• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ডলি বেগম কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাংলাদেশে থেকে যাওয়া টাকা চোরদের শায়েস্তা করতে মেরুদÐ সোজা করে করে দাঁড়িয়েছেন তিনি


বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ডলি বেগম কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাংলাদেশে থেকে যাওয়া টাকা চোরদের শায়েস্তা করতে মেরুদÐ সোজা করে করে দাঁড়িয়েছেন তিনি

আমাদের নতুন সময় : 17/02/2020

মঞ্জুরে খোদা টরিক

এই যে মেয়েটার ছবি দেখছেন। তার নাম ডলি। ডলি বেগম। নামে ও চেহারায় নিখাদ এ বাঙালি মেয়েটা অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য (গচচ), মানে মেম্বার অব দি প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই শুকনো শ্যামলা মেয়েটি টাকাচোরদের শায়েস্তা করতে মেরুদÐ সোজা করে, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কানাডার গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ অন্টারিওর সংসদে এনডিপি প্রধান বিরোধীদল। ডলির দল এনডিপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাংকের টাকা মেরে আসা চোরদের শায়েস্তা করতে সংসদে আলাচনা করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে পালিয়ে আসা এ সব লুটেরারা কানাডায় থাকতে পারবে কিনা? যদি প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের আইনের কোনো ফাঁক-ফোকর থাকে সেগুলো নিয়ে বাৎচিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনটাই হবে সে আলোচনার বিষয়। তার মানে টাকাচোরদের কাহিনি কানাডার প্রাদেশিক পার্লামেন্টে উঠছে। কানাডায় ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রথম বাংলাদেশি মেয়ে ডলির মাধ্যমেই ঘটতে যাচ্ছে আরেকটি যুগান্তকারী ঘটনা। সামাজিক এ আন্দোলন গড়াতে চলেছে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারায়। এটা আমাদের আন্দোলনের আরেক ধাপ অগ্রগতি। তাহলে কি হলো? আমরা যে রাস্তায় বরফের উপর দাঁড়িয়ে লুটেরাদের না বলেছি, সমাবেশ করেছি, এখন তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদেশিক সরকারের কানে যাচ্ছে। কিন্তু যারা বলেছিলেন, এগুলো করে কিছুই হবে না এবং আজও যারা দ্বিধাদ্ব›দ্ব, বিভ্রান্তি-বিভক্তি ও অপপ্রচারে আছেন, তারা কানাডায় গড়ে উঠা ইতিহাসের এই গৌরব থেকে বঞ্চিত হলেন, ছিটকে পড়লেন।
লুটেরাদের তো দুইকান কাটা লজ্জাহীন ইতর। নিজ দেশের কন্যাসম এক মেয়ে এসব বুড়ো চোরদের বিরুদ্ধে সংসদে অভিযোগ আনবে, শায়েস্তার কথা বলবে, তারপরও তারা বেঁচে থাকবে? আমি ভাবছি ডলির কথা, তার কেমন লাগবে মাতৃভ‚মির এ সব চোরদের নিয়ে কথা বলতে? নিজেকে কি একটু ছোট মনে হবে? মনে হলেও তথাকথিত আত্মসম্মানের কথা বাদ দিয়ে ডলি আত্মমর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতারিত-বঞ্চিত মানুষের স্বার্থের পক্ষে কাজ করবেন। বিশ্বের বাঙালি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখবে ডলির দেশাত্মবোধ ও দায়িত্ববোধ। বিভিন্ন দেশে বাঙালি রাজনীতিক আছেন। ইংল্যান্ডে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছেন। সে সব দেশেও টাকা পাচার হচ্ছে, লুটেরাদের অবস্থান আছে কিন্তু তাদের এমন বিলের কথা, ভাবনার কথা শুনিনি। ডলি তৈরি করতে যাচ্ছে ভিনদেশে বাঙালির স্বার্থের পক্ষে এক অনুকরণীয় নজির। এ সব লুটেরাদের প্রশ্নে নীরব থাকলেই তার নির্বাচনী তহবিলে বড় অঙ্ক চলে আসতো, কিন্তু সে কথা সে কল্পনাও করেনি। কানাডার মূলধারার একজন সম্ভাবনাময় তরুণ রাজনীতিক হিসেবে তার জন্য বিষয়টি স্পর্শকাতর হলেও তিনি তার পিতৃভ‚মির স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে খুব আলোকিত মানুষের ফেরিওয়ালার কথা মনে হয়। ইউরোপ-আমেরিকার অভিবাসিরা দেশে টাকা না পাঠানোয় তিনি তাদের অমানুষ বলে গালি দেন। তাদের পাসপোর্ট বাতিল, প্রবাসী করের পরামর্শ দেন। কিন্তু দেশের লুটপাট, অনিয়ম, অনাচারে তিনি নীরব। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা লুটেরাদের পাচারে কোনো কথা নেই। বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের একহাত, কিন্তু দেশের মাটিতে নিশ্চুপ। বড়ই অদ্ভুত সে আলোর রশ্মি যা প্রদীপের পাদদেশেই পৌঁছায় না। আন্দোলনের শুরুতে লিখেছিলাম কানাডায় লুটেরাদের শান্তির জীবন হবে ফেরারি। এখন তাদের ঘাম ছুটছে, সামনে দুর্দিন। এখানে থাকলেও তাদের জীবন এখন স্বস্তির নয়। সহসাই তাদের কুকীর্তি জানবে এ দেশের জনগণ। লুটেরা বিরোধী সংগ্রামে ডলির নাম ইতিহাসে আলাদা হয়েই থাকবে। তোমাকে অভিবাদন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]