• প্রচ্ছদ » » কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা এবং একটি ভিডিও বার্তা


কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা এবং একটি ভিডিও বার্তা

আমাদের নতুন সময় : 01/06/2020

যায়নুদ্দিন সানী

স¤প্রতি প্রফেসার রাশিদুল হাসান একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের উপর তার নিজের চালানো কিছু অবজারভেশন নিয়ে কথা বলেছেন এবং সেটা নিয়ে যথারীতি সমালোচনাও হচ্ছে। আর সেসব সমালোচনার অধিকাংশই যুক্তিসঙ্গত। যেহেতু উনার অবজারভেশনটা বৈজ্ঞানিক গবেষণার মূল নীতি, অর্থাৎ প্লেসিবো কন্ট্রোলড ডাবল বøাইন্ড র‌্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্র্যায়াল মেনে হয়নি, তাই অবশ্যই সেটা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার ত্রæটি মুক্ত না। অর্থাৎ, ওষুধ না দিলেও এসব রোগী ভালো হতো কিনা, সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই গবেষণার নীতি অনুযায়ী, বায়াসড হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, এই অবজারভেশনের ওজন খুবই কম। এনিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।
এবার দেখা যাক, বাস্তবতা কি বলে। প্রথম কথা হচ্ছে, নিয়ম কানুন মেনে, কোভিডের জন্য নতুন কোনো ড্রাগ আসতে দশ বছর লাগবে। ফলে সেটার জন্য অপেক্ষা করা, এই মুহূর্তে আউট অফ কোয়েশ্চেন। যা করা যেতে পারে, তা হচ্ছে এক্সিস্টিং ড্রাগগুলোর ভেতর থেকে কোন একটা খুঁজে নেয়া। বিজ্ঞানীরা সেটাই শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে ফ্রন্ট রানার হচ্ছে কিছু অ্যান্টি ভাইরাল, যেমন রেমডেসিভির, ফ্যাভিপিরাভির ইত্যাদি, দুটো অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাযিথ্রোমাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন, আর দুটো অ্যান্টি প্যারাসাইটিক, আইভারমেক্টিন আর হাড্রোক্সিক্লোরকুইন। বিভিন্ন পারমুটেশান কম্বিনেশানে এগুলো নিয়ে রিসার্চ চলছে। কোথাও ছোট স্যাম্পল সাইজে উপকারিতা দেখা দিলে বড় স্যাম্পল সাইজ নিয়ে কাজ হচ্ছে। আজ কিংবা কাল, এগুলোর রেজাল্ট হয়তো আসবে। প্রশ্ন হচ্ছে যতোক্ষণ না আসছে, কী করণীয়। এক্ষেত্রে দুটো স্কুল অফ থট, একটা হচ্ছে, ডু নাথিং। আরেকটা হচ্ছে খুব টক্সিসিটি নাই এমন ওষুধ দিয়ে চেষ্টা করে দেখা, কাজ হলে ভালো, না হলে রোগীর যেন খুব ক্ষতি না হয়। এই মুহূর্তে আমাদের যেকোনো একটা রাস্তা চুজ করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা বেটার? দ্য অ্যানসার ইজ, উই ডোন্ট নো। কারণ এই রোগে প্রায় ৮৪ শতাংশ রোগীর তেমন কোনো সমস্যা হয় না।
যাই হোক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হচ্ছে প্রথম দলে। তাদের ইন্টেরিম গাইডলাইন এসেছে ২৭ মে। সেখানে তারা কোনো ওষুধই কিছুই রিকমেন্ড করেনি। অন্তত ভাইরাস আক্রমণের প্রথম কিছুদিন। শুধু ফলোআপ করতে বলেছে। আর দ্বিতীয় গ্রæপের মধ্যে যারা আছেন, অর্থাৎ খুব ক্ষতিকর না, এমন কিছু একটা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা করা, তারা যথারীতি চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিছু আছেন যারা রিসার্চ করছেন, এবং বলাই বাহুল্য এদের মধ্যে এদেশের কেউই নেই (আমার জানা মতে)। আর কিছু আছেন কোনো রিসার্চ প্রটোকল না মেনে, কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে ওষুধ দিচ্ছেন। আর আমাদের দেশের মত দেশে, যেখানে ওষুধ বিক্রির তেমন কোনো নীতিমালা নেই, সেখানে অনেকেই নিজে নিজেই কিনে খাচ্ছে আর অবজার্ভ করছে। দ্বিতীয়গ্রæপটা যদিও আইডিয়াল না, কিন্তু এই গ্রæপ আবার সংখ্যায় নেহাত কমও না। ট্রাম্প যেদিন সঙ্গাব্দ সম্মেলনে জোর গলায় হাইডোক্সিক্লোরকুইনের সুনাম করলেন, তার কিছুদিনের মধ্যেই ওষুধটি মার্কেট আউট হয়ে গিয়েছিল। এনিওয়ে, যা বলছিলাম, প্রফেসার রাশিদুল হাসান স্যারের অবজারভেশানটা যে পুরোপুরি সায়েন্টিফিক না, এনিয়ে কোন বিতর্ক নেই। অবশ্যই বায়াসড হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
এখন কথা হচ্ছে, এই অবজারভেশানকে আমরা কিভাবে নেব। এক, ব্যাপারটা নিয়ে আরও রিসার্চ করা যেতে পারে। সেটা এদেশে কেউ করবে বলে মনে হচ্ছে না। সো বিদেশে কেউ যদি করে, তখন এর উত্তর পাওয়া যাবে। দুই, সন্দেহ প্রকাশ করা এবং গালিগালাজ করা। দ্যাটস অলসো গোয়িং। আর তৃতীয় একটা পক্ষ আছে, তাদের যুক্তি হচ্ছে, ক্ষতি তো নাই, দিয়ে দেখি না কেন? স্যার ভিডিও বার্তা দেয়ার পরে তাই তাকে অনুরোধ করি, আমার সঙ্গে জুম আলাপে অংশ নেয়ার জন্য। উনি রাজি হন। ইন্টারভিউ নেয়ার ক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য ছিল, স্যার কীসের উপর ভিত্তি করে এই চিকিৎসা অ্যাডভাইস করেছেন, তা স্পষ্ট করে জানতে চাওয়া। আলাপের প্রথমেই সেটা জানতে চাই। স্যার অকপটেই বলেছেন, এটা কোন রিসার্চ না, আমার অবজারভেশন। এটাও বলেছেন, যারা সুস্থ হয়েছেন, তাদের একটা বড় অংশ হয়তো এমনিতেই ভালো হয়ে যেতো, কিছু না দিলেও। ইন্টারভিউতে আর বাকি যা প্রশ্ন করেছি, বেশির ভাগই ছিল, রোগটি ডিটিওরেট করতে থাকলে কী কী পদক্ষেপ স্যার নিয়েছেন, সেগুলো জানতে। সিভিয়ার নিউমোনিয়া থেকে এআরডইএস এবং শক স্টেজ অংশে খুব একটা বিতর্ক নেই। স্যার গাইডলাইন অনুযায়ীই আছেন। যা কিছু বিতর্ক আছে, তা আছে মাইল্ড সিম্পটম আর মাইল্ড নিমোনিয়া স্টেজ নিয়ে। কে কোনো পক্ষে থাকবে, তা তার নিজের সিদ্ধান্ত। আমার গেস হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ আসতে দেরি করলে, আজ হোক কাল হোক, তৃতীয় পক্ষের অর্থাৎ ক্ষতিকর না, এমন ওষুধ সেবনকারী রোগীর সংখ্যা বাড়বে। ইতোমধ্যে অনেকেই নিজে নিজে নিতে শুরু করে দিয়েছে। আর স্যারের এই ভিডিওর পরে হয়তো অনেক ডাক্তার এমনটা প্রেসক্রাইব করবে। এরপরে কি হয়, সেটাই দেখার ব্যাপার। লেটস সি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]