• প্রচ্ছদ » » বঙ্গবন্ধু : জীবনের বিয়োগান্তক সমাপ্তি


বঙ্গবন্ধু : জীবনের বিয়োগান্তক সমাপ্তি

আমাদের নতুন সময় : 13/02/2020

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

পচাত্তরের ১৫ আগস্ট ভোরবেলা আনুমানিক ৫:২২ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর কিছু পাকিস্তানমনস্ক সদস্য। দুটি কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান বিদেশে থাকার কারণে। সেদিন সর্বমোট হত্যা করা হয়েছিলো ২৬ জনকে। সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্যকে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে। লক্ষ্য ছিলো মিনি পাকিস্তান বানাবার। ’৭৫ থেকে ’৯৬ পর্যন্ত ইতিহাস তাই বলে। এই সময়ের দুটো প্রবণতা দৃশ্যমান ছিলো : বাংলাদেশের পাকিস্তানিকরণ ও রাজাকারায়ণ। প্রত্যক্ষ খুনিদের বিচার হয়েছে; রায় আংশিক কার্যকর হয়েছে। কারণ ৬ জন খুনি পলাতক। বিচার-ও তো আংশিক হয়েছে। কারণ ষড়যন্ত্রকারী দেশি-বিদেশি খলনায়করা এখনো সাধারণ মানুষের অজানা। প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন, যার প্রতিবেদন শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা, এবং পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া চালু করা।
তুলনীয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি দৃষ্টি ফেরানো যেতে পারে। ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের পর সেপ্টেম্বর মাসে ইংরেজ সৈনিক লে. হডসন বাহাদুর শাহ-র চার রাজপুত্রকে একসঙ্গে হত্যা করে। কারণ তার ধারণা ছিলো এরা ইংরেজ হন্তারক; যা পরে প্রমাণিত হয়নি। এই পৈশাচিক হত্যাকাÐ সম্পর্কে ইংরেজ ইতিহাসবিদ ম্যালেসন লিখেছিলেন, “ধ সড়ৎব নৎঁঃধষ, ধ সড়ৎব ঁহহবপবংংধৎু ড়ঁঃৎধমব ধিং হবাবৎ পড়সসরঃঃবফ. ওঃ ধিং ধ নষঁহফবৎ ধং বিষষ ধং ধ পৎরসব.” চার জনকে হত্যা করার জন্য এমন মন্তব্য; তাহলে ২৬ জনকে হত্যা করার জন্য কেমন মন্তব্য হওয়া উচিত তা অনুমেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দ্রষ্টা ও ¯্রষ্টা। এস. ওয়াজেদ আলী ১৯৪৩-এ প্রকাশিত ভবিষ্যতের বাঙালি গ্রন্থে এই বাংলায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিলেন, যেখানে ধর্ম রাষ্ট্র থেকে পৃথক থাকবে। কারণ ধর্ম রাজনীতি ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে তা হয় ব্যবসার হাতিয়ার; আর তা হলে ধর্মের মৃত্যু অবধারিত। এস. ওয়াজেদ আলীর একান্ত আশা ছিলো, ভবিষ্যতে কোনো এক বাঙালি মহানায়ক এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে নেতৃত্ব দেবেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এস. ওয়াজেদ আলীর এই কল্পনা রূপায়িত হয়েছিলো বটে। বঙ্গবন্ধুর একটি প্রিয় গান ছিলো ‘আমার সাধ না মিটিলো, আশা না পূরিলো।’ স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের মধ্য দিয়ে তার সাধ মিটেছিলো; সেই স্বীকারোক্তি তার ১০ জানুয়ারির ভাষণের শুরুতেই আছে। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। ঘাতকের বুলেট তার জীবন কেড়ে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার আশা অপূর্ণ করে দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম দুটোই অসমাপ্ত। লেখক : ইতিহাসবিদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]