• প্রচ্ছদ » » দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকার সম্পাদককেই যদি সন্ত্রাসের শিকার হওয়া নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীর আইনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে হয়, তা রাষ্ট্র ও সরকারের চরিত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয় না


দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকার সম্পাদককেই যদি সন্ত্রাসের শিকার হওয়া নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীর আইনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে হয়, তা রাষ্ট্র ও সরকারের চরিত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয় না

আমাদের নতুন সময় : 13/02/2020

সওগাত আলী সাগর : ‘কার কাছে বিচার চাইবো?’Ñসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আকুতিটি ঘুরে বেড়াচ্ছে ১১ ফেব্রæয়ারি থেকে। না, এটি অসহায় কোনো সাধারণ নাগরিকের আহাজারি নয়। এই প্রশ্নটি ছুঁড়ে দিয়েছেন একজন সাংবাদিক, যিনি পায়ে হেটে হেটে ঢাকা নগরীর অলি-গলিতে ঘুরে ঘুরে সাংবাদিকতা করেছেন, যিনি একাধারে একটি জাতীয় দৈনিক এবং টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান। তার সম্পাদিত পত্রিকাটি যে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত জাতীয় দৈনিক- সেই তথ্যটি মাত্র কয়েকদিন আগেই জাতীয় সংসদে ঘোষিত হয়েছে।
আইনের শাসন আছে- এমন কোনো সমাজে, রাষ্ট্রে একজন সাংবাদিককে, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকার সম্পাদককে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে হয় না। কিন্তু নঈম নিজামকে এই প্রশ্নটি করতে হয়েছে। মজার ব্যাপার এই প্রশ্নটির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম নিজের জন্য এই প্রশ্নটি তুলেননি । তিনি লিখেছেন, ‘ভোটের দিন বাংলাদেশ প্রতিদিন সাংবাদিককে আটক করে নির্যাতনকারী সন্ত্রাসীর এখনও কিছু হয়নি। পুলিশ সেই মাস্তানের জিডি নিয়েছে সাংবাদিকের বিপক্ষে। নতুন করে হামলা নিউজ২৪ টিভির সাংবাদিক ও ক্যামরা ম্যানের ওপর।’
ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছে, পুলিশ হামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ‘মাস্তান’ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করেছে। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় এই জিডির সূত্র ধরে ওই সাংবাদিক যে হয়রানির শিকার হবেন না- তার গ্যারান্টি তো কোথাও নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিপীড়নের শিকার হলে, হয়রানির শিকার হলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের উদ্বিগ্ন হবারই কথা। নঈম নিজামও হয়েছেন। কিন্তু আক্রান্ত কর্মী আইনের সহায়তা পাচ্ছে না- সেটা দেখে তিনি হতাশাবোধ করেছেন। তারই প্রকাশ ঘটাতে তিনি সাধারণ নাগরিকদের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন,’ সবাই জানে কোনো হামলার বিচার হয় না। তাই কার কাছে বিচার চাইবো?’
দীর্ঘ দিনের পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে, একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে নঈম নিজাম অবশ্যই প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাকেই যদি সন্ত্রাসের শিকার হ্ওয়া নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীর আইনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে এভাবে হতাশা প্রকাশ করতে হয়- সেটি রাষ্ট্রের, সরকারের চরিত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয় না। দেশের আইনের শাসনকে, নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আর সাধারণ জনগোষ্ঠীকে আরো বেশি আতঙ্কগ্রস্থ করে তোলে।
সবচেয়ে ক্ষতি যেটা হয়- সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোতে, সংবাদকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। রাষ্ট্র যদি সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে রাখতে চায় তাহলে নঈম নিজামের এই প্রশ্নকে তারা সহজেই উপেক্ষা করতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্র, সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়- তাহলে অবশ্যই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসবেন। ফেসুবক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]