• প্রচ্ছদ » » আর শুনতে চাই না ‘ধর্ষণ’ নামক ধ্বংসাত্মক শব্দটা


আর শুনতে চাই না ‘ধর্ষণ’ নামক ধ্বংসাত্মক শব্দটা

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2020

শর্মী ভৌমিক : পর্দা কিংবা বিয়ে করলেই ধর্ষণ থেমে যাবে, এমন কথার কোনো ভিত্তিই নেই আর। এ যাবৎকালে যা দেখেছি, পর্দা করা মেয়েরাই বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিবাহিত পুরুষেরাই বেশি ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছে। ছয় মাসের শিশুকেও ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব বয়স্কা মহিলাকেও ধর্ষণ করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হলো, কচিকাঁচা কিশোর বালকগুলোও অহরহ বলাৎকারের শিকার হয়ে আসছে! যারা পর্দা পর্দা বলে ধর্ষণকে উৎসাহিত করে চলেছেন, মূলত তারাই প্রকৃত ধর্ষক। আর বিয়ের কথা বললেই তো বিয়ে করা যায় না, এ সমাজে স্ত্রীকে খাওয়া-পরার নিশ্চয়তাও দিতে হয় একজন পুরুষকে। সেক্ষেত্রে, জৈবিক পীড়নের সমাধান কী হতে পারে, দয়া করে একটু ভেবে দেখবেন। প্রকৃতিকে অস্বীকার করার জো নেই কারোর। হাতে হাতে পর্নোগ্রাফি তুলে দিয়ে ধর্ষণ বন্ধের গান গেয়ে কী লাভ হবে! তদুপরি, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যদি মৃত্যুদÐ করা হতো, তাহলেও ধর্ষণ কম হতো কিংবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু এ ব্যাপারে বিচার বিভাগের তড়িৎ কোনো সিদ্ধান্তের দেখা মিলছে না। ফলে অপরাধীরা আস্কারা পেয়ে পেয়ে ক্রমাগত অপকর্ম করেই চলেছে। অপরাধ করে যদি শাস্তি ভোগ না করতে হয়, তবে অপরাধ করতে অসুবিধা কোথায়? ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের কঠিন শাস্তির বিধান লিপিবদ্ধ করে তা দ্রæত কার্যকর করা উচিত দেশের বিচার বিভাগের। প্রশাসনকে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করা অতীব দরকার। প্রশাসন হলো সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। এটা প্রশাসনকে ভুলে গেলে চলবে কী? সকল অপরাধের বিষয়ে আবার সরকারকে দায়ী করলেও চলে না। সকল দায় তার নয়। পরিবার, সমাজ, সংগঠন এগুলোকেও সক্রিয় হওয়া আবশ্যক। মানুষ প্রথমে পরিবার থেকেই শেখে। এ দায় পরিবার কিছুতেই এড়াতে পারে না। আমাদের সন্তানেরা কী করে, কোথায় যায় এসব বিষয়ে আমাদেরকেই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। মানবতার আলো তাদের হৃদয়ে জ্বেলে দেবার দায়িত্বটুকু তো আমাদেরই। শুধু সন্তান জন্ম দিলেই হয় না, তাকে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটাই মুখ্য বিষয়। দশটা সন্তান জন্ম দিয়ে অমানুষ না বানিয়ে একটা সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারাটাই বাবা-মায়ের সার্থকতা। আর যদি নিতান্তই অবাধ্য, অমানুষ হয়ে পড়ে কোনো সন্তান, তবে তাকে মায়া না করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়াই শ্রেয় বলে মনে হয় আমার। কারণ দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়ালই উত্তম। অপরাধ করবে আর শাস্তি পাবে না, তা কী করে হয়। তা হতে দেওয়া একদমই উচিত নয়। শাস্তি ব্যতিরেকে অপরাধীকে শুদ্ধ করা এই যুগে একদমই অসম্ভব। আমি বক ধার্মিকতাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করি। ধর্মকে ব্যবহার করে যারা নীরবে অপরাধ করে চলেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আইওয়াশ, ব্রেইন ওয়াশের পথগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। প্রকৃত ধর্ম যার যার ঘরে বসেই করা যায়, এর জন্য দল গঠনের প্রয়োজন হয় না। মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার প্রয়োজন পড়ে না। ধর্মের ঢোল পেটাতে জনসমাবেশে নারীদের চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে হয় না। নারীর প্রতি এহেন বিদ্বেষমূলক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এগুলো প্রশাসন কিংবা সরকারের অজানা নয়, তবুও কেন ভার্চুয়ালি এমন অনাচার করার সাহস পাচ্ছে সেইসব কুশিক্ষিত বক ধার্মিকেরা? বোধগম্য নয়! দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করে প্রতিনিয়তই দেশের মান ক্ষুন্ন করে চলেছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। সরকারকে এ ব্যাপারে তৎপর হওয়া খুবই জরুরী। জনগণকে নিয়েই সরকার। জনগণের জীবনের নিরাপত্তা বিধান সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ। এ দায়িত্ব এড়িয়ে সরকারের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ জীবন বাজি রেখে এ দেশকে পাক হায়েনাদের কবল থেকে মুক্ত করেছেন। লাল-সবুজের বাংলাদেশ তাঁকে ছাড়া কোনোদিনই আমরা পেতাম না। সেই লাল-সবুজের চেতনার রংয়ে দিন দিন কালিমার আঁচড় পড়ছে! এ থেকে মুক্তি চাই। প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাকে আর ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবো না আমরা। দুষিত রক্তের বীজগুলো এখনো বয়ে চলেছে দুঃখিনী বাংলার সব জায়গায়। বীর বাঙালিকে এসব নষ্ট, পঁচা বীজগুলোকে উপড়ে ফেলতে হবে। আর শুনতে চাই না ‘ধর্ষণ’ নামক ধ্বংসাত্মক শব্দটা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]