• প্রচ্ছদ » » আমরা না খুব সামাজিক জাতি, তাহলে চট্টগ্রামের সাহাবউদ্দিন কেন মৃত্যুর আগে পরিবারকে কাছে পেলো না?


আমরা না খুব সামাজিক জাতি, তাহলে চট্টগ্রামের সাহাবউদ্দিন কেন মৃত্যুর আগে পরিবারকে কাছে পেলো না?

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2020

আমিনুল ইসলাম

আমরা না খুব পরিবার-পরিজন,বাবা-মাকে নিয়ে এক সাথে থাকতে পছন্দ করি? চট্টগ্রামে একটি পেট্রলপাম্পে চাকরি করতেন তিনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গত বুধবার রাতে বাড়িতে আসেন। গত শনিবার রাত থেকে তার শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশি বেড়ে যায়। এর পরদিন সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত কিনা, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। দুপুরে বাড়িতে আসলে পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন এবং তাকে এক ঘরে বদ্ধ করে রাখেন।
… হাসপাতাল থেকে আসার পর থেকে পরিবারের কেউ সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেননি। দুপুরে তাকে খাবারও দেননি। বিকেলে তার শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে খাবার চাইলেও কেউ দেননি। তাকে শয়নকক্ষে রেখে বাইরে থেকে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে রাখেন পরিবারের সদস্যরা। ছোট ছেলে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে বোনেরা বাধা দেন। এভাবে চিৎকার করতে করতে রাত ১০টার দিকে সাহাব উদ্দিনের মৃত্যু হয়। রাতে সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন। এরপর সবাই যার যার ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢুকে যান। পরে ছোট ছেলে ‘বাবা মারা গেছে’ বলে চিৎকার শুরু করেন।
পরে রাত একটার দিকে এলাকার চেয়ারম্যান-সহ কয়েকজন ওই বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়। অনেক ডাকাডাকির পর ওই বাড়ির লোকজন মূল দরজা খুলে দিয়ে যার যার কক্ষে চলে যান। বাড়ির একটি কক্ষে সাহাব উদ্দিনকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। ছিটকিনি খুলে তারা ভেতরে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পায়। সম্ভবত সাহাব উদ্দিনের শ্বাসকষ্ট উঠেছিল এবং তিনি তা সহ্য করতে না পেরে মাটিতে গড়াগড়ি করেছিলেন। তার পরনের কাপড় খোলা অবস্থায় পাশে পড়েছিল। পরে চেয়ারম্যানই দাফনের ব্যবস্থা করেন। পরিবারের কেউ আসেনি।
পশ্চিমারা খুব খারাপ। ওরা পরিবারের মূল্য দেয় না। বাবা-মা, সন্তান এক সঙ্গে থাকে না। এইসব তো আমরাই বলি। অন্তত, আমি এই করোনার সময়ে কোনো পশ্চিমা দেশে এই রকম ঘটনা একটাও শুনি নাই। অথচ বাংলাদেশে এখন দুই দিন পর পরই এমন ঘটনা শুনতে হচ্ছে। যে ভদ্রলোককে একটা ঘরে আটকিয়ে রাখা হলো, যে ভদ্রলোক মৃত্যু যন্ত্রণায় গড়াগড়ি করার সময় সামান্য পানিটুকু পেলেন না, সে কি চট্টগ্রামে কাজ করছিল, স্রেফ নিজের জন্য? নাকি পুরো পরিবারের জন্য। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য? অথচ সেই স্ত্রী-সন্তানরা তাকে ঘরে আটকে রেখে তালা বন্ধ করে দিয়েছে মরার জন্য! আমি অনেক দিন থেকেই বলে আসছি- বাংলাদেশে এই যে পারিবারিক বন্ধন বলে একটা টার্ম আছে; এর প্রায় ৯০ ভাগই লোক দেখানো ভালোবাসা। এর সিকি আনাও মন থেকে কেউ করে না। স্রেফ লোক দেখানো কিংবা সমাজের মানুষ কি বলবে- এ থেকেই মানুষজন এসব করে বেড়ায়। নইলে এইটুকুও করতো না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]