[১]আমার মৃত্যু ভাবনা বেড়েছে

আমাদের নতুন সময় : 12/07/2020

নাঈমুল ইসলাম খান : [২] আমার মৃত্যু কোন দিন, কোন ক্ষণে হবে, সেটা ¯্রষ্টার ইচ্ছা।
[৩] জানুয়ারির ২১ তারিখে যেদিন আমার ৬০ বছর পূর্ণ হলো, আমি বিশেষভাবে মৃত্যুর প্রস্তুতিতে সক্রিয় হয়েছি। আমি দোষে, গুণে, সাধারণ মানুষ, পরিবারিক ধারাবাহিকতায় আল্লাহতে বিশ্বাস ও ভীতি সবসময় লালন করি। এখন ভাবছিÑ ধর্ম পালনে সক্রিয় হবো।
[৪] আমি এও ভাবছি, জীবন চলার পথে যে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে বিরোধ হয়েছে, যতো দ্রুত সম্ভব তার নিষ্পত্তি করে ফেলবো ইনশা আল্লাহ। সময়-সুযোগ এলেই এ বিষয়ে উদার উদ্যোগী হবো।
[৫] পারিবারিক ও উদ্যোক্তা জীবনে ন্যূনতম যে কাজগুলো করার স্বপ্ন ছিলো, সেগুলো দ্রুত যুক্তিসঙ্গত সময়ে কতোটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে, সেটাও সিরিয়াসলি ভাবছি। যতটুকু সম্ভব স্মৃতি কথাও লিখব।
[৬] আমাদের গ্রুপের চারটি দৈনিক, কয়েকটি সাপ্তাহিক এবং একটি নিউজ পোর্টাল সর্বোচ্চ সফলতায় নিয়ে যাওয়া আমার ন্যূনতম জরুরি লক্ষ্য, তারপর জীবনে কতোটুকু সময় পাওয়া যায়, তার উপর নির্ভর করছে টেলিভিশন এবং মিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শুরু এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি একটি অনলাইন প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠিত করা।
[৭] আমার বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকে ইচ্ছা আছে কুমিল্লায় আমাদের এলাকার দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষদের কল্যাণে আরও কাজ করার।
[৮] আমি ভাবতাম, আমার জীবনের দৈর্ঘ্য আমার বাবার মতো হবে এবং আমার মৃত্যু হবে মায়ের জীবদ্দশাতে। আমার মাথার মধ্যে একটা হিসেব ছিলো, আমার বাবা খুব অল্প বয়সে মারা গেছেন এবং কেন যেন আমার ধারণা ছিলো তিনি ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন, সেই হিসেব অনুসরণ করে আমিও ন্যূনতম ৬৮ বছর বেঁচে থাকার একটা গোপন হিসাব-নিকাশ করে রেখেছিলাম। সেই হিসাব যদি ঠিক থাকে, তাহলে আমার আরও সাড়ে সাত বছরের জীবন রয়েছে। আমার সবসময় মনোকষ্ট ছিলো, কেন আমার বাবা দীর্ঘজীবন লাভ করেননি, বিশেষ করে তার বাবার (দাদা) মতো বয়স অন্তত পেলেন না কেন।
[৯] কয়েকদিন আগে আমি একটা বিরাট ধাক্কা খেলাম এইটা জেনে যে, আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে আরও কম বয়সে, ৬৮ বছর নয়, প্রকৃতপক্ষে ৬৪ বছরেরও কম। বাবার জন্ম ১৪ জুন ১৯৩৪ এবং মৃত্যু ৭ মার্চ ১৯৯৮।[১০] আল্লাহ যদি আমাকে, আমার বাবার হায়াত দেন, তাহলে হয়তো আমার অবশিষ্ট জীবন রয়েছে ৩ বছর ৪ মাসের কিছু বেশি।
[১১ ] আমি জানি আমার মৃত্যু আমার হাতে নয়, আমার জানা নয়, সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা।
[১২] যদি অবশিষ্ট জীবন ৩ বছর ৪ মাসের মতো হয়, তাহলে দাঁড়াচ্ছে আমার বড় মেয়ে লাবিবা হবে ২৩ বছর উত্তীর্ণ, মেজ মেয়ে যূলিকা ১৮ উত্তীর্ণ এবং ছোট মেয়ে আডিভা ১৪ উত্তীর্ণ। আমার অনেক ভালোবাসার তিন কন্যা আমার এমন মৃত্যুর পর কি কোনো শূন্যতায় পড়বে? ভালোবাসার বড় ঘাটতিতে পড়বে? তাদের কি অনেক কষ্ট হবে? তারা কি প্রতারিত বা বঞ্চিত হবে?
[১৩] আমি এই ভেবে সান্ত¡না নিই, আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্বোত্তম ভালোবাসার মালিক এবং শ্রেষ্ঠ রক্ষাকর্তাও। জাগতিক বড় সান্ত¡না আমার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টি এখনো নবীন, সাহসী ও সক্ষম, সঙ্গে এই আশা আছে আমার মা বেঁচে থাকবেন, আত্মীয় স্বজনসহ সকলের সহমর্মিতা সাহায্য ও সমর্থন নিশ্চয়ই আমার পরিবারের প্রতি থাকবে।
[১৪] স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্পর্কের সূত্রে আমার অনেক বন্ধু রয়েছে, তাদের কেউ কেউ নিশ্চয়ই আমার পরিবারে শুভাকাক্সক্ষী থাকবেন।
[১৫] কিন্তু সত্যি কথা হলো, আমার এই তিন মেয়েকে, এতো অল্প বয়সে, এই বিশাল জগৎ-সংসারে, এতো তাড়াতাড়ি পিতৃহীন করে যেতে আমার মনটা প্রায়ই কেঁদে ওঠে। মৃত্যু চিন্তাটা কিছুতেই ভালো লাগে না।
[১৬] যদি মরেই যাই আগামী ৩ বছর পর, তাহলে চলমান সংবাদপত্রগুলোকে হয়তো দাঁড় করিয়ে যেতে পারবো, কিন্তু অন্য স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় আমার হাতে থাকবে না।
[১৭] আমার আরেকটা ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করবো, আমার অনেক দিনের পছন্দের ১০টা গান আমি গাইতে চাই। নিশ্চয়ই ভালো গায়কী হবে না, বেসুরো হবে, তারপরও আমার তিন কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে দরদ দিয়ে ১০টি গান গেয়ে যেতে চাই। স্কুল জীবন থেকে গান গাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা আমার ছিলো।
[১৮] তিন বছর চার মাস পরে অর্থাৎ ২০২৪ এর মাঝামাঝি আমার মৃত্যু হলে আমার টেলিভিশন করা হবে না, মিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে না, আর কিছুই হবে না। যা কিছু হবেÑ সব আল্লাহর ইচ্ছা। অনুলেখক : আব্দুল্লাহ মামুন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com