• প্রচ্ছদ » » আমাদের নতুন সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ
    ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ‘একুশে পদক’ চালু হয়েছে, সেই পদকপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে গৌরবের, এ গৌরব দেশের সব সাংবাদিকদের। সারাজীবনের শ্রম, নিষ্ঠা ও সততার জন্য পুরস্কার পেয়েছি। এই অর্জন শুধু আমার নয়, গণমাধ্যমের সবার


আমাদের নতুন সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ
ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ‘একুশে পদক’ চালু হয়েছে, সেই পদকপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে গৌরবের, এ গৌরব দেশের সব সাংবাদিকদের। সারাজীবনের শ্রম, নিষ্ঠা ও সততার জন্য পুরস্কার পেয়েছি। এই অর্জন শুধু আমার নয়, গণমাধ্যমের সবার

আমাদের নতুন সময় : 26/02/2020

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশিক রহমান

পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়েই আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। ভাষা আন্দোলনের স্মরণে একুশ পদক চালু হয়েছে। সে পদক প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে গৌরবের। এ গৌরব দেশের সব সাংবাদিকদের। সারাজীবনের শ্রম, নিষ্ঠা ও সততার জন্য এ পুরস্কার পেয়েছি। এই অর্জন শুধু আমার নয়, গণমাধ্যমের সবার।
২. একুশে পদকপ্রাপ্তি সাংবাদিকদের এ পেশায় আসতে ও ভালো সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করবে বলেও মনে করেন জাফর ওয়াজেদ। তিনি বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশের যুগে সাংবাদিকদের অনেক অবহেলা ও দুর্বলতা কেটে গেছে। আমার এই পুরস্কারপ্রাপ্তি একজন পেশাদার সাংবাদিকেরই প্রাপ্তি। যারা পেশাদার সাংবাদিক, তাদের জন্য এ পুরস্কার অত্যন্ত গৌরবের। আনন্দের। ভালোলাগার। আমার এ পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের দিগন্ত আরও উন্মোচিত হলো। আমার পুরস্কারপ্রাপ্তিতে পেশাদার সাংবাদিকদের উৎসাহ ও কাজের গতি বেড়ে যাবে। তারা আরও বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করবেন। অনেক বেশি ভালো ভালো রিপোর্টিং করতে পারবেন।
জাফর ওয়াজেদ বলেন, আমি যে যুগে সাংবাদিকতা শুরু করেছিলাম তা ছিলো অনেক কষ্টকর। অনেক সমস্যা সঙ্কুল। সমস্যাসঙ্কুল এই অর্থে যে, তথ্য ও প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা ছিলো না তখন, কিন্তু আজকে সাংবাদিকরা সে সুযোগগুলো পাচ্ছেন। টেলিফোন যোগাযোগ ছিলো না বললেই চলে, তথ্য অধিকারের কোনো সুযোগই ছিলো না। অনেক কষ্ট করে লিখতে হতো। বিশেষ করে একটা বিশেষ সংবাদ লিখতে হলে অনেক বেশি সময় লাগতো বক্তব্য সংগ্রহ করতে। এখন তথ্য অধিকার আইন, সম্প্রচার কমিশন, সম্প্রচার আইন, গণমাধ্যম কর্মী আইন হতে যাচ্ছে। আমি মনে করি, এসব আইন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও মসৃণ করবে।
৩. পদক দেওয়ার একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকে। সে অনুযায়ী নাম প্রস্তাব পাঠানো হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা উপজেলা পর্যায় থেকে। কারণ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ফরম পাঠায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত। সেখান থেকে প্রস্তাব আসে। প্রস্তাবগুলো বাছাইয়ের পর পুরস্কার দেওয়া হয়। অতীতে সামরিক জান্তার যুগে আমরা দেখেছি, তারা স্বাধীনতা ও সমাজবিরোধী লোকজনকে পুরস্কার দিয়েছে। স্বাধীনতা ও একুশকে হেয় করার জন্যই এ কাজটা করা হতো। সেই বিষয়গুলো বিগত এগারো বছরে অনেকটা কেটে গেছে। এবার পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেখুন, যোগ্য মানুষেরাই তা পেয়েছেন।
৪. আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক। একজন রিপোর্টার ছিলাম, শেষদিকে এসে একজন কলামিস্ট হয়েছি। একজন সাংবাদিক বা রিপোর্টারের প্রতিটি বিষয়েই ধারণা থাকা উচিত। কারণ পড়াশোনা না করলে তার শব্দভাÐার বাড়বে না এবং যেকোনো বিষয়কে সে তুলে ধরতে পারবে না। সাংবাদিকতা করতে হলে আপনাকে পরিশ্রমী হতেই হবে। পরিশ্রমের বিকল্প নেই এখানে। শুধু পরিশ্রম করলেই তো হবে না, জানাশোনার ব্যাপারটা তো রয়েছেই। আমি যে বিষয়ে লিখবো, যে বিষয়ে কাজ করবো, এ বিষয়ে যদি আমার ভালো ধারণা না থাকে, তাহলে আমার রিপোর্টটা উন্নতমানের হবে না বা আমার কলামটি উপাদেয় হবে না।
আমি আমার সারাজীবন পড়াশোনা করেছি। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য সব মাধ্যম সম্পর্কে আমার সম্যক ধারণা নিয়েছি, যাতে আমি কোথাও না আটকাই। ফুটবল খেলার মাঠ, ক্রিকেট মাঠ, সংস্কৃতির মাঠ, মারদাঙ্গা রাজনীতির মাঠÑ সব বিষয়ই আমাকে নখদর্পণে রাখতে হয়েছে। সব মাধ্যমের সঙ্গে ছিলাম বলেই দেশ-দুনিয়া সম্পর্কে আমার একটা ধারণা তৈরি হয়েছিলো।
৫. এখন তো আর শুধু প্রিন্ট মিডিয়াই নয়, ভিজুয়্যাল মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়াও এসেছে। পরস্পর পরস্পরের পরিপূরকে পরিণত হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে ভিজুয়্যাল মিডিয়ার সম্মিলন ঘটেছে। আমার তো মনে হয়, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমাদের যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়েছে তার অধিকাংশই হচ্ছে কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে। এখন সেটা নেই। এখন একজন সাংবাদিক বা রিপোর্টার ইচ্ছা করলে মুঠোফোনে যে কোনো বিষয়ে যে কারও বক্তব্য নিতে পারেন। কিংবা তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী যেকোনো তথ্য পেতে পারছি। আগে তার সুযোগ ছিলো না। আগে প্রশাসনিক কোনো তথ্য পেতে হলে আগে কোনো একটা সোর্স তৈরি করতে হতো, সোর্সের মাধ্যমে তথ্য নিতে হতো। অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যেতো না। কর্মকর্তারা বক্তব্য দিতে রাজি হতেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের জন্য অনেকগুলো কাজ করেছেন। এর মধ্যে একটা হচ্ছে তথ্য অধিকার আইন। তথ্য অধিকার আইনের কারণে আমরা এখন অনেক তথ্য পেয়ে যাচ্ছি এবং সমসাময়িক ও সামাজিক অনেক বিষয়েই লেখা যাচ্ছে এখন।
৬. সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এখন অনেকেই সাংবাদিকতায় আসছেন। তারা অনেক কিছু জানেন এবং পড়েন। তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশের কারণে তাদের জানাশোনার পরিসর আমাদের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। সে কারণেই আমি আশাবাদী, বর্তমানে বা আগামীতে যারা সাংবাদিকতায় আসবেন, যারা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন, দায়িত্ব হিসেবে নিচ্ছেন, তারা অনেক দূর যাবেন। সাফল্যও পাবেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]