• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » আসামি না হয়েও বছরের পর বছর কারাবাস আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে, নথি জালিয়াতি করে জামিন


আসামি না হয়েও বছরের পর বছর কারাবাস আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে, নথি জালিয়াতি করে জামিন

আমাদের নতুন সময় : 23/03/2020

 

নূর মোহাম্মদ : [২] বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্ঠুর অন্যায় অবিচার চলে ।
[৩] সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেকের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২৬টিতে জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। চিঠি পাওয়ার পর দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে জাহালম বলেছিলেন, তিনি সালেক নন। কিন্তু নিরীহ পাটকলশ্রমিক জাহালমের কথা দুদকের কেউ বিশ্বাস করেননি। এরপর ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের এসব মামলায় জাহালম গ্রেপ্তার হন। বিনা অপরাধে জেলখাটার বিষয়টি গণ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন আদালত।
[৪] তিনি মাস হাজত খেটে ১৭ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার আচলকোট গ্রামের বাবলু শেখ (৫৫)। শ্রী বাবু নামের এক আসামির পরিবর্তে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করলে এই ভোগান্তি পোহাতে হয়। ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাবলু শেখকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
[৫] রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা মাদকের এক মামলায় আসামি ছিলেন শুক্কুর আলী। তবে পুলিশ গ্রেফতার করে বসে জনৈক শুক্কুর শাহকে। প্রায় ১১ মাস পর বাদী তাকে নির্দোষ বললে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে মুক্তি দেন।
[৬] মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শাহাবুদ্দিন বিহারির পরিবর্তে আসামি হিসেবে ৩ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন নির্দোষ আরমান (৩৬)। বিষয়টি নিয়ে গণ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পর রিট করা হলে ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল তার মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
[৭] ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়াভাটা গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ওরফে বাবু ৫৫০ গ্রাম হেরোইনসহ ধরা পড়েন। এরপর রাজশাহীর দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালে কয়েক দফা জামিনের আবেদন নাকচ হয়। পরে জামিন পেতে হেরোইনের পরিমাণ ৫৫০ গ্রামের পরিবর্তে ৪৮ গ্রাম দেখিয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়া হয়। বিষয়টি ধরা পড়লে তার আইনজীবী সালাহউদ্দিন বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয় ২০১৯ সালের ২ মে।
[৮] মামলার এফআইআর জালিয়াতি করে হত্যা মামলার আসামিকে হাইকোর্ট থেকে জামিন করানোর অভিযোগে খলিল উদ্দিন (২২) ও বেলাল হোসেন (২৪) দুই মুহুরীকে গত ৫ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। এর আগে তারা নিম্ন আদালতের কাগজপত্র জালিয়াতি করে ৫-৭টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
[৯] রাজবাড়ীর একটি অস্ত্র মামলায় আসামি ছিল একজন (ইয়ার আলী)। জালিয়াতি করে যখন কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে তখন ওই মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে দুজন। এরপর জাল কাগজপত্রে ইয়ার আলীর হাতে অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে দেখানো হয়। বিচারক এটা দেখে ইয়ার আলীকে ছয় মাসের জামিন দেন।
জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে প্রতারক চক্রের দেলোয়ার হোসেন, এবিএম রায়হান ও মো. শামীম রেজাকে রংপুরে অভিযান চালিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে সিআইডি। মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগ পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নতুনভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট থেকে হত্যা মামলার আসামিকে জামিন করানো হয়। পরে হাইকোর্ট ওই আসামির জামিন বাতিল করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন।
[১০] রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের একটি মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালত কর্তৃক নোয়াখালীর মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যক্রম ১০ মার্চ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। জহির উদ্দিনের রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। তার আইনজীবী শিশির মনির বলেন, পরোয়ানা জারি হওয়া জহির প্রকৃত আসামি নয়।
[১১] হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা দুই মামলায় প্রতারণা করে জামিন নেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়ায় দুই আসামিসহ তদবিরকারকের বিরুদ্ধে মামলা করতে শাহবাগ থানাকে ১১ মার্চ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আসামিদের আইনজীবী জুলফিকার আলীকে শোকজ করা হয়েছে।
দুই মামলায় ১৫ আসামির মধ্যে জামাল উদ্দিন ও কামাল উদ্দিন বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ থেকে দুই সপ্তাহের জামিন নেন। ওই সময় পর তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। ওই মামলার অন্য আসামিরা একই সময়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ থেকে দুই সপ্তাহের জামিন নেন। ওই সময় পর তাদেরও নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তবে জামাল ও কামাল আদেশ অনুসারে নি¤œ আদালতে হাজির না হয়ে তথ্য গোপন করে পুনরায় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চে আগাম জামিনের আবেদন জানান। শুনানি করতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
[১২] চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা পুলিশের ২২ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করে। এই মামলার আসামি রফিকের জামিন শুনানিতে বলা হয় একই মামলার আসামি সেলিম উদ্দিন জামিনে রয়েছেন। তবে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ওই নথিতে স্বাক্ষরকারী চার কর্মকর্তাকে তলব করেন। এরপর ওই কর্মকর্তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে সেলিমের জামিন নথিতে যে স্বাক্ষর রয়েছে তা তাদের নয় বলে উল্লেখ করেন। আদেশে যে আইনজীবীর নাম দেখানো হয়েছে, সে নামে কোনো আইনজীবীরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর আদালত সেলিম কীভাবে জামিন পেলেন এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা তদন্ত করতে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি সিআইডিকে নির্দেশ দেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]