• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » করোনা মহামারীর সর্বগ্রাসী প্রভাব বাংলাদেশের সংবাদপত্রশিল্পকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে যাবে?
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে অনুরোধ সংবাদপত্র শিল্প বাঁচাতে কিছু করুন


করোনা মহামারীর সর্বগ্রাসী প্রভাব বাংলাদেশের সংবাদপত্রশিল্পকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে যাবে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে অনুরোধ সংবাদপত্র শিল্প বাঁচাতে কিছু করুন

আমাদের নতুন সময় : 27/03/2020

নাঈমুল ইসলাম খান : ১. ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সকল অফিস আদালত বন্ধ থাকায় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন নেই, পত্রিকার বিক্রিও অনেক কম।
২. সংবাদপত্রের বিপণন ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে পত্রিকা বিক্রি আশংকাজনকভাবে কমে গেছে। তাই প্রতিদিন খেটে খাওয়া হকারদের আয়ও শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। পত্রিকা বিক্রির কমিশনই তাদের একমাত্র আয়।
৩. আমাদের বিশ্বাস, করোনাভাইরাসের এই আগ্রাসন থেকে নিজ নিজ সংবাদকর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কৌশল সকল সংবাদপত্রই গ্রহণ করেছে। পশ্চিমা ও উন্নত দেশে আর্থিক সামর্থ্য এবং প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে সোশ্যাল ডিসট্যান্স যতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ততটা পারছি না। তারপরও, বাংলাদেশের নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকরা অত্যন্ত দৃঢ় মনোবল, অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহসের সাথে সাধারণ নাগরিকদের সকল খবর পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে নিজেদের দিনরাত নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের সকলকে আমাদের অভিবাদন।
৪. সাংবাদিকদের মার্চ মাসের বেতন এপ্রিল মাসে প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে আমাদের আশঙ্কা। এপ্রিল থেকে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হবে।
৫. এপ্রিলে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় যদি সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম এভাবে বন্ধ থাকে, তাহলে এপ্রিলের বেতন মে মাসে প্রদান করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
৬. অধিকাংশ পত্রিকাই হয়তো মে মাসে ঈদের বোনাস দিতে পারবে না।
৭. সংবাদপত্র অনেক আগে থেকেই টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া এবং বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অভাবনীয় বিস্তৃতি ও প্রসারের ফলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আসছিল। এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ পাঠকের বড় অংশ যদি এক থেকে দুই-তিনমাস পর্যন্ত নিয়মিত সংবাদপত্র ছাড়া প্রাত্যহিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যান, তাহলে স্বাভাবিকতা আসার পর যখন সংবাদপত্রগুলো আবার বাজারে আসবে, তখন পুরোনো পাঠকের অনেকেই হয়তো প্রিন্ট পত্রিকা পাঠে আর ফিরবেন না। তখন কি হবে?
৮. দুর্যোগকবলিত এই সময়ে প্রিন্ট সংবাদপত্রের অভিজ্ঞ, মেধাবী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও সংগঠনের দায়িত্ব ও করণীয় হচ্ছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে এই মুহূর্ত থেকেই গভীর ও সৃজনশীল ও সক্রিয় চিন্তাভাবনা এবং সঙ্কট উত্তরণের আশু, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান উদ্ভাবন করা। সকলের সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও চিন্তাভাবনা থেকে হয়তো সমাধানের একটি সম্মানজনক ও সর্বজনের গ্রহণযোগ্য পথ বেরিয়ে আসবে।
৯. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রদ্ধেয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে এই মুহূর্তে কয়েকটি জরুরি অনুরোধ, এগুলোর ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন সংবাদপত্রশিল্পের জন্য কল্যাণকর হবে।
ক) জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সংবাদপত্রের পুঞ্জীভূত বকেয়া বিজ্ঞাপনের বিল এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছাড়করণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আদালতের বিজ্ঞাপন, রেলওয়ের বিজ্ঞাপনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিজ্ঞাপনের বিল দীর্ঘদিন বকেয়া পড়ে রয়েছে। এখন সংবাদপত্রের এই দুঃসময় ও ক্রান্তিলগ্নে বিজ্ঞাপনের এই বকেয়া পরিশোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সরকারের আশু কর্তব্য।
খ) সরকারের তরফে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য যেমন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংবাদপত্রের ব্যয় নির্বাহ এবং বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনমতো সুদমুক্ত ব্যাংক ঋণ সহায়তা দিতে হবে। এই ঋণ প্রদানের নিয়মনীতি বা শর্তাদি সকল পক্ষের সাথে আলাপ করে আগেভাগেই তৈরি করতে হবে।
গ) জরুরি ভিত্তিতে দরিদ্র কর্মজীবী হকারদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ হকাররা একমাত্র পত্রিকা বিক্রির কমিশনের ভিত্তিতেই জীবিকা নির্বাহ করেন। হকারদের জন্য অনতিবিলম্বে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ দরকার।
ঘ) দেশে ই-টেন্ডারিং প্রচলনে সংবাদপত্র বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এই ই-টেন্ডারিং প্রচলনের পর প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খোদ সংবাদপত্র শিল্প। ই-টেন্ডারিংয়ের ফলে প্রচলিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির আকার ও সংখ্যা উভয়ই আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। আমাদের দাবি: যত শীঘ্র সম্ভব ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিগুলো অনলাইনে প্রকাশের পাশাপাশি আগের মত পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞাপন হিসেবে সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এতে ই-টেন্ডারিং আরো স্বচ্ছতা পাবে এবং সংবাদপত্র টিকে যেতে সক্ষম হবে।
ঙ) মধ্যমেয়াদে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ছয়মাসের মধ্যে পরিশোধ বাধ্যতামূলক, এই মর্মে আদেশ জারি করতে হবে।
চ) দীর্ঘমেয়াদে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি ও অনিয়ম তথা নৈরাজ্য রয়েছে , এগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাজ্ঞ,সুচিন্তিত দিক নির্দেশনা দিলে বাংলাদেশের সংবাদপত্র কেবল করোনা মোকাবেলা নয়, অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও সফল হবে ইনশাআল্লাহ। সম্পাদনা : হাসান হাফিজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]