• প্রচ্ছদ » » কোরবানির দিন মাংস কাটাকুটি শেষ করতে রাত ১০ থেকে ১১টা পর্যন্ত বেজে যেতো


কোরবানির দিন মাংস কাটাকুটি শেষ করতে রাত ১০ থেকে ১১টা পর্যন্ত বেজে যেতো

আমাদের নতুন সময় : 29/07/2020

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

সুন্দরবনের উপকণ্ঠে, ভারতের সীমান্তে আমাদের বাড়ি। তখন মানুষের প্রচুর কষ্ট ছিলো। দুর্ভিক্ষ ও বন্যা সব সময় লেগে থাকতো। মানুষের চলাফেরায় খুবই কষ্ট ছিলো। বন্যার পানি উঠান পর্যন্ত চলে আসতো। ঘরবাড়ি ডুবে যেতো, সাপ উঠতো। মানুষ নৌকায় করে যাতায়াত করতো। ৬০ দশকের পরবর্তীকালে ওয়াপদা গঠিত হয়। এরপর ইস্ট পাকিস্তান ওই অঞ্চলে বেড়িবাধ দেয়। তারপর থেকে ধান, পাট, গম ফসল উৎপাদন শুরু হয়। তখনকার সময় কিছু বিত্তশালী মানুষ ছাড়া কেউ ঘটা করে কোরবানি দিতে পারতো না। যা ছিলো খুবই কষ্টকর এবং বেদনাদায়ক। সবাই ঈদের নামাজ অনেক দূরে পড়তে যেতাম। একদিক দিয়ে গিয়ে, অন্য দিক দিয়ে বাড়িতে ফিরতাম। ফলে সারাদিন লাগতো। নামাজ পড়ে এসে হালকা খাবার খেয়ে, একটা ঘুম দিয়ে, ১ টার পরে সবাই কোরবানি দিতে যেতো। এমনকি গরু জবাই করে, মাংস কেটে, সবার মাঝে বিলি করতে। রাত ১০-১২ টা বেজে যেতো। এরপর বাড়িতে ফিরে, চাঁদের আলোয় রান্না করে আমরা সবাই একসঙ্গে খেতাম। যা খুবই আনন্দদায়ক ছিল। মানুষের মধ্যে বড় ধরনের কোনো ঝামেলা ছিলো না। সবার মধ্যে আন্তরিকতা, সরলতা এবং ভালোবাসা সর্বত্র বিরাজমান ছিলো। এখনকার সময়ের মতো কোনো জঙ্গি তৎপরতাও ছিলো না। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ঈদের দিন একে অন্যের বাড়িতে যাচ্ছে। গরু, ছাগল কোরবানি দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের সময়ের সেই আনন্দটা এখন আর নেই। আমি চাই মানুষ কোরবানি দিক, গরু বেচাকেনা করুক। এতে কৃষকসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই উপকৃত হবে, দেশের অর্থনীতি সচল হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে, এতে সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যাবে। সরকারকে সব ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। পরিচিতি : সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com