• প্রচ্ছদ » » শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকলে গণরুম, গেস্টরুম প্রথা বিলোপ হতো এবং নির্বাচনী প্রচারণা, মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কারও হতো না


শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকলে গণরুম, গেস্টরুম প্রথা বিলোপ হতো এবং নির্বাচনী প্রচারণা, মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কারও হতো না

আমাদের নতুন সময় : 25/01/2020

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে আমার বউয়ের কলেজ থেকে তার ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষিকা কল করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে বলেছিলো। বিষয়টা আমি শুনে অবাক হয়েছিলাম যে, কলেজ থেকে কল করে প্রচারণার জন্য মেয়েদের ডাকছে। তাও আবার এই কাজগুলো করে থাকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কতোটা অধঃপতন হলে তারা এ সব দলীয় দাসত্ব করতে পারে তা নিশ্চয় অনুমেয়। সম্প্রতি শুনলাম আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে ও মেয়েদের কয়েকটি হল থেকে ১ম ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় জোরপূর্বক নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। এ বিষয়ে কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা নিউজও করেছে। ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের এক শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমাদের বাবা-মা কষ্ট করে লেখাপড়া করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে। আমরা নিয়মিত ছাত্রলীগের পলিটিকাল প্রোগ্রামগুলো করি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমরা সাংবাদিকদের করিনি। কিন্তু সম্প্রতি জানাতে বাধ্য হচ্ছি ঢাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য আমাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি লজ্জিত জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা যখন নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই, তখন মানুষ আমাদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে। যা শোনার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত নই। কারণ আমরা মেয়ে আমাদের একটা ভবিষ্যৎ আছে। এ বিষয়ে আরও একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমরা প্রচারণায় না গেলে আমাদের হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তাই আমরা অনেক সময় ক্লাস মিস করে নির্বাচনী প্রচারণায় যেতে বাধ্য হচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, আমিসহ আমার আরও বেশ কয়েকজন বন্ধুকে প্রথমে টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। তারপরও আমরা না যেতে চাইলে আমাদের যেতে বাধ্য করা হয় এবং নামসর্বস্ব কিছু নাস্তা করিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের সাহায্যে প্রচারণা চালানো হয় যা একধরনের অমানবিক কাজ।’ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।
আমরা হলে থাকা অবস্থায়ও এগুলো হতো। তবে কখনো ঢাবির মোয়েদের এভাবে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়নি। ছেলেদের আগেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এখনো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কতোটা অধঃপতন হলে বোনদের দিয়ে এ সব কাজ করানো যায়? ধিক্কার জানাই ঢাবি প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যারা নিজের সুখের কথা চিন্তা করে দলীয় দাসবৃত্তি করে এবং নিজেরা সুখে থাকার জন্য শিক্ষার্থীর পক্ষে কথা বলেন না। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকলে গণরুম, গেস্টরুম প্রথা বিলোপ হতো এবং নির্বাচনী প্রচারণা, মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কারও হতো না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]