• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশেই অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব


বাংলাদেশেই অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2020

প্রভাষ আমিন

পুরো বিমানে যাত্রী মাত্র দুজনÑ মি. মোরশেদ খান এবং মিসেস মোরশেদ খান। তারা গেছেন লন্ডনে। ব্যাপারটা বেশ রোমান্টিক লাগছে আমার কাছে। ঘণ্টা চুক্তিতে রিকশা ভাড়া করে বউ বা বান্ধবী নিয়ে ঘোরার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কিন্তু পুরো বিমান ভাড়া করে বউ নিয়ে লন্ডন যাওয়া বেশ থ্রিলিং। আমার কাছে বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। আমার খালি সদ্য প্রয়াত বলিউড নায়ক ঋষি কাপুরের ‘ববি’ ছবির সেই ঐতিহাসিক গানের আধুনিক ভার্সন মনে পড়ছেÑ‘হাম তুম এক বিমান মে বন্ধ হো, অর পাইলট খো জায়ে…’। অবশ্য আধুনিক বিমান অটো পাইলটেও চলে। করোনাকালে অনেকেই হোম অফিস করছেন। হোম অফিস নিয়ে অনেক ট্রলও হয়েছে। একটা ট্রলে দেখা যাচ্ছে, বিমান টেক অফ করার জন্য তৈরি, যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন। পাইলটের শেষ ঘোষণা আসছে, ‘আপনাদের স্বাগত। আপনাদের যাত্রা শুভ হোক। আমি হোম অফিস করছি।’ মোরশেদ খানকে আশা করি সবাই চেনেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সিটিসেল দিয়ে একতরফা মোবাইল ব্যবসায় যে টাকা কামিয়েছেন, সকাল-বিকাল বউকে নিয়ে বিমান ভাড়া করে হাওয়া খেতে গেলেও সেই টাকা ফুরাবে না। ঘুরতে গিয়ে তারা গাইতে পারেন, হাওয়া মে উড়তা যায়ে, মেরে লাল দোপাট্টা…। দোপাট্টার মতো টাকা ওড়ালেই এক জীবনে মোরশেদ খানের টাকা শেষ হবে না। মোরশেদ খান কেন বিমান ভাড়া করে লন্ডন গেলেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ কোনো পত্রিকায় পাইনি। তবে ৮০ বছর বয়সী মোরশেদ খান আগে থেকেই নানান রোগব্যাধিতে আক্রান্ত। তার হার্টে রিং পরানো আছে। এছাড়া পারকিন্সন্স, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগও বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। ধারণা করি, বাংলাদেশের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার আশায় তিনি লন্ডনে উড়াল দিয়েছেন।
কিন্তু বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অবরুদ্ধকালে কীভাবে দেশ ছাড়লেন? এই নিয়ে কৌতূহল শেষ হয় না। খোঁজ নিয়ে জানলাম দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। গত বছরের জুনে তার বিদেশযাত্রার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দুদক। তাহলে গেলেন কীভাবে? পরে জানলাম আদালতের অনুমতি নিয়ে বৈধভাবেই দেশ ছেড়েছেন এম মোরশেদ খান। কিন্তু আমার খটকা তখনও যায়নি। আদালতই বা এই অবরুদ্ধ সময়ে বিএনপি নেতার ব্যাপারে এত উদার হলো কেন? এবার মনে পড়লো, গত নভেম্বরে মোরশেদ খান বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এবার সব ফকফকা। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যিনি চার্টার্ড বিমানে খান লন্ডন গেছেন, তিনি বিএনপি নেতা নন, সাবেক বিএনপি নেতা। সাবেক বিএনপি নেতাদের সাত খুন মাফ।
এই প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ে গেলো। এক কট্টর বামপন্থী মৃত্যুশয্যায়। তার স্বজন ও অনুসারীদের বললেন, আমি কমিউনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে যোগ দেবো। সবাইকে জানিয়ে দাও। শুনে তো সবাই অবাক। মৃত্যুর আগে এ কোন ভীমরতি। মৃত্যুপথযাত্রী কমিউনিস্ট হেসে বললেন, আমি জানি আমার মৃত্যু অনিবার্য। চাই আমার মৃত্যুতে দেশে একজন জামায়াত কমুক। বিস্তারিত পড়–ন বাংলাট্রিবিউনে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]