• প্রচ্ছদ » » কোরবানির দিন আত্মীয়-স্বজনকে মাংস দিতাম তারাও আমাদের বাসায় মাংস নিয়ে আসতেন যা ছিলো অনেক আনন্দের ও দায়িত্বশীলতা


কোরবানির দিন আত্মীয়-স্বজনকে মাংস দিতাম তারাও আমাদের বাসায় মাংস নিয়ে আসতেন যা ছিলো অনেক আনন্দের ও দায়িত্বশীলতা

আমাদের নতুন সময় : 29/07/2020

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

শৈশব-কৈশরে আনন্দ করার সুযোগ অনেক কম ছিলো, তবে ঈদ এলে পারিবারিক বন্ধনগুলো আরও দৃঢ় হতো। শৈশবের সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ঈদের আগেই ঈদের দিনক্ষণ গণণা করতাম। আর ১০ দিন বা ১১ দিন পর ঈদ। ওই সময় কে, কী কিনেছি, কোন জামা-কাপড় পরবোÑ এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। তখন পরাধীন দেশ, একইসঙ্গে বিনোদনের সুযোগও কম ছিলো। গণমাধ্যমেরও তেমন বিস্তার ছিলো না। তাই খুব সীমিত পরিসরে জীবনযাপন ছিলো। ঈদ ছিলো পরিবারের সবাই এক জায়গায় হওয়া এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা।
আমার বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি সুবাধে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতেন। দাদা-দাদি ছিলেন ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ঈদের সময় বেশির ভাগ মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামে যেতো। কিন্তু আমরা ঢাকায় আসতাম, ট্রেন ফাঁকা থাকতো, খুবই আনন্দ হতো। সেই দিনগুলো খুব মনে পড়ে। সব আত্মীয়-স্বজন মিলে ঈদ করা। আত্মীয়-স্বজনের আলাদাভাবে কোরবানি দিতো। তারা একে অপরের বাসায় কোরবানির মাংস পৌঁছে দিতেন। অনেকে আমাদের বাসায় গোস্ত নিয়ে আসতেন। যা আনন্দের এবং দায়িত্বের ছিলো। আমি মনে করি, কোরবানি দেওয়া যেমন কর্তব্য। তেমনি গোস্ত আত্বীয়-স্বজনের মধ্যে বন্টন করা পারিবারিক দায়িত্ব।
ঈদের পরের দিন থেকে শুরু হতো আত্বীয়-স্বজনদের বাসায় যাওয়া। তাদের খোঁজ খবর নেওয়া, খাওয়া-দাওয়া করা। তারাও আমাদের বাসায় আসতেন। ঈদে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাওয়া, ঈদের সঙ্গে সম্পৃক্ত যা পারিবারিক বন্ধন। যৌথ পরিবারের ইতিহাস-ঐতিহ্য তারই ধারাবাহিকতা। তখন নানা কারণে এক বাড়িতে থাকা সম্ভব হতো না। তারপরও বছরে দুটি ঈদকে কেন্দ্র করে একে অন্যের বাড়িতে যাওয়া, দেখা করা বা পারিবারিক যে মিল বন্ধন দৃঢ় হতো, এটা আজকাল হারিয়ে গেছে। গ্রীন রোডের বাসায় এক সঙ্গে কয়েক প্রজন্ম বসবাস করছি। আমার নানা-নানি, বাবা-মা। এখন ছেলে-মেয়েদের বোঝানো মুশকিল হয়। যে আমরা সবাই মিলে ৪ প্রজন্ম এক ছাদের নিচে ব্যক্তিগত বাসায় বসবাস করেছি। আসলে মনের মিল থাকলে সব সম্ভব। আজকে হয়তো রাজধানী শহরে সবাইকে নিয়ে বসবাস করা সম্ভব হবে না। কিন্তু মনের মিল বা পারিবারিক বন্ধন যেন অব্যাহত রাখা যায়। এই চেষ্টা করতে হবে। পরিচিতি : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ মামুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com