• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » করোনা ভাইরাসের চাইনিজ ভ্যাক্সিনের প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্য আশাব্যঞ্জক


করোনা ভাইরাসের চাইনিজ ভ্যাক্সিনের প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্য আশাব্যঞ্জক

আমাদের নতুন সময় : 24/05/2020

ড. আরমান রহমান : ২২ মে পৃথিবীর বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট একটা পেপার পাবলিশ করেছে। এই পেপারে তারা দেখিয়েছে করোনা ভাইরাসের চাইনিজ ভ্যাক্সিন প্রথম হিউমান ট্রাইলেই আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখাচ্ছে। মার্চের ১৬ থেকে ২৭ তারিখে উহানে তারা ১৯৫ জন মানুষের মধ্যে থেকে ১০৮ জনকে বেছে নিয়েছে এই ভ্যাক্সিন ট্রায়ালের জন্যে। তাদের মধ্যে ৫১% পুরুষ, ৪৯% মহিলা,তাদের গড় বয়স ৩৬ বছর।
তাদেরকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে কম মাত্রার ডোজ, মাঝারি মাত্রার ডোজ এবং বেশি মাত্রার ডোজে এই ভ্যাক্সিন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে: এক. এই ভ্যাক্সিন নিরাপদ কি না দুই. কত খানি ডোজ মানুষের শরীরে সহ্য হয় তিন. তাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম এই ভাইরাসের বিপরীতে কেমন রিয়াক্ট করে. সফলতার পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়েছে ৭ দিন পর্যন্ত এদের শরীরে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে কি না, ২৮ দিন পর্যন্ত দেখা হয়েছে এই ভ্যাক্সিন নিরাপদ কি না, এর পরে দেখা হয়েছে এই ভ্যাক্সিন এদের শরীরে করোনা ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম এন্টিবডি তৈরী করতে পারছে কি না. অত্যন্ত আশা ব্যাঞ্জক যে, দেখা গেছে এই ভ্যাক্সিনের জন্যে তিন গ্রূপেই ১৪ দিনে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম এন্টিবডি উল্লেখযোগ্যভাবে তৈরী হয়ে গেছে, যা ২৮ দিনের মাথায় পরিপূর্ন মাত্রায় রক্তে দেখা গেছে।ভাইরাস ইনফেক্টেড সেল ধ্বংস করে দেয়ার জন্যে যেইধরণের ‘টি সেল’ দরকার, তাও ১৪ দিনের মাথায় পরিপূর্ন মাত্রায় রক্তে এসে গেছে।
এই ফলাফল থেকে আশা করা যায় এই ভ্যাক্সিন করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে. পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসাবে তিন গ্রূপের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই ইঞ্জেকজনের জায়গায় ব্যাথা, অবসাদগ্রস্থতা, মাথা ব্যাথা, এবং হালকা থেকে মাঝারি জ্বর দেখা গেছে, কিন্তু ২৮ দিনের মধ্যে কাউকেই সিরিয়াস সাইড ইফেক্টে পড়তে দেখা যায়নি। এটি ছিল মানুষের উপরে করা প্রাথমিক পর্যায়ের ভ্যাক্সিন ট্রায়াল, এর পরে আসবে দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল যেখানে আরো অধিক সংক্ষক মানুষের উপর এই ভ্যাক্সিন পরীক্ষা করে দেখা হবে. জেনে রাখা ভাল এই ভ্যাক্সিন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে তৈরী হওয়া ভ্যাক্সিনের থেকে কিছুটা আলাদা প্রযুক্তিতে তৈরী হচ্ছে।
এখানে করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরী করার জীন মানুষের শরীরে ঢুকানোর জন্যে তারা ব্যবহার করেছে এডেনো ভাইরাস নামের একধরণের ভাইরাস, যা মানুষের শরীরে এমনিই হালকা সর্দি জ্বর তৈরী করে. তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে এই ভাইরাস কে এমন ভাবে তৈরী করেছে তা মানুষের শরীরে ঢুকে ইনফেক্ট করবে কিন্তু তাতে অসুখের কোন লক্ষণ আসবে না, এর মধ্যে তারা বসিয়ে দিয়েছে করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরী করার জীন. শরীরে ঢুকে এই ভ্যাক্সিন যখন করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরী করে, আমাদের ইমুন সিস্টেম (এন্টিবডি, টি সেল) তা চিনে রাখে, এর পরে করোনা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলেই এন্টিবডি এবং টি সেল তা নিষ্ক্রিয় এবং ধ্বংস করে দিতে পারে. লেখক একজন ডাক্তার এবং গবেষক, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড থেকে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]