• প্রচ্ছদ » » কনভেলেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির ইতিকথা


কনভেলেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির ইতিকথা

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2020

ডা. আরমান রহমান, এমবিবিএস, এমপিএইচ, পিএইচডি, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড থেকে

করোনা রোগের চিকিৎসায় কোনো আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ঔষধ নেই। সারা বিশ্বে ৪০০ উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে, এর মধ্যে কিছু চিকিৎসা এফডিএ’র জরুরি এবং কম্প্যাসনেট অনুমোদন পেয়েছে, কিছু এখনো পরীক্ষাধীন। এর মধ্যে কনভেলেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি একটি। এটিকে এফডিএ কম্প্যাসনেট (মানবতার খাতিরে দয়া করে দেয়া ) গ্রাউন্ডে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। আমেরিকা-সহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটা দেশে (যেমন চায়না, কলম্বিয়া,ইরান, মেক্সিকো, হল্যান্ড) প্লাজমা থেরাপির উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
বাংলাদেশে প্লাজমা থেরাপির কথা বেশ জোরেসোরেই শোনা যাচ্ছে। এই চিকিৎসা আসলে নতুন কিছু নয়, এর শুরু সেই একশো বছর আগে স্প্যানিশ ফ্লুর সময় থেকে, তারপর থেকে নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়াল এবং ভাইরাল অসুখের ক্ষেত্রে প্লাজমা চিকিৎসা জোরাল ভ‚মিকা রেখেছে। সব শেষে ২০০২-২০০৪ এ সার্স ভাইরাস, ২০১২ তে আরবে মার্স ভাইরাসের চিকিৎসায় এই প্লাজমা থেরাপি যুগান্তকারী ভ‚মিকা রেখেছে। সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী যে স্টাডি তা দেখিয়েছে ২০০৯ সালে এইচ ওয়ান এন ওয়ান ভাইরাসের ক্ষেত্রে, সেখানে এই প্লাজমা থেরাপি মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে প্লাজমা থেরাপির এই এন্টিবডি রক্তকে শুধু ভাইরাস মুক্ত ই করে না, সাথে সাথে ভাইরাস ইনফেক্টেড সেলকেও শরীর থেকে সরিয়ে দিতে পারে। বেশির ভাগ ভাইরাস শরীরে ঢুকে প্রথম সপ্তাহেই রক্তে পরিপূর্ণভাবে চলে আসে. এর ফলে সাধারণত ১০-১৪ দিনের মাথায় একজন রোগীর শরীরে প্রাথমিক ইমিউন রিয়াক্সন তৈরি হতে দেখা যায় যেটা তার শরীরের ভাইরাস পরিষ্কার করার কাজে আত্মনিয়োগ করে। যদি কোনো রোগীর ইমিউন সিস্টেম ভালো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে এই প্লাজমা থেরাপি তাকে সেই কাজটা করে দিতে পারে।
প্লাজমা থেরাপি কি? যেকোনো ধরনের ভাইরাস অসুখের পরে একজন মানুষের শরীরে একধরনের এন্টিবডি তৈরি হয়, এই এন্টিবডি ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠে, তাহলে তার শরীরে এই এন্টিবডি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই সেরে ওঠা মানুষের রক্তের প্লাজমা একজন করোনা আক্রান্ত মানুষকে (যাদের রক্তের গ্রæপিং এবং ক্রস ম্যাচিং মেলে এমন রোগী) দ্রæত সেরে উঠতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সেরে ওঠা সব মানুষের শরীরে এই এন্টিবডির পরিমাণ এক হয় না, কাজেই পরীক্ষা করা ছাড়া যে কারো রক্তের প্লাজমা দেয়া কাজের কথা নয়। কোন মানুষদের প্লাজমা নেয়া যাবে? যাদের রক্তের প্লাজমায় এই এন্টিবডি টাইটার অন্ততপক্ষে ১ : ১৬০ থাকবে, এন্টিবডি টাইটার মানে হচ্ছে এটাকে কতো মাত্রা পর্যন্ত তরল (ডাইলুশন) করলেও এর সক্ষম উপস্থিতি পাওয়া যায়। যতো বেশি ডাইলিউট অবস্থায় এর কার্যকারিতা থাকবে, ধরে নেয়া হয় সেই এন্টিবডি ততো বেশি কার্যকর। কিন্তু ১৬০ ডাইলুশনের এর নিচে যদি কোন এন্টিবডি কার্যকর থাকে, তা প্লাজমা থেরাপিতে কোনো কাজ করবে না বলে ধরে নেয়া হয়। এই পরীক্ষা ছাড়া কোনো করোনা রোগীকে প্লাজমা দেওয়ার মানে হচ্ছে আন্দাজে ঢিল ছোড়া। কখন প্লাজমা থেরাপি দেবেন; চাইনিজ একটি স্টাডিতে দেখা গেছে, অসুখ শুরু হওয়ার প্রথম ১৪ দিনের মধ্যে প্লাজমা থেরাপি দিলে তার ফলাফল ভাল পাওয়া যায়। কতোটুকুু দেবেন, কীভাবে দেবেন; ২০০ মিলিলিটার এককালীন প্লাজমা ৪ ঘণ্টায় (ডাবিøউ এইচও’র বøাড ট্রান্সফাইসন প্রটোকল অনুযায়ী)। প্লাজমা দেয়ার কী কী টেস্ট অবশ্যই আগে করে নেওয়া উচিত; সেরোলজিকাল টেস্ট যেমন প্লাক (প্লাজমার নিউট্রালাইজ করার ক্ষমতা ) টেস্ট, এলিজা করে দেখে নিতে হবে এন্টিবডির ক্ষমতা, পিসিআর করে দেখে নিতে হবে ভাইরাস আছে কিনা, কোনো ধরনের সংক্রামক রোগ আছে কিনা যেমন হেপাটাইটিস বি, সি, এইডস ইত্যাদি মুক্ত কি না। প্লাজমা দেয়ার কতোদিন পরে দেখতে হবে তা কাজ করছে কিনা? সাধারণত তিন দিন পরেই রোগীর শরীরে রক্তে ভাইরাসের পরিমান কমে আসতে থাকে, সেই সাথে জ্বর, শাসকস্ট, অক্সিজেন স্যাচুরেশন সহ অন্যান্য উপসর্গ তিন থেকে সাত দিনের মাথায় ভালো হতে থাকবে। একই প্লাজমা বেশি করে বা দুই তিন বার দেয়া যাবে কিনা? ধারণা করা হয় একবার কাজ না হলে সেটা দ্বিতীয়বারে কাজ করবে না, কাজেই একবারের বেশি দেওয়া স্বীকৃত পদ্ধতি নয়।
প্লাজমা থেরাপির সাইড এফেক্ট কী কী? সাধারণত প্লাজমা থেরাপির কোনো সাইড এফেক্ট নেই, কিন্তু কোনো কোনো রোগীর এলার্জিক রিয়াক্সন ডেভেলপ করতে পারে। তাছাড়া যদি পরীক্ষা না করে দেয়া হয়, তাহলে নান ধরনের সংক্রামক রোগ একজনের থেকে অন্য রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। লেখক : একজন চিকিৎসক বিজ্ঞানী, অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্য থেকে লেখাটা তৈরি করেছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]