• প্রচ্ছদ » » লন্ডনে ‘চা’ এবং বাংলা বর্ণমালা


লন্ডনে ‘চা’ এবং বাংলা বর্ণমালা

আমাদের নতুন সময় : 17/02/2020

লায়লা খন্দকার : ‘চা’Ñ এই শব্দটি দেখে আবেগে আক্রান্ত হওয়ার কিছু আছে কী? আছেÑ যদি তা হয় এমন স্থানে যেখানে বাংলার দেখা পাওয়াটা অপ্রত্যাশিত। তাহলে ব্যাপারটা খুলেই বলি। লন্ডনের কেন্দ্রে কভেন্ট গার্ডেন এলাকায় একটি দোকানের সামনে ইংরেজিতে ‘বাংলাদেশ’ এবং ‘টিটুলিয়া’ লেখা দেখে দাঁড়িয়ে যাই। এককোণে বাংলায় ঝুলছে ‘চা’। এরপর ভেতরে যেতেই হলো। দু’জন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানলাম যে, এখানে বিক্রি হয় নানা ধরনের অর্গানিক চা। যা আসে বাংলাদেশের তেঁতুলিয়ার বাগান থেকে। ছোট কিন্তু ছিমছাম বসার ব্যবস্থা, আবার কেউ চাইলে চা পাতা কিনতেও পারেন। সবচেয়ে ভালো লাগলো চায়ের নামকরণ এবং দোকানের সজ্জায় বাংলা বর্ণমালার ব্যবহার দেখে। দেয়ালগুলো সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাত্র দিয়েÑ যার ডিজাইনে আছে মূলত বাংলা অক্ষর। কিন্তু তা এসেছে চায়ের নাম থেকে। যেমন আদা চায়ের জন্য ‘আ’। সবুজ চা, লেবু চা, উলং চা বোঝাতে যথাক্রমে ‘আ’, ‘লে’ এবং ‘উ’। মনে হলো আমি যেন বাংলা ভাষার মাঝে আছি। পূর্ব লন্ডনে প্রচুর বাংলাদেশির বাস। সেখানে রাস্তা, দোকান, রেস্তোরাঁর সামনে বাংলায় লেখা দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু কভেন্ট গার্ডেনে এমন হঠাৎ করে বাংলার দর্শন পাবো বলে ভাবিনি। যখন ‘চা’য়ের সঙ্গে দেখা তখন আমি যাচ্ছিলাম এক কানাডিয়ান বন্ধুর সঙ্গে তাইওয়ানিজ এক রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে। আড্ডা দিতে দিতে বাংলাদেশি চায়ের দোকানের কথা জানাই। মোবাইল ফোনে তোলা বাংলা বর্ণমালার ছবি দেখিয়ে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের গল্প করি। চলে আসে বাংলা সাহিত্য আর ফেব্রæয়ারি মাসজুড়ে বইমেলার কথা। আরও বলি যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীজটা রোপিত হয়েছিলো মাতৃভাষা নিয়ে বাঙালিদের অধিকার অর্জনের সংগ্রামের সময়ই। দুপুরের খাবার শেষ করেই আমরা ‘চা’তে চলে যাই। বসার স্থানের পাশেই শেলফজুড়ে বই। যে কেউ বসে পড়তে পারেন। সুচিন্তিতভাবে বিশ্বসাহিত্য থেকে বাছাই করা হয়েছে বইয়ের সংগ্রহ। দোকানজুড়ে বাংলা বর্ণমালা দেখে আমার বন্ধু জানায়, আমি যদি তাকে না বলতাম তাহলে এগুলোকে সে শুধু শিল্পকর্ম হিসেবেই দেখতো। বাংলা বর্ণমালা যে ‘সুন্দর’ তা আমি বিদেশিদের কাছে আগেও শুনেছি।
লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেনে বাংলাদেশ থেকে আসা চা খেতে গিয়ে গর্ব হচ্ছিলো। এর বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠাতাদের ভাবনার প্রশংসা করতেই হয়। যেভাবে তারা বাংলা ভাষার ব্যবহার করেছেন তা যেকোনো বাঙালির মনে দাগ কাটবে। যদি দেশ স্বাধীন না হতো তাহলে কী সম্ভব হতো সারাবিশ্বে বাংলাদেশিদের ছড়িয়ে পড়া এবং নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা? ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অনুভব করলাম। মনে মনে ঋণ স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা জানালাম তাদের প্রতি। যেখানেই থাকি না কেন ‘আমি কি ভুলিতে পারি’ এই আত্মত্যাগের ইতিহাস? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]