[১]শিবচরে পদ্মায় ইলিশ ধরা বন্ধে বিশেষ নজরদারী প্রশাসনের

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2020

ইমতিয়াজ আহমেদ : [২] ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকছে ইলিশ শিকার। অসাধু জেলেরা গোপনে যাতে ইলিশ ধরতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি থাকছে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে। এছাড়াও ইলিশ বিপনন, মজুদও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় হাটবাজারেও প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতা থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। [৩] জানা গেছে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে ইলিশ শিকার। এ মৌসুমে ইলিশ মাছ না ধরতে জেলেদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে মাদারীপুর জেলার সর্বত্র সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে আসছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ। এছাড়াও মাছ ধরা বন্ধের এই সময়টুকুতে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ইতোমধ্যে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
[৪] স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে শিবচরের পদ্মার দূর্গম স্থানে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা গোপনে ইলিশ শিকার করে। এসকল ইলিশ পদ্মা নদীর চরাঞ্চল থেকে সাধারন মানুষের কাছে বিক্রি করে এবং চরের মাটিতে গর্ত করে সংরক্ষণ করে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে শিকার করা ইলিশ সস্তায় বিক্রি করে জেলেরা। [৫] এ সময়ে ইলিশ মাছ কিনতে পদ্মার চরাঞ্চলে ভিড় জমায় অনেকেই। উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও বন্দোরখোলা ইউনিয়নের দূর্গম চরাঞ্চলে ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে ‘ইলিশের হাট’ বসে! কমদামে ইলিশ কিনতে পারায় দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করে পদ্মার পাড়ে।
[৬] শিবচর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ শিকার কঠোর হাতে দমন করবে প্রশাসন। গত মৌসুমেও প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে অসাধু জেলে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাজা দিয়েছে। এবছর আরোও কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। ইলিশ ধরা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত চলবে পদ্মায়। [৭] শিবচর উপজেলা মৎস অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় ইলিশ শিকারি জেলেদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইলিশ মাছ না ধরতে তাদের নিয়ে একাধিক সচেতনতামূলক সভায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলায় ৩ হাজার ৮০ জন জেলের তালিকা করা হয়েছে। যাদেরকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে এই বন্ধের সময়ে। এছাড়া, শিবচরে অতিরিক্ত ৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

[৮] উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা এটিএম সামসুজ্জামান বলেন, ‘ইলিশ শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন বন্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় অতিরিক্ত ৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়েছেন শুধু শিবচরের জন্য। এছাড়াও আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড তো রয়েছেই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ইলিশ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাবো।’




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]