, তারা তো দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে না, রাষ্ট্রের অনিয়ম নিয়ে কথা বলে না। ওই লোকগুলোকে পরে কিন্তু আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে আর এ সব নিয়ে কথা বলেনি। চোর-ডাকাতের বিরুদ্ধে নানা ফ্রন্টে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আইনগতভাবে কিছু করা যায় কি না সেটিও দেখা হচ্ছে। টরন্টোর একটি দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইনি দিক খতিয়ে দেখছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, মন্ত্রণালয়ে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত রিপোর্টগুলো পৌঁছে দেওয়ার কাজও হচ্ছে বলে জানা গেছে। কাজেই সংশয়বাদীদের খপ্পরে পড়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আরেকটা কথা বলি। কোন ‘ডাকাতের ‘ সঙ্গে কার ছবি ছিলোÑ সেটাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলবেন না। কার সঙ্গে কার ছবি আছে সেটি এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ নয়, পেছনের ছবি দিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসাও ঠিক নয়। আমরা বরং সামনে তাকাবো, আমাদের লক্ষ্য যেহেতু দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়া, সামাজিক সচেতনা তৈরি করা, আমরা লুটেরাদের দিকেই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবো। এই কমিউনিটিতে আপনি হচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ, আপনি সম্মানের মানুষ, কারণ কোনো দ্বিধা না রেখে আপনি প্রকাশ্যে চোর-ডাকাতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আপনার লক্ষ্য চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে সামজিক সচেতনতা তৈরি, আপনাকে স্যালুট। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com