• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » [১]গার্মেন্ট ও রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির অলংকার, বললেন অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন


[১]গার্মেন্ট ও রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির অলংকার, বললেন অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন

আমাদের নতুন সময় : 24/05/2020

বিশ্বজিৎ দত্ত : [২] কোভিড উত্তর ও কোভিড কালের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান খাতটি হলো কৃষি। যে বছর কৃষি খারাপ যায় সে বছর অর্থনীতিও খারাপ যায়। বিগত কয়েক বছর কৃষি উৎপাদন ভালো হয়েছে বলেই জিডিপি ৮ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে পেরেছিল। কৃষিতে দেশের কর্মসংস্থান এখনো ৫০ শতাংশের উপরে। আগামীতে কৃষিই হয়ে উঠবে অর্থনীতির প্রধান গুরুত্বপূর্ণ খাত।
[৩] কোভিড কালের প্রবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমগুলো বন্ধ হয়নি। সেখানে শ্রমিকরা কাজ করেছে। ধান কাটা হয়েছে। দোকানপাটও খোলা রয়েছে। শহরেও শুধু পরিবহন ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ৫০ শতাংশ ব্যবসা কার্যক্রম চালু রয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বাম্পার ব্যবসা করেছে। তাছাড়া বছরের ৩ কোয়ার্টার দেশের অর্থনীতি ভালো ছিল। শেষ ৩ মাসের ২ মাস করোনায় গার্মেন্টসহ কিছু শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুতরাং করোনাকালে প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক কারণে কিছুটা কম হলেও তিনি মনে করেন, এটি এখনো সাড়ে ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে।
[৪] কোভিড উত্তর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আমাদের কৃষি অর্থনীতি সব সময়েই জিডিপির ৫ শতাংশ। গার্মেন্ট ও রেমিটেন্স এটাকে শুধু বাড়িয়ে দেয়। অনেকটা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তার মানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তিতে আগামীতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। এখন যা আছে, আগামী বছর যা হবে- তাও অনেক ভালো প্রবৃদ্ধি।
[৫] আইএমএফের ২০২১ সালের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ধারণার বিষয়ে বলেন, তারা ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি হার ধরেছে ২ শতাংশ। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ শতাংশ। এই হিসাবে আসলে মাথা পিছু প্রবৃদ্ধির হার হবে জিরো। সেখান থেকে শুরু করলে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ হওয়া সম্ভব। তবে তিনি মনে করেন, আসলে প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৬ শতাংশ। কারণ দেশে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
[৬] তার মতে, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যতো বেশি জোর দেয়া যাবে ততোই অর্থনীতি এগাবে। মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয় কমিয়ে দিলেই অন্য খাতে ব্যয় বাড়বে। মানুষকে বাঁচানোই হবে এখন প্রধান কাজ। শিক্ষায় সমান সুযোগ তৈরী করতে হবে। সেটা সম্ভব তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে। এখন দেশে ৫ শতাংশ গরীবের হাতে এনড্রয়েড মোবাইল ফোন আছে। এটি যদি ৯৯ শতাংশ মানুষের কাছে থাকে তবে গ্রামের ও গরীব জনগোষ্ঠীর সবাই তা ব্যবহার করে সমান শিক্ষা নিতে পারবে। এখন যা সম্ভব হচ্ছে না। আগামীতে ডিজিটাল ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে জোর দিতে হবে। এ খাতের শিল্পেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।
[৮] মানুষের হাতে নগদের যোগান দেয়া সম্পর্কে বলেন, এটি স্বল্পমেয়াদী একটি বিষয়। যাতে শিল্প তার ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল পায়। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারে। শ্রমিকরা টাকা পেয়ে তা দিয়ে ভোগ্য পণ্য ক্রয় করবে। বাজারে চাহিদা সৃষ্টি হবে। কিন্তু স্থায়ী জিডিপির জন্য কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তিতে ব্যয় বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]