• প্রচ্ছদ » » ঈদ সালামির টাকা দিয়ে বই কিনতাম


ঈদ সালামির টাকা দিয়ে বই কিনতাম

আমাদের নতুন সময় : 29/07/2020

ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : শৈশবের ঈদ উদ্যাপনের অনুভ‚তিই ছিলো অন্য রকম। ঈদের দিনটা কীভাবে কাটাবো, কীভাবে মজা করবোÑ তা নিয়ে আগে থেকেই হাজারো চিন্তা, পরিকল্পনা করতাম! কাছে বেশি টাকা থাকতো না। বাবা তার সার্মথ্যের মধ্যে একটা শার্ট কিনে দিলেই আমরা খুশি হতাম। তিনি আমাদের ভাই বোনদের একটা করে পোশাক কিনে দিতেন। যখন রংপুর, দিনাজপুর কিংবা যশোর জিলা স্কুলে পড়াশোনা করতাম, তখন মায়ের দেওয়া টিফিনের টাকাগুলো বাঁশের পোলে ছিদ্র করে ১ পয়সা, এক আনা করে জমিয়ে রাখতাম। ঈদের দিন খরচ করার জন্য। ঈদের আগের দিন, সেই টাকাগুলো বের করতাম। একসঙ্গে টাকাগুলো দেখে খুবই আনন্দ পেতাম। সেই টাকা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বাদাম কিনে খেতাম। গ্রামে মেলা হতো সেখানে গিয়ে চড়কিতে চড়তাম। হলে সিনেমা দেখতাম, বাতাসা কিনে খেতাম, সবাই মিলে একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতাম। আনন্দ উল্লাসের মধ্যে দিয়ে সারাদিন কেটে যেতো।নামাজ শেষ করে, সব বন্ধুরা একত্রিত হতাম। তারপর সবাই একসাথে মেলাগুলোতে যেতাম। প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সেমাই খেতাম। আমার বাড়িতেও বন্ধুরা আসতো। সালামি পাবার আসায় মুরুব্বিদের সালাম করতাম। জমানো টাকা দিয়ে দস্যু মোহন সিরিজের বই কিনতাম। একটা বইয়ের দাম নিত ৬ আনা। ঘুড়ি উড়িয়ে কাটাকাটির প্রতিযোগিতা করতাম। তবে এখনকার ছেলেমেয়েরা, আগের সেই আনন্দ পাই না। বেশিরভাগই শপিংমলে যাবে, ফ্যাশন করবে, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে। এমনকি পরিবারের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনবোধও করে না। আইফোন ব্যবহার করে, বিলাসবহুল গাড়ি ল্যান্ড রোভারে চড়বে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ছাড়া ভর্তি হয় না। এগুলোর জন্য বাবার সামর্থ্য আছে কিনা, সন্তানেরা সেটি দেখার প্রয়োজনবোধও করে না। ফলে তাদের আবদার মেটাতে বাবা অসৎভাবে টাকা উপার্জনের জন্য চেষ্টা করছে। যা আমাদের সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই যে ১০ হাজার টাকার কাপড় কিনছে, দেড় লাখ টাকা দিয়ে টেলিভিশন কিনছে। এ টাকাগুলো তারা কোথায় পাচ্ছে। নিশ্চয়ই সাহেদ করিমদের কাছ থেকে আসছে। ফলে রাষ্ট্র ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। এখন মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ কম। স্কুল কলেজে মূল্যবোধের চর্চা হয় না। ছাত্র-ছাত্রীরা বই পড়ে না, সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত থাকে, যা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ফলে ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিচিতি : সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, মিনহাজুল আবেদীন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com