• প্রচ্ছদ » » গেদু চাচার চির প্রস্থান : দেশে সাপ্তাহিক প্রকাশনার আদলটাই বদলে দিয়েছিলেন খন্দকার মোজাম্মেল হক


গেদু চাচার চির প্রস্থান : দেশে সাপ্তাহিক প্রকাশনার আদলটাই বদলে দিয়েছিলেন খন্দকার মোজাম্মেল হক

আমাদের নতুন সময় : 01/07/2020

সাঈদ তারেক

গেদু চাচার চিরপ্রস্থান। এ কেমন চলে যাওয়া বুঝলাম না। বলা নাই, কওয়া নাই ধুপ করে নাই। কয়েকদিন আগেও নিয়মিত পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকে। মাত্র চারদিন আগে ‘দোয়া চাই’ কোভিড পজেটিভ। পরদিন হাসপাতালে। পরশু প্লাজমা দরকার। কালই নেই। অবিশ্বাস্য। খন্দকার মোজাম্মেল হকের চলে যাওয়াটা আমি এখনো মেনে নিতে পারছি না। ফেসবুকে নিউজটা দেখে সেই যে বুকের ভেতর ধক করে উঠলো এখনো তিরতির কাঁপুনি অনুভব করে চলছি। অনেক পুরনো সাংবাদিক। সেই ’৮০’র দশক থেকে। কখনো কোনো দৈনিকের সাথে ছিলেন কিনা জানি না। তবে এক সময় দেশে সাপ্তাহিক প্রকাশনার আদলটাই বদলে দিয়েছিলেন। যতোদূর জানি শুরু শ্রদ্ধেয় এরশাদ মজুমদার ভাইয়ের সাপ্তাহিক রিপোর্টার এবং পরবর্তী সময়ে ফসল দিয়ে। এরপর দুই একজন বন্ধু মিলে প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক সুগন্ধ্যা। ভিন্ন আঙ্গিকে। শুধু কার্টুনচিত্র দিয়ে নিউজ প্রিন্টে দুই রঙা কাভারের কোনো সাপ্তাহিক যে কতোটা পাঠকপ্রিয় হতে পারে, সে আমলের সাপ্তাহিক সুগন্ধা ছিলো তার একমাত্র প্রমাণ। দাম ছিলো সম্ভবত পাঁচ টাকা। ফুটপাথে, রেল, লঞ্চ স্টিমারে বইয়ের দোকানে দেদারছে বিক্রি হতো। সুগন্ধ্যার অনুকরণে পরবর্তী সময়ে আরো কয়েকটা পত্রিকা বের হয়েছিল। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেনি। এই কাগজটির পাঠক প্রিয়তার অন্যতম উপকরণ ছিলো ‘গেদু মিয়ার চিঠি’। বাংলাদেশের একজন ‘নাখান্দা’ পাবলিক হয়ে নেতা নেত্রীদের কাছে নানা ফরিয়াদ আবেদন নিবেদন নিয়ে চিঠি লিখতেন গেদু চাচা। প্রতি সপ্তাহে পাঠক অপেক্ষায় থাকতো গেদু মিয়ার চিঠির জন্য। এই গেদু মিয়াই হচ্ছেন খন্দকার মোজাম্মেল হক।
একজন মিতভাষী, নিভৃত্যচারি, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ হিসেবেই দেখে এসেছি প্রায় সাড়ে তিন দশক। আমার সাথে যে তার ভালো জানাশোনা বা পরিচয় ছিলো তা নয়, তারপরও রাজনীতি সাংবাদিকতা ব্যবসা, যখন যা-ই করেছি মানুষটার খবর পেতাম। তার গেদু চাচার চিঠি আমিও মাঝেমাঝে পড়তাম। কিন্তু সুগন্ধায় তিনি টিকতে পারেননি। পার্টনারের সাথে সম্ভবত মতান্তর হয়েছিলো। বের হয়ে এসে প্রকাশ করেছিলেন সূর্যোদয় নামে একই ধাঁচের আর একটি পত্রিকা। সেটাও দাঁড়িয়ে গেছিলো। খুব কম্পিটিশন ছিল দুই পত্রিকায়। মজার ব্যপার হলো দুটি কাগজেই ‘ গেদু মিয়ার চিঠি’ ছাপা হতো। একটা তো মোজাম্মেল সাহেব লিখতেন অন্যটা লিখতেন আরও একজন। সূর্যোদয়েও অবস্থান বেশি দিন হয়নি। এরপর সম্ভবত একক মালিকানায় প্রকাশ করেন আজকের সূর্যোদয়। আমৃত্যু তিনি এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
একটি অনলাইন নিউজপোর্টালও বোধহয় চালাতেন। ফেসবুকে তার নিউজ আপডেট পেতাম। একটা গুণের জন্য ভদ্রলোককে আমার ভালো লাগতো, সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি খোঁজখবর রাখতেন। ভুয়া না, আসল মুক্তিযোদ্ধা। চেষ্টা করতেন তাদের দুঃখ-কষ্ট অভাব অনটনগুলো তুলে ধরতে। দেশের কোথাও কোনো মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে নিউজ ছাপতেন, দুলাইন লিখতেন। নিজেও মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। সুদীর্ঘকাল সাংবাদিকতা পেশায় থাকলেও মোজাম্মেল হক প্রেসক্লাবের সদস্য হয়েছিলেন মাত্র কয়েক বছর আগে। করোনা ক্রাইসিসের আগে প্রায়ই দেখা হতো ক্লাবে। কথা বলতেন কম। বেশিরভাগ অন্যের কথা শুনতেন। আমরা অনেক সময় পর্যন্ত আড্ডা দিতাম। সেই খন্দকার মোজাম্মেল হক হঠাৎ করে চলে গেলেন। বয়স এবং শরীর স্বাস্থ্য যা তাতে এ সময় যাওয়ার কথা না। এই লোকের মৃত্যুতে আমার মতো অনেকেই শুধু শোকাহতই নন, শঙ্কিত। ভাবছি কীসের কী সাবধানতা? ডাক এসে গেলে কেউ কি ফেরাতে পারবো? খন্দকার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গেদু চাচা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো। তবে সৃষ্টি করে রেখেছে এক ইতিহাস। বাংলাদেশে এতো দীর্ঘকাল বোধহয় আর কোনো কলাম একটানা অব্যাহত থাকেনি। আল্লাহ মোজাম্মেলকে মাফ করে দিন। আমি তাকে একজন ভালো লোক হিসেবে দেখেছি। আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই তাকে জান্নাতবাসী করবেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com