• প্রচ্ছদ » » পাইকারী সিন্ডিকেটের ‘ইবলিশ’, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্যদের আড়াল করে সব দায় আমরা চাপাচ্ছি ভারতের উপর, কিন্তু কেন?


পাইকারী সিন্ডিকেটের ‘ইবলিশ’, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্যদের আড়াল করে সব দায় আমরা চাপাচ্ছি ভারতের উপর, কিন্তু কেন?

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2020

মঞ্জুরুল হক : পেঁয়াজ যখন একটা দেশের টক অব দ্য কান্ট্রি রূপে মিডিয়ার স্ক্রুপ আইটেম হয়ে ওঠে, তখন দেশটির প্রশাসনের সামগ্রিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ হয়ে পড়ে। ভারত কার্ড এদেশের অনেক পুরনো খেলা পাকিস্তান আমলে কোনো কিছু হলেই ভারত কার্ড খেলে দিতো (এখন যেমন ভারতে কিছু হলেই ভারত সরকার পাকিস্তান কার্ড খেলে দেয়) তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও বিপুল উৎসাহে নিজেদের বোকামি-ন্যাকামি আর অপেশাদারিত্বের ক্ষত লুকোনোর জন্য ভারত কার্ড খেলে দেওয়া হয়।
[১] ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে ১৩ তারিখে। সেই খবর ভারতীয় স্থলবন্দরগুলোতে পৌঁছেছে ১৪ তারিখ সকালে। তখন থেকেই পেঁয়াজের ট্রাক এপারে ঢোকেনি। দেশের বৃহত্তম পাইকারিবাজার খাতুনগঞ্জে ১৪ তারিখ সকালে যে পেঁয়াজ ৩০ বা ৪০ টাকা, সেটাই দুপুরের পর ৫০ বা ৬০ টাকা। টিভি চ্যানেল ওলারা সেটাকে ‘স্ক্রুপ আইটেম’ বানানোর সাথে সাথে আজকে ১৫ তারিখ সেই পেঁয়াজ ৯০ বা ১০০ টাকা। [২] সলিড বাস্তবতা হলো স্থলবন্দর দিয়ে ওই ট্রাক খালাস হয়ে খাতুননগঞ্জ বা ঢাকার চকবাজারে পৌঁছাতে সময় লাগতো কমপক্ষে ৩ দিন। অর্থাৎ ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি হওয়ার কথা আরও কমপক্ষে এক সপ্তাহ পরে। কারণ দেশের চাহিদার ৬০ শতাংশ দেশেই উৎপন্ন হয়। তাহলে সেই পেঁয়াজ কার গাঁড়ে গাঁড় পেঁয়াজী করতে গেছে, উত্তর নেই।
[৩] খাতুনগঞ্জের হাজিসাবরা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টগবগে ঘিলু মস্তিষ্ক গুলো বলছে। আমরা ভারতকেই বয়কট করবো। অন্য বিকল্প দেশ পাকিস্তান, তুরষ্ক, মিয়ানমার থেকে আনব। সলিড রিয়েলিটি হলো গত বছরও ভারত সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিলো। সেবারও হাজি সাবরা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লোকেরা একই কথা বলেছিলো। কিন্তু কার্যত কিছুই করেনি। মানুষকে টানা ৪ মাস অগ্নিমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। [৪] ভারত বলেছে, বন্যায় রাস্তা ভেঙে গেছে, উৎপাদন কম হয়েছে, কোভিডে যোগাযোগ ব্যহত হয়েছে। তাই রপ্তানি বন্ধ করেছে। এদিকে আমরা ইলিশ মাছের উপহারকে পেঁয়াজের সাথে মিলিয়ে ভারত কার্ড খেলে দিয়ে কী করছি? পাইকারী সিন্ডিকেটের ইবলিশ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্য লোকগুলোকে আড়াল করে সব দায় চাপাচ্ছি ভারতের ওপর, কেন? ভারত কী আপনার কাছে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে বাধ্য, মোটেই নয়। পেঁয়াজের মতো পচনশীল মশলা কোনো চুক্তি বলে আমদানি-রপ্তানি হয় নয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কেনা-বেঁচা চলে। এখানে উৎপাদক বা সাপ্লায়ার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ব্যাতিরেকে রপ্তানি বা আমদানি বন্ধ করতে পারে। তারা তাদের স্বার্থই আগে দেখবে। [৫] এবার এই র‌্যাপিড প্রশ্নগুলো ভাবি এবং উত্তর খুঁজি।
(ক) প্রতি বছর বিশেষ করে গত বছর ঠিক এই সময়ে একই রকম ঘটনা ঘটার পর সরকার কেন আগাম প্রস্তুতি রাখলো না? (খ) ভারত না বলে বন্ধ করেছে, অভিযোগটা কোনো পেশাদার বক্তব্য নয়। দীর্ঘ মেয়াদের চুক্তি ছাড়া বাজার অর্থনীতিতে উৎপাদক ভোক্তা যে কেউ পণ্য সরবরাহ কিংবা পণ্য ক্রয় বন্ধ করতে পারে। তাকে নোটিশ দিতে হয় না। (গ) ২৫ লাখ মেট্রিক টনের ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন দেশে উৎপন্ন হয়। সেই পেঁয়াজের খোঁজ মন্ত্রণালয় জানে না কেন? (ঘ) টিসিবির মাধ্যমে যে ৩০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, তার ভলিউম বাড়ল না কেন। (ঙ) পেঁয়াজের ওপর থেকে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করলেন, যেন ইম্পোর্ট কস্টিং কম থাকে। তাহলে কী করে বলছেন, আগে থেকে জানেন না। (চ) ভারত না হয় আপনাদের ভাষায় (বিমাতা সুলভ আচরণ করেছে), তারা বন্ধ করার পর পরই পাকিস্তান, তুরস্ক, মিয়ানমার, চীন কেন এক্সপোর্ট প্রাইস বাড়িয়ে দিলো, তারাও বিমাতা হলে আপনাদের বন্ধু কে।
(ছ) বাজার অর্থনীতিতে সরকার বাজারের নিয়ন্ত্রণ করে না, এটা নীতি। কিন্তু বাজার যেন দেশদ্রোহী সিন্ডিকেটের কবলে না পড়ে, সেটা দেখতে তো নিষেধ নেই। সেটা দেখলেন না কেন। কেন টোটাল বাজার ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের হাতে? এই প্রশ্নগুলোর একটিরও উত্তর আমাদের জানা নেই। প্রশ্ন করলেও সংশ্লিষ্ট মহল দিতে পারবে না। এই এক কার্ড আর কতো। শফি হুজুর ‘ভারত কার্ড’ খেলে দিয়েই দিল্লি হাসপাতালে গিয়ে শুয়ে পড়েন। প্রিয় দর্শনী ইন্দিরার হুকুমে চারু মজুমদার, সরোজ দত্তসহ হাজার হাজার নকশালী খুন হলে আপনারা টু শব্দ করেন না। শুধু কাশ্মীরে গুলি চললে ভাবিত হন। মনিপুরে, বস্তারে, জঙ্গল মহলে, পূর্ব মেদনী পুরে নির্বিচারে এনকাউন্টার হচ্ছে, আপনাদের মুখে কুলুপ আঁটা। সীমান্তে মানুষ মরছে আপনারা বলছেন, কমিয়ে আনা হচ্ছে। মোদী-অমিত শাহ গং এনআরসি, সিএএ দিয়ে উপমহাদেশের মানুষের সাথে যে নির্মমতা করে চলেছে, আপনারা যেন জানেনই না। কিছুদিন পর যে আসাম থেকে হাজার হাজার বাঙালি বিতাড়িত হয়ে, বাংলাদেশে চলে আসবে তা নিয়ে কোনো হেলদোল নেই। অথচ কী অদ্ভুত ভাবে একটা ফালতু ক্রিকেট ম্যাচ বা এইসব পেঁয়াজ-রসুন-আদা নিয়ে কী মাতম। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]