• প্রচ্ছদ » » করোনা নয়, ‘খাদ্য সহায়তা’র অনিয়ম নিয়ে রাজনীতি করুন!


করোনা নয়, ‘খাদ্য সহায়তা’র অনিয়ম নিয়ে রাজনীতি করুন!

আমাদের নতুন সময় : 18/05/2020

মো. গোলাম সারোয়ার

বিএনপির নেতারা সমানে অভিযোগ করছেন, করোনা নিয়ে সরকার তথ্য গোপন করছে। এই কথা দেশের অনেকেই বিশ্বাসও করছেন। আমাদের প্রশ্ন হলো, করোনার ভেতরে কী এমন মানিক লুকিয়ে আছে যা সরকার গোপন করছে? করোনা কি আওয়ামী লীগের সৃষ্টি? সরকার লকডাউন দিয়েছেন, মানুষ আর মানতে পারছে না অভাবের কারণে। তবুও সরকার বিএনপির সেই টানা অবরোধের মতো লকডাউন দিয়ে পড়ে আছেন। এখন বিএনপি আসলে কী চায়? পুরো পৃথিবীতে ওষুধ নেই, এখন সরকার কী করবেন? দেশের চিকিৎসা সামর্থ্য নাজুক, এটা অবশ্য ঠিক। এখানে কি বিএনপিরও অবদান নেই? তবুও সরকার চেষ্টা তো করছেন। বিএনপির কোনো কৌশল জানা থাকলে তারা সরকার ও জনগণকে জানাক। কীভাবে মৃত্যু কমিয়ে আনা যায়? কীভাবে আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়? কীভাবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যায়? আমরা মনে করি, করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি করেন। সেখানে বহু অন্যায় হচ্ছে, সেটা বলুন। মোবাইলে সরকার টাকা দিচ্ছে, সেখানেও নাকি অন্যায় হচ্ছে, সেটা নিয়ে বলুন। সারা পৃথিবীতে জ্বালানির দাম পড়ে গেছে। সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম কেন কমাচ্ছেন না, সেটা নিয়ে প্রতিবাদ করুন। যেসব মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, তাদের বাড়ি ভাড়া সরকার দিতে পারে, সেটা নিয়ে দাবি জানান। বেসরকারি হাসপাতালগুলো কেন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে না, সেটা নিয়ে প্রতিবাদ করুন। তাতে অন্তত সরকার তটস্থ থাকবেন। তাতে অন্তত লুটেরাদের উপর সরকার অ্যাকশনে থাকতে বাধ্য থাকবেন। তাতে অন্তত দেশের মানুষের করের টাকা প্রকৃত দরিদ্রদের সাহায্যে বণ্টিত হবে।
করোনার ভেতরে এমন কোনো মানিক নেই যা দিয়ে সরকারের উপকার হবে। আমাদের সরকার কেন, পৃথিবীর কোনো সরকার চায় না, তাদের জনগণ গণহারে মারা যাক। সব রাজা বাদশায়ই চায়, প্রজারা বেঁচে থাকুক। কারণ প্রজা না থাকলে রাজারা রাজাগিরি কার উপর করবেন? খাজনার টাকা কে দেবেন? খাজনা ছাড়া বাজনা কীভাবে বাজবে? বিএনপি বহু বছর ধরে ভুল রাজনীতি করে আসছেন। সরকারের উপর যেমন মানুষের অধিকার আছে, বিরোধীদলের উপরও সে অধিকার আছে। বিএনপির দায়িত্ব এই মুহূর্তের জনগণের করের টাকা যেন সরকার ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন করে, সেজন্যে সোচ্চার থাকা। কারণ জনগণের টাকা দলমত নির্বিশেষে সব জনগণেরই কাজে ব্যবহৃত হতে হবে। এটা না করে অনবরত তোতা পাখির বোল দিলে কেউ তাতে কান দেবে না, মাথাও দেবে না। কারণ মানুষ এখন বিপদে আছেন, অভাবে আছেন। ব্যবসায়ীরা মাল কিনে মাল নিয়ে পড়ে আছেন। বেচাকেনা নেই, পুঁজি আস্ত নেই। মানুষের চাকরি নেই, ঘরে শান্তি নেই, খাবার নেই, অর্থ নেই, আশা নেই, ভরসা নেই। তোতা পাখির বোল শোনার সময় এখন মানুষের নেই। মানুষের মনের ভাষা বুঝতে না পারলে তেপান্তরের মাঠে মাঠে আরও ১৩ বছর ঘুরতে হবে। আর এদিকে লুটেরাদের লুটের সাম্রাজ্য মেঘের আড়ালে আড়ালে বাড়তেই থাকবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]