• প্রচ্ছদ » » আপনি কেন মাদরাসায় শিশু বলাৎকার ইউটিউবে ওয়াজের নামে যা-তা বলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব নন?


আপনি কেন মাদরাসায় শিশু বলাৎকার ইউটিউবে ওয়াজের নামে যা-তা বলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব নন?

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2020

মোজাফ্ফর হোসেন : অনুসারির সংখ্যা অনুপাতে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্ম ইসলাম হলেও কট্টর বিশ্বাসের জায়গা থেকে এটাই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ধর্ম হওয়ার কথা। সম্ভবত পৃথিবীতে দুশ কোটির মতো মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সপ্তম শতক থেকে এর অনুসারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যেখানে পৃথিবীর হাজার হাজার ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরেও আমাদের দেশের বিশ্বাসী মুসলমানরা ইসলামের ইনসিকিউরিটিতে ভোগেন কেন বুঝি না। কোটি কোটি মানুষের বিপরীতে একজন মানুষ ইসলামী কৃষ্টির সামান্য সমালোচনা করলেই খুন করা দায়িত্ব মনে করে। সেটা করেও। কিন্তু আমার প্রশ্ন সে জায়গাতেও না। যখন দেখি ইসলাম ধর্মের কোনো আচার বা শেষ নবীর সমালোচনা নয়, সামান্য কোনো আতিপাতি ভÐ হুজুরের সমালোচনা করলেও লক্ষ কোটি মুসলমানের হৃদয় কেঁপে ওঠে, রাগে গরগর করে, তখন আশ্চর্য না হয়ে পারি না। ইউটিউবে অধিকাংশ ওয়াজি যে সব ভিত্তিহীন, নারী বিদ্বেষমূলক, সা¤প্রদায়িক কথা বলে, তাতে স্বয়ং আল্লাহর লজ্জা পাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই অনেকে মনে করেন ইসলামের ভিত্তি বুঝি কেঁপে গেলো। এমনকি মাদরাসায় ধর্ষণের মতো বিষয়ের প্রতিবাদও করা যাবে না। ধর্ষণ কী ইসলাম সাপোর্ট করে, কখনোই না। মোটেও না। তাহলে হুজুর লেবাসে কেউ ধর্ষকের ভ‚মিকায় আসলে তাকে বাঁচানোর দায় কেন? যখনই মাদরাসায় ছেলে শিশু বলাৎকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে যাই, তখনই হাজার হাজার মানুষ (মুসলমান) বলতে আসে, ‘অন্য কোথাও যে ধর্ষণ হয়, সেটা চোখে পড়ে না। আচ্ছা, মাদরাসার হুজুরদের ধর্ষণই নিয়েই যদি খালি বলি, তাতে সমস্যা কোথায়? ইসলামি সংস্কৃতিতে তো প্রাইমারি স্কুলের চেয়ে মাদরাসা বেশি নিরাপদ হওয়ার কথা। বিশেষ করে শিশুদের যৌন-নিরাপত্তার প্রশ্নে। ইসলামে বিবাহবহিভর্‚ত পরস্পর সম্মতির মিলনকেও সমর্থন দেয়নি, ধর্ষণ তো দূরের কথা। আর সমকামিতার জন্য একটা গোটা জাতিই ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ সমকামিতার জন্য লুত (আ.) পুরো জাতি নদীর নীচে তলিয়ে দিলেন, আর মাদরাসার একজন পায়ুকামী ধর্ষক হুজুরের বিরুদ্ধে আমি বলতে পারবো না। পশ্চিমে সমকামি প্রেমের বিরুদ্ধে বললে বাহবা, কিন্তু দেশে হুজুর দ্বারা ছেলে শিশুকে বলাৎকারের ঘটনা চেপে যেতে হবে, কেন? বললে কি ইসলাম ইনসিকিউরিটিতে পড়ে যাবে, শতকোটি মানুষের বিশ^াস নড়ে যাবে? কথাগুলো বলছি এমনি এমনি না। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি, আমরা সব ধরনের ধর্ষণের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করে আসছি। সব ধরনের ঘুষখোর, সুদখোর, দুর্নীতিপরায়ণ মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলি। কিন্তু যখনই মাদরাসার শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করি তখনই কিছু মানুষের (মুসলমানের) আঁতে লাগে। যখনই ভÐ ওয়াজিদের বিরুদ্ধে বলি, তখনই কিছু মানুষের (মুসলমানের) আচরণে মনে হয় বাংলাদেশের ইসলাম ঝুঁকিতে পড়ে গেলো। আচ্ছা, বলেন তো, ইসলামের প্রকৃত শত্রæ কেউ একজন অসৎ ভÐ ধান্দাবাজ, যে ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্মের পোশাকে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে যাচ্ছে, নাকি সে যে এই ধান্দাবাজের পেছনে লেগে আছে। ধরুন যে লোকটা ধান্দাবাজ হুজুরের পেছনে লেগেছে সে ইসলাম ধর্মীয় পোশাকে বা ধার্মিক পরিচয়ে নেই, তাতে তো তার অভিযোগ মিথ্যা হয়ে গেলো না। তাতেও যদি সমস্যা মনে হয়, তাহলে আপনি তো ইসলামধর্মীয় লেবাসে আছেন। আপনি কেন মাদরাসায় শিশু বলাৎকার, ইউটিউবে ওয়াজের নামে যাতা বলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব নন। ইনসিকিউরিটি, অস্তিত্বের সংকট, কার। ইসলাম ধর্মের, না আপনার বিশ^াসের? মাদরাসার ভেতরে যখন কোনো শিশু ধর্ষণের শিকার হয় তখন দোষটা মাদরাসার ওপর না নিলেই হয়। ওই ভÐ হুজুররকে ধরেন। একটা না, শয়ে শয়ে ধরেন, অটোমেটিক ঠিক হয়ে যাবে। বরং স্থানীয় মাদরাসা বলে, ধর্ষকের ভ‚মিকায় হুজুর বলে, সেটি নিয়ে আলোচনা না করে আপনি সাময়িকভাবে মাদরাসার মান রক্ষা করছেন বলে মনে হলেও আপনিই কিন্তু মাদরাসাকে অপমান করলেন। আপনিই কিন্তু পরোক্ষভাবে ধর্ষকের পক্ষ নিলেন। ধর্ষণের মতো ঘটনায় আপনার মৌনতা কি ইসলাম সাপোর্ট করে, সেটা মসজিদ মাদরাসা যেখানেই হোক। আপনি কখনো কখনো এতোই নীরব যে আপনি জানেনই না মাদরাসায় নিষ্পাপ শিশুরা ধর্ষণের শিকার হয়। চীনের কেন জঙ্গলে মুসলমানদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে? এমন অপ্রকাশিত খবরও উদ্ধার করে ফেলেন, আর দেশের এই প্রকাশ্য খবরগুলো আপনার চোখে পড়েই না। একটা শিশুর চিৎকারে যদি মাদরাসার প্রাণহীন মাটিও কেঁপে ওঠে, আপনার হৃদয় কেঁপে ওঠে না। সমস্যা কোথায়, ইনসিকিউরিটি, কার? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]