• প্রচ্ছদ » » আমাদের সকল ব্যর্থতা : যা হওয়া উচিত ছিলো, যা হয়নি


আমাদের সকল ব্যর্থতা : যা হওয়া উচিত ছিলো, যা হয়নি

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2020

ফরিদ কবির

[১] মার্চের শুরু থেকেই আকাশপথসহ সকল সীমান্ত অন্তত তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া উচিত ছিলো। ভুটানসহ অনেক দেশই এ কাজ করেছে। সেখানে কোনো নাগরিকই কোভিডে মারা যায়নি। [২] একই সময় থেকে সারা দেশের মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করতে কারফিউ জারি করা উচিত ছিলো। কেবল সাধারণ ছুটি নয়। [৩] কোভিড টেস্ট ও কোভিড চিকিৎসা সহজলভ্য রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সকল হাসপাতালকে সম্পৃক্ত করা দরকার ছিলো। [৪] কোভিডে আক্রান্ত মৃতদেহ সৎকার করতে সকল মসজিদ-মাদ্রাসা, আল মারকাজুলসহ বিভিন্ন সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান ও সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করা দরকার ছিলো। [৫] আইডিসিআরকে সকল কাজ মনিটর করার দায়িত্ব দেয়া উচিত ছিলো।
এসব উদ্যোগ সময়মতো নেয়া হলে এদেশে এতো লোকের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়াতো না। রোগীদের এতো দুর্ভোগও হতো না। এতো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতো না। কিন্তু এসবের কিছুই করা হয়নি। আমার মতো মূর্খ লোকও গত মে মাসে (যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো সরকারি হিসেবে মাত্র ১০ হাজার) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলাম, জুনের শুরুতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবেই ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেউই এটা প্রেডিক্ট করতে পারেনি।পারলে তো মে মাসেই করোনাসহ সকল রোগীর চিকিৎসার ভার স্বাভাবিক নিয়মে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও যুক্ত করা যেতো।
এক বসুন্ধরাকেই আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলতে সরকার ৫০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এই টাকাটা পুরোই বরবাদ হয়েছে। কারণ সেখানে আইসিইউর ব্যবস্থা নেই! এমনকি কোভিড হাসপাতালগুলোতে পরিমাণমতো অক্সিজেনের সরবরাহ করতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এই ৫০ কোটি টাকা ৫০টি প্রাইভেট হাসপাতালে ভাগ করে দিলে তারাই এপ্রিল মাসের মধ্যে তাদের হাসপাতালগুলোকে অন্যান্য রোগীদের পাশাপাশি কোভিড চিকিৎসার জন্য উপযোগী করে ফেলতে পারতো। সরকারের এখনই উচিত, বেসরকারি বা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে অন্তত এক কোটি টাকা করে অনুদান দেয়া যাতে তারা নন-কোভিড, কোভিড সাসপেক্টেড ও কোভিড- এই তিন ধরনের রোগীকেই স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। এতে আখেরে লাভ সরকারেরই। মনে রাখতে হবে, এরই মধ্যে এ খাতে জনগণের কয়েক হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন পকেটে চলে গেছে!
সর্বজনীন চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের কাজ। সেখান থেকে সরে গিয়ে কোভিড স্বাস্থ্যসেবা নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখার পেছনে কী কারণ ছিলো সেটা খুঁজে বের করতেই হবে। আজ স্বাস্থ্যসেবা খাত পুরোই ভেঙে পড়েছে। আর সেটা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে। দুঃখ এই, এসব লোকজনের মধ্যে সামান্যতম অপরাধবোধ বা গ�ানি দেখা যায় না! এরা এখনো সমানে ভুল তথ্য দিয়ে আসছে। মিথ্যাচার করে চলেছে। এখন দৃষ্টি দেয়া যাক দুটো বিষয়ের ওপর-
[১] স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজন যদি স্রেফ দুর্নীতি করার লক্ষ্যেই এমন কাজ করে থাকে তাহলে তাদের অপসারণসহ শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। [২] আর, তারা যদি বলেন, তাদের ভুলে বা অব্যবস্থাপনার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে, এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সব বেকুব এবং তারা আমার-আপনার বাড়ির ‘কাজের ছেলে’ হবারও যোগ্য নয়। কারণ অনেক সাধারণ মানুষও নানা সামাজিক মাধ্যমে বলে আসছিলেন, সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলি যথাযথ হচ্ছে না। অনেকে যুৎসই অনেক পরামর্শ দিলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেগুলোকে একটুও আমলে নেয়নি।
এখনও পরিস্থিতি এমনই যে, করোনা হলে তো কথাই নেই, করোনার লক্ষণ থাকলেও আপনি আগামী অন্তত একমাস চিকিৎসা পাবেন না। কারণ কোভিড সাসপেক্টেড ও কোভিড রোগীদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্যসেবা দিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে আলাদা আরো দুটো জোন করতে হবে। এর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর অর্থ ও সময় দুটোরই দরকার পড়বে। সরকারি একটি মন্ত্রণালয়ের লোকজনের দুর্নীতি ও মূর্খতার জন্য যাদের জীবন যাবে- তাদের স্বজনরা কেন চুপ করে থাকবেন? কোভিডে আক্রান্ত হয়ে সরকারের চিকিৎসাসেবা না পেয়ে যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনদের উচিত ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে বাধ্য করা। ক্ষতিপূরণের এই টাকা এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আদায় করা হোক। এ ব্যাপারে আপনারাই আওয়াজ তুলুন। মিডিয়ার হাত-পা-মুখ এখন বাঁধা। নইলে তারা কী না করতে পারতো। আর, বুদ্ধিজীবীরা যে সব মেরুদÐহীন ও অথর্ব সেটা তো জানাই আছে। বর্জন করার জন্য তাদেরও একটা তালিকা করুন।
আগামী মাসে সরকারি হিসেবেই কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো তিন লক্ষ ছাড়াবে! মনে রাখবেন, আক্রান্ত ১০ শতাংশের আইসিইউ সাপোর্ট দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। আগামী এক মাসেও হবে না। কাজেই সাবধানে থাকুন। নিরাপদে থাকুন। অসুস্থ হলে নিজের চিকিৎসা নিজেই করুন। শেষে বলি, কোভিড রোগীদের সংস্পর্শে এলেই সকলে তাতে আক্রান্ত হবেন, এমন নয়। আমরা অনেকেই ২০ মে থেকে ২৮ মে অবধি আমার মায়ের চিকিৎসাকালে তার সংস্পর্শে ছিলাম। তারপরেও এখনো আমরা সবাই মোটামুটি সুস্থই আছি। করোনাকে হয়তো অতো ভয় পাওয়ারও কিছু নেই! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]