• প্রচ্ছদ » » শেখ মুজিব খুব আত্মবিশ্বাসী লোক ছিলেন, যার আত্মবিশ্বাস নেই, সে তো আশ্রয়হীনা লতার মতো পড়ে থাকে, গণআকাক্সক্ষার মর্মভ‚মিতে নিজেকে একাকার করে দেওয়ার গুণটা ছিলো বঙ্গবন্ধুর


শেখ মুজিব খুব আত্মবিশ্বাসী লোক ছিলেন, যার আত্মবিশ্বাস নেই, সে তো আশ্রয়হীনা লতার মতো পড়ে থাকে, গণআকাক্সক্ষার মর্মভ‚মিতে নিজেকে একাকার করে দেওয়ার গুণটা ছিলো বঙ্গবন্ধুর

আমাদের নতুন সময় : 25/01/2020

বখতিয়ারউদ্দিন চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুর জন্ম ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমায়। গোপালগঞ্জ তখনো জেলা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর বাবা সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। তিনি শহরে থাকতেন। বঙ্গবন্ধুও লেখাপড়া আরম্ভ করেছেন বাবার সঙ্গে থেকে গোপালগঞ্জ শহরে। স্কুল জীবনে গোপালগঞ্জ শহরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পরিচয়। জহুরি রতন চেনে। তিনি কলকাতায় এলে বঙ্গবন্ধুকে দেখা করতে বলেছিলেন। স্কুল জীবন শেষ করে বঙ্গবন্ধু কলকাতায় চলে যান। ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে চলে আসেন। এই সম্পর্কটাই তাকে সমগ্র বাংলাদেশে পরিচিতি দান করে, আর রাজনীতিতে খ্যাতি অর্জনের সুযোগ করে দেয়। গণমানুষের সঙ্গে, গণমানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে, বঙ্গবন্ধু ছোটকাল থেকে সম্পৃক্ত। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে তা বোঝা যায়। আর আমরা যারা বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি, তারা তার গণমানুষমুখী তার চরিত্র লক্ষ্য করেছি। শুধু তিনি নন, তার সেই গুণ তার সহকর্মীদের মধ্যেও সম্প্রসারিত হয়েছিলো। গণআকাক্সক্ষার মর্মভ‚মিতে নিজেকে একাকার করে দেওয়ার গুণটা ছিলো বঙ্গবন্ধুর। এই মহৎ গুণটি তাকে গণমানুষের নেতা করেছে। বঙ্গবন্ধু করেছে। আর সব শেষে জাতির পিতার আসনে বসিয়ে তাকে সম্মানিত করেছে।
শেখ মুজিব খুব আত্মবিশ্বাসী লোক ছিলেন। যার আত্মবিশ্বাস নেই, সে তো আশ্রয়হীনা লতার মতো পড়ে থাকে। তার আত্মবিশ্বাস তাকে এতো উপরে টেনে তুলেছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর ৪৩ দিন পর তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্জীবিত করেছিলেন। পুনর্জীবিত আওয়ামী লীগে প্রবীণ নেতা আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমেদরা আসেননি। তিনি নতুন একটি টিম নিয়ে আওয়ামী লীগ শুরু করেছিলেন। খুলনার আবদুল আজিজ, যশোরের মশিউর রহমান (যাকে পাকিস্তানি বাহিনী ২৬ মার্চ ১৯৭১ হত্যা করে), ফরিদপুরের মোল্লা জালাল উদ্দিন, ঢাকার তাজউদ্দীন আহমদ ও শামসুল হক, ময়মনসিংহের সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রাজশাহীর কামরুজ্জামান, পাবনার মনসুর আলী, বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী, কুমিল্লার কাজী জহিরুল কাইয়ুম ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের আবদুস সামাদ আজাদ, নোয়াখালীর মালেক উকিল প্রমুখকে নিয়ে তার পদযাত্রা। সবাই ছিলেন প্রায় তার সমবয়সী। এই টিমটা নির্বাচনে এতো দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন যে স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নিতে কেউ কোনো দ্বিমত করেননি। সহকর্মী নির্বাচনে তার সিদ্ধান্ত ছিলো অভ্রান্ত এবং কাল উত্তীর্ণ। বঙ্গবন্ধু অনেক সময় বক্তৃতা দিতে গিয়ে পুরনো নেতাদের ‘মীরজাফর’ বলতেন। তখন একদিন নুরুল আমিন তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘মুজিবর আমরা সবাই মীরজাফর হলে তুমি এক সিরাজ করবে কী’। বঙ্গবন্ধু তার আরেক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘এক সিরাজ কী করতে পারে, তা দেখার জন্য আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়ে রাখুক’। সত্যিই নুরুল আমিন তা দেখে গেছেন। বাংলাট্রিবিউন। ঈষৎ সংক্ষেপিত। লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক। নধশযঃরধৎঁফফরহপযড়ফিযঁৎু@মসধরষ.পড়স




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]