• প্রচ্ছদ » » সারল্য ও আত্মবিশ্বাস একটা জাতির অ্যাসেট হওয়া সম্ভব


সারল্য ও আত্মবিশ্বাস একটা জাতির অ্যাসেট হওয়া সম্ভব

আমাদের নতুন সময় : 22/03/2020

রিফাত হাসান : একটা ভিডিও দেখলাম, চট্টগ্রামের। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। এক সবজির দোকানি মহিলা কইতেছেন, ‘বাইক্যা কথার আর কাজ পাইতেছেন না। কীসের করোনা ভাইরাস, আমি নিজেই করোনা’। আর একজন ‘তেল মবিল, কেরোসিন পেট্রোল ডিজেল সব ঢুকে যাচ্ছে আমার শরীরে, এখানে করোনা আর কী করবে’। সে মোটর মেকানিক, ২৪/২৫ বছর বয়স হবে। আর একজন বয়স ত্রিশ হবে, পথচারী, ‘আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন, এখানে করোনা কোত্থেকে আসবে। করোনা আসবে ইতালি আমেরিকা চীনে, এখানে কোনো করোনাটরোনা হওয়ার চান্স নেই’। মধ্যবয়স্ক একজন, চায়ের দোকানে বইসা চা খেতে খেতে, ‘আমাদের ইনশাআল্লাহ কোনো ডরভয় নেই। বারো আউলিয়ার জায়গা এইটা। মানুষ এবাদতি আছে। ইনশাআল্লাহ বড় ধরনের অসুখ আসবে না’। আরেকজন, বুড়ো রিকশাওয়ালা, বললেন, ‘রোদে পুড়ি, বৃষ্টিতে ভিজি। আমরা করোনারে ভয় করি না’। এক বৃদ্ধ এমন নির্ভরতার সঙ্গে বলছেন, ‘করোনা আমাদের কাছে আল্লাহর হুকুমে আসবে না। ধুলাবালি খেয়ে আমরা জীবন বাঁচাই। কাজ করে খাই। দেশে আল্লায় দিলে করোনা আসবে না’। আরেক সিএনজি ড্রাইভার, বলছেন, ‘আমরা রোদে পুড়ে কাজ করে খাচ্ছি, আমাদের করোনার ভয় কিসের’। আরেকটা, ছাত্র বোধহয় কমবয়সী বলছেন, ‘আমরা ধুলাবালি খেয়ে বড় হইছি, আমাদের কোরোনার ভয় কিসের। যারা এসি রুমে থাকে তাদের বড় ডর করোনার’। আরেকজন রুটির কারিগর, বলছে, ‘এখানে সব পুড়ে যাচ্ছি, কিসের করোনা’। আরেকজন চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে বললেন, ‘মক্কায় তওয়াফ, নামাজ বন্ধ হইছে। আমরা তো এখানে রাস্তায় গামছা বিছিয়ে নামাজ পড়ি। আমাদের করোনার ভয় নেই ইনশাআল্লাহ’। আরেকজন পথচারী, বয়স ৩৫-এর মতো, ‘ভয় আছে ভাই যেগুলো উন্নত রাষ্ট্র, যেমন ইতালি, ফ্রান্স, কানাডা, ইরান, এ সব দেশে। কারণ তারা এসি নিয়ে পড়ে থাকে সারাক্ষণ। আপনি দেখেন, গরিব কোনো রাষ্ট্রে করোনার ভয় নেই। ঘানা, বার্মা, কেনিয়া এই ধরনের কোনো রাষ্ট্র দেখছেন? করোনার কোনো প্রভাবই নেই’। আরেকজন বললেন, ‘করোনা গরিব মানুষের নয়, ধনী মানুষের রোগ। আমাদের হবে না’।যতোদূর দেখলাম এখানে মানুষের এতো বিচিত্র ভাব ও হেল্থ ফিলসফি পাবেন, যার প্রত্যেকটা নিয়ে আলাদা গবেষণা করা যায়, কিন্তু এই ভাবগুলোর প্রত্যেকটাকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি ডিজাইন করতে হবে। সে হেল্থ বলেন আর পলিটিকস বলেন। শুধু দুর্যোগ মোকাবেলা নয়, যারা নয়া পলিটিকস নির্মাণ করতে চান, তাদের সাধারণ পিপলের এই ভাবটি বুইঝা মাঠে নামতে হবে। এইটাকে ইগনোরেন্স বলতে পারবেন না, আত্মবিশ্বাস ও ধর্মীয় সারল্য প্রবল। এই সারল্য ও আত্মবিশ্বাস একটা জাতির অ্যাসেট হওয়া সম্ভব। দেখেন এখানে গ্রেটার ইন্ডিয়া মডেলের গোমূত্র পান ধরনের কোনো ধর্মান্ধতা নেই। কমন সেন্স, সরলতা ও সততা, যেটি করোনার ক্ষেত্রে কিছুটা ভুলবোধ হচ্ছে মাত্র। এই সরলতা ও আত্মবিশ্বাসের যে শক্তি, তাকে করোনা মোকাবেলায়ও কাজে লাগানো সম্ভব। যদি তা না বুঝে থাকেন, আপনিই মহামূর্খ। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]