• প্রচ্ছদ » » ‘ভাষাপ্রেমি’ জাতি এবং ইতিহাস আতঙ্ক


‘ভাষাপ্রেমি’ জাতি এবং ইতিহাস আতঙ্ক

আমাদের নতুন সময় : 26/02/2020

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

১। অলি আহাদ : ভাষার মাস যাই যাই করছে, অথচ যাকে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়, সেই মানুষটিকে নিয়ে ভাষার মাসে কোনো টিভিতে এখনো কোনো আলোচনাই হলো না। আমি অন্তত শুনিনি। আলোচকরা তার নামই স্মরণে আনলেন না। টিভিগুলো ওপথে হাঁটলোই না।
২। আব্দুল লতিফ : ভাষার মাস যাই যাই করছে অথচ তাকে নিয়ে কোনো আলোচনাই হলো না। যিনি ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত অমর সঙ্গীতগুলোর অধিকাংশের সুরকার। ‘ওরা আমার মায়ের ভাষা কাইড়া নিবার চায়,ওরা কথায় কথায় শিকল পড়ায় আমার হাতে পায়’ গানটিসহ ভাষা আন্দোলন নিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক কালজয়ী গানের রচয়িতা আব্দুল লতিফ। এমনকি আবদুল গাফফার চৌধুরির লেখা, শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুরের কালজয়ী অমর গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি,আমি কী ভুলিতে পারি’র প্রথম সুরকারও তিনিই ছিলেন ।
৩। আলোচনায় আসেননি, আসলেও ভাসা ভাসা দুএক বাক্যে এসেছেন, ভাষা সৈনিক গাজীউল হক, সামসুল হক, প্রিন্সপাল আবুল কাশেম, আব্দুল মতিন, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ রচয়িতা, ভাষা সৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীসহ নক্ষত্রের মতো আরও কিছু মানুষ। ৪। উচ্চারিত হয়নি ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তমুদ্দুন মজলিশের নাম।
সারাবছর তাদের নাম কেউ নেবে না এটা নিয়তি নির্ধারিত। তাই বলে ভাষার মাসেও এদের আড়ালে ফেলে রাখা হবে, এড়িয়ে চলা হবে। আর সুযোগ পেলেই বলা হবে নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, ইতিহাসকে শুদ্ধ করতে হবে, ইতিহাস বিকৃতি রোধ করতে হবে, একুশের চেতনায় জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে ইত্যাদি। ‘ভাষাপ্রেমি’ জাতি হিসেবে নিজেদের এতো ছোট না করলেও চলে। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে, রাজনীতি, কুটচালে ইতিহাস সাময়িক বিভ্রান্ত হয়, আড়ালে পড়ে কিন্তু বিলীন হয় না, বদলে যায় না। মিডিয়ার কাছে ভাষার মাস মানে ‘একুশের বইমেলা’ আর কিছু না। বিশ্বাস না হলে একুশ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মোট সময় মাপুন, দেখবেন বইমেলার পেছনে গেছে ১০ ভাগ, বাকি ছয়ভাগ সময় একুশকেন্দ্রিক নাটক, গান, টকশোতে। হয় এরা ইতিহাস বিস্মৃত, নয়তো এরা ইতিহাস আতঙ্কে ভুগে। রি- পোস্ট।। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]