• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » হোম কোয়ারেন্টাইনে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যাম!


হোম কোয়ারেন্টাইনে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যাম!

আমাদের নতুন সময় : 23/03/2020


সাকিব এ চৌধুরী, হুবেই, চীন থেকে

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি চীনে করোনার প্রকোপ হ্রাসের একমাত্র ওষুধ ছিলো হোম কোয়ারেন্টাইন। কিন্তু বাংলাদেশের এতো সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে কী হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা সম্ভব? সম্ভব খাদ্যের নিশ্চয়তা যদি মানুষ পায় তাহলে অবশ্যই মানুষ ঘরে ঢুকে পড়বে। তবে ঘরে কতোদিন থাকতে পারবে এটা নিয়ে অনিশ্চয়তা সবার আছে। কারণ আমরা তো স্বভাবগত ও সামাজিকভাবে ঘরে দীর্ঘ সময় বসে থাকার মানুষ নই। আমরা সেই জাতি যারা কিনা দুর্ঘটনায় পা ভাঙলেও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গিয়ে পাড়ার মোড়ের দোকানে গিয়ে আড্ডা দিই আর সুস্থ স্বাভাবিক থেকে কীভাবে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী থাকবো সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। অবশ্য মৃত্যুর ভয়ের থেকে বড় ভয় দুনিয়াতে আর কিছু নেই। মৃত্যুর ভয়ে যদি সিংহভাগ মানুষ ঘরে থাকে তাহলে তো ভালোই। তবে ঘরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের গণমাধ্যামগুলো। বিশ্বাস করুন গত দুই মাস চীনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় আমার খুব বেশি একটা কষ্ট হয়নি কারণ খাদ্যের নিশ্চয়তার সঙ্গে ছিলো সময় কাটানোর যথেষ্ট উপাদান। ছিলো ইন্টারনেট যুক্ত স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও পড়াশোনা। এ সবেই কেটে যেতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সব সবার ক্ষেত্রে সহজলভ্য নয় আবার নতুন প্রজন্ম ছাড়া কেউ এগুলোতেও একটা বড় অংশ অভ্যস্তও নয়। তবে ঘরে ঘরে রয়েছে টেলিভিশন মোবাইল।
ইলেকট্রনিক টিভি চ্যানেলগুলো যদি তাদের সংগ্রহে থাকা পুরনো বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো এই দুর্যোগের সময় পুনরায় প্রচার করে তাহলে মানুষ ঘরে বসে সময় কাটানোর কিছু পাবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া তো সংবাদ প্রচার থাকছেই। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই বিজ্ঞাপনের সময় কমিয়ে আনতে হবে এবং সম্ভব হলে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে। এফএম রেডিওগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা তবে বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন স্টেশনগুলোর অনুষ্ঠান প্রচারের সময় কয়েকগুণ বাড়াতে হবে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোও চলমান বিষয়ের পাশাপাশি তাদের পূর্বের বিশেষ প্রতিবেদন কিংবা ফিচার প্রতিবেদনগুলো পুনরায় ফেসবুক পেজে শেয়ার দিতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন লেখকের বই কিংবা বইয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ টাইপ করে আপলোড করা যেতে পারে। তাছাড়া প্রিন্ট পত্রিকাগুলোতো সময় কাটাতে মানুষের বিশেষ ভূমিকা রাখবেই। উপরোক্ত প্রস্তাবগুলো শুধু একজন পাঠক, দর্শক ও শ্রোতা হিসেবেই আমি মনে করি যদি বাংলাদেশে এই সময় আমি থাকতাম তাহলে অবশ্যই গণমাধ্যমের এই বিষয়গুলোর আমার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভূমিকা রাখতো।
লেখক : শিক্ষার্থী। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]