• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশের ক্রিমিনাল অর্থনীতির দেশীয় মুরুব্বি যেমন আছে আন্তর্জাতিক মুরুব্বিও রয়েছে


বাংলাদেশের ক্রিমিনাল অর্থনীতির দেশীয় মুরুব্বি যেমন আছে আন্তর্জাতিক মুরুব্বিও রয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 30/07/2020

ফারুক ওয়াসিফ

বাংলাদেশ আগে ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ, এটা বলায় অবাক? জ্বি, বাংলাদেশ আর আগের মতো দুর্নীতির খাতার নাম নয়, এটা জালিয়াতির খাতার ওপরের দিকের কুতুব। দুর্নীতির শিরোপায় আর আমাদের কাজ নেইÑ এটা টিআইবিও বুঝে গেছে। চুরি ও ডাকাতির পার্থক্য বুঝতে হবে। চুরিতে বলপ্রয়োগ করা হয় না। এইখানে পুরো ব্যবস্থাই আগাগোড়া দাঁড়িয়ে আছে বলপ্রয়োগের ওপর। বলপ্রয়োগ ঠেকানোর চিন্তা ছাড়া কোনো প্রতিবাদই তাই এখানে অর্থবহ হবে না। এই বলপ্রয়োগের ক্ষমতা তারা নিয়েছে রাজনীতি থেকে, ডান-বাম সব এখানে একাকার। বলপ্রয়োগ মোকাবেলা ছাড়া কোনো পাল্টা রাজনীতিই দাঁড়াবে না। দুর্নীতি থেকে আমরা এখন আরেকধাপ প্রমোশনে হয়েছি ‘ক্রিমিনাল অর্থনীতির দেশ’। বুনো পশ্চিমের গোল্ডরাশের মতো লুটপাটের যে রাশ চলছে, দুর্নীতি এর কাছে দুধভাত। ২০৩০ পারসেন্ট খাইলে বলে দুর্নীতি, শতভাগ খেলে সেটা ডাকাতি। ক্রিমিনাল অর্থনীতিতে এক সাহেদককে খরচ করে শত সাহেদের বীজতলা নিরাপদ রাখা হয়। ক্রিমিনাল অর্থনীতিতে অস্ত্র, নারী, মাদক, খুন এবং ধর্মীয় লেবাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রিমিনাল অর্থনীতির দেশীয় মুরুব্বি যেমন আছে, আন্তর্জাতিক মুরুব্বিও আছে। এই ক্রিমিনাল আর্থিক নেটওয়ার্ক রাজনীতিকে পেটের মধ্যে নিয়ে নিয়েছে। ফলত রাষ্ট্রও সেভাবেই হজম হয়ে যাবার কথা। এদের কাছে মানুষ হলো খরচযোগ্য, নৈরাষ্ট্রের নৈনাগরিক মনে রাখবেন, ক্রিমিনাল অর্থনীতি কেবল লুটই করে না, অসংখ্য মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এই পর্যায়ে বড়রা সম্পদ ট্রান্সফার করতে থাকে, মাইঝা ভাইবোনেরা অবিশ্বাস্য দ্রæততাই সম্পদ বানাতে থাকে। উদ্যোক্তা কথাটার অর্থ হয়ে দাঁড়ায় সম্রাট বা সাহেদের মতো কায়কারবার। অজস্র ক্ষুদে উদ্যোক্তা অস্ত্র ও দায়মুক্তির ক্ষমতায় রক্তের নহর বইতে দিতে রেডি থাকে। ভৌগোলিক কারণে হয়তো এখানে ওয়ারলর্ডটা দেশটা ভাগ করে নিচ্ছে না, কিন্তু স¤প্রসারণবাদ স্থানীয় হাজারো সাহেদদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়। সাহেদ, সম্রাট, সাবরিনা, পাপিয়ারা হলো ক্রিমিনাল অর্থনীতির হাবিলদার পর্যায়ের লোক। দেশটা যখন দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, তখনো একটা সিস্টেম ছিল। সেটা টেন থেকে ফিফটি পার্সেন্ট হলেও জানে মরতো তা অর্থনীতি। কিন্তু এখন কোথাও কোথায় শতভাগই লোপাট করা যায়। হয়তো সম্রাট থেকে সাহেদ পর্বে ভারত-চীনের ভ‚রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার স্থানীয় হাত মোচড়ানির আলামত থাকতে পারে। একই গ্রæপের অন্তর্কোন্দলে সাহেদ ধরা পড়েনি (যদি আসল হয়ে থাকে), তার মুরুব্বিদের এর মাধ্যমে হয়তো কোনো মেসেজ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ভারত-চীন বøকের মধ্যে আরো ঘটা সম্ভব। পার্টিসিপেটির ক্লায়েন্টেলিজম বা প্রতিযোগিতামূলক মুরুব্বিসাগরেদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা একচেটিয়া ক্লায়েন্টেলিজমে একমাত্র মুরুব্বি প্রতিষ্ঠা করে। তাতে রাজনৈতিক ব্যবস্থা আরও ধ্বংস হয়ে রাষ্ট্রটা অধিগ্রহণের পর্যায়ে চলে যায়। তাহলে হাতে রইল কী? হাতে কিছুই রইল না। পতাকা দিয়ে জনগণের মুখটা বান্ধা হয় আর পশ্চাতদেশের ছিদ্র ভরাট করে থাকে পতাকাদÐ। মাইনাস টুয়ের খেলার পরিণতি হলো এই ঠগীতন্ত্র। বলতে পারবেন না যে, আমরা অজ্ঞান অবস্থায় ধরা খেয়েছি। দশ কোটিরও বেশি সাবালক মানুষের জাতি বলতে পারে না যে, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম আর এক চোর আমাদের বস্তায় পুরে বেচে দিয়েছে। আমাদের মধ্যবিত্তের আলোকিত অংশটি সজ্ঞানে বস্তাকে আলোকিত সামিয়ানা ভেবেছিল, এখনো অনেকে ভাবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com