• প্রচ্ছদ » » অপেক্ষায় থাকতামÑ বড় ভাই, কখন ঢাকা থেকে নতুন জামা-কাপড় নিয়ে আসবেন


অপেক্ষায় থাকতামÑ বড় ভাই, কখন ঢাকা থেকে নতুন জামা-কাপড় নিয়ে আসবেন

আমাদের নতুন সময় : 29/07/2020

এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার

ঈদের আগে অপেক্ষায় থাকতামÑ বড় ভাই কখন ঢাকা থেকে নতুন জামাকাপড় নিয়ে আসবেন। ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখ দেখতাম। আর মাকে জিজ্ঞাসা করতাম, ভাই বাড়িতে কবে আসবেন? ঈদের আগের রাত শেষ হতো না। সারারাত এপাশ-ওপাশ করে কাটিয়ে দিতাম। এরপর ফজরের আজান ভেসে আসতো। এভাবেই ভোর হয়ে যেতো। ঘুম থেকে উঠে, ঠাÐা পানিতে পুকুরে গোসল করতাম। তারপর বাবার দেওয়া জামা পরে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম। আর ভাইয়ের দেওয়া কাপড় আলাদা রেখে দিতাম ঈদের পর স্কুলে পরে যাওয়ার জন্য। নামাজ শেষে সবার সাথে গোরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করতাম। মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করতাম। বাড়িতে এসে মায়ের হাতের রান্না করা ক্ষীর, সেমাই খেতাম। এরপর কোরবানি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতাম। গরু কাটা শেষ হলে, মাংস সবার মাঝে বিলি করে, বাকিগুলো বাড়িতে নিয়ে আসতাম। এরপর মা মাংস রান্না করতেন। আমরা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুরা মিলে মজা করে খেতাম। যে স্মৃতিগুলো আজও মনের জানালায় উকি দেয়। ঈদে সবচেয়ে বেশি আনন্দ হতো হৈ-হুল্লোড়। ঘোরাঘুরি, আড্ডা, ফুটবল, হাডুডু খেলা, পালা-গানের আসর, তখন এগুলোর খুব প্রচলন ছিলো। যেগুলো খুবই আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেছি। বর্তমান সেই সংস্কৃতিগুলো হারিয়ে গেছে। মানুষ এখন আর সেই আনন্দগুলো পাই না। এবার কোভিড-১৯ এবং বন্যার কারণে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে গ্রামে গিয়ে ঈদ করতে পারছি না। যা আমাকে খুবই কষ্ট দিচ্ছে। এখনও ঈদের আগে মায়ের জন্য গ্রামের বাজার থেকে পান-সুপারি, চুন নিয়ে আসার কথা ভুলতে পারি না। ঈদের রাত্রে আমাকে কাঁদায়। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঈদ যাপন করতে হবে। দুর্গতদের পাশে থেকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে। পরিচিতি : সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহীন খন্দকার।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com