• প্রচ্ছদ » » কোভিডের বিদায়, আমাদের অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং সাগর শয্যা


কোভিডের বিদায়, আমাদের অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং সাগর শয্যা

আমাদের নতুন সময় : 13/09/2020

কাকন রেজা : আরেকজন ডাক্তার মারা গেলেন কোভিডে। গেলেন একাত্তরের আরেক বীর যোদ্ধা। প্রতিদিনই যাচ্ছেন। প্রকাশ্য আর অপ্রকাশ্য দুই ধরনের মৃত্যুই রয়েছে। খ্যাত কেউ হলে প্রকাশ্য হয়, সাধারণেরা থেকে যান আড়ালে-আবডালে। আবার কেউ স্বীকৃতই হন না কোভিড আক্রান্ত বলে। বলা হয় নিউমোনিয়া কিংবা অর্গান ফেইলিউরে এক্সপায়ার হয়েছেন। এক্সপায়ার্ড একটা ব্যবস্থার কাছ থেকে আর কি ভালো ভাষ্য আশা করা যায়! আমার নিজের জেলা শেরপুরে যখন লিখছি সরকারি ভাষ্যে কোভিডে মৃতের সংখ্যা নয়। অথচ আমার এক আত্মীয়সহ কোভিড আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা গেছেন আরো তিন জন। যাদের শেরপুর থেকেই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিলো। তাদের দুজনকে সরকারি হিসাবে যুক্ত করা হয়নি। বলা হয়েছে তারা ঢাকায় পজেটিভ হয়েছেন তাই তাদের ঢাকার হিসেবে যোগ করা হয়েছে। শুভংকরের ফাঁকিটা এখানেই। অর্থাৎ ঢাকায় তাদের হিসাব রাখা হলো কিন্তু জেলার হিসাব থাকলো শূন্য। এমন ফাঁকির প্রকাশ্য কোনো শক্ত ব্যাখ্যা নেই। থাকলেও হয়তো দেওয়া সম্ভব নয়। কেন নয়, তা বোঝা গেলেও, সেটাও বলা সম্ভব নয়। কোভিডের কাজ কী, এমন প্রশ্নের প্রথম উত্তর হলো দেহের ইমিউন সিস্টেমের বারোটা বাজিয়ে দেওয়া। যার ফলে মাল্টি অর্গানে এর প্রভাব পড়ে। হৃদপিন্ড, কিডনি, ব্রেইন যা কিছু দুর্বল তারই বারোটা বাজিয়ে দিয়ে মৃত্যু ঘটায় এ রোগটি। আর ফুসফুস তো তার নিজস্ব আক্রমণ ক্ষেত্র। হয়তো কিছুদিন পর কোভিড চলে যায় কিন্তু ক্ষতি যা করার তা করে যায়। মানুষ মারা যায় হার্ট অ্যাটাকে, ব্রেইন স্ট্রোকে, কিডনি ফেইলিউরে, নিউমোনিয়ায়। এমন মৃত্যু সরকারি হিসাবে ওঠে না। কারণ তাদের কোভিড নেগেটিভ ছিলো! কী বিচিত্র চিন্তা, বিচিত্র ব্যাখ্যা। বলা হলো, বাংলাদেশ থেকে কোভিড চলে যাচ্ছে। এমন বক্তব্য প্রায় সাথেই সাথেই প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষার হার কমে যাওয়া মানে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়া নয়। মৃত্যুর ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া মানেই মৃত্যুর হার কমে যাওয়া নয়। তবে সত্যি কোভিড চলে যাচ্ছে এবং তা গণমাধ্যম থেকে। প্রথমে যেভাবে কোভিডে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর গুরুত্ব পেতো এখন তার কিয়দংশ বিদ্যমান। সরকারি বুলেটিনটাও বন্ধ। এ দিক দিয়ে দেখতে গেলে কোভিডের উধাও হবার বক্তব্যটি মিথ্যে নয়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে এমন বক্তব্য গ্রাহ্য নয়। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com