• প্রচ্ছদ » » ধর্ষকদের ২০ শতাংশ হয়তো কোনো দল করে না, বাকি সবই সরকারি দলের লোক [২] ঐক্যফ্রন্টের বিরোধিতা করছি না, তবে ফ্রন্টের সক্রিয় থাকা উচিত ছিলো [৩] একটা চ‚ড়ান্ত স্বৈরাচারী থাবার সামনে আমরা টিকতে পারিনি [৪]মানুষ জেগে উঠলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে [৫]বিএনপি ও বামদের সমালোচনা করতে চাই না, কারণ তাদের বেশি সমালোচনা করলে আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়!


ধর্ষকদের ২০ শতাংশ হয়তো কোনো দল করে না, বাকি সবই সরকারি দলের লোক [২] ঐক্যফ্রন্টের বিরোধিতা করছি না, তবে ফ্রন্টের সক্রিয় থাকা উচিত ছিলো [৩] একটা চ‚ড়ান্ত স্বৈরাচারী থাবার সামনে আমরা টিকতে পারিনি [৪]মানুষ জেগে উঠলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে [৫]বিএনপি ও বামদের সমালোচনা করতে চাই না, কারণ তাদের বেশি সমালোচনা করলে আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়!

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2020

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভ‚ঁইয়া আশিক রহমান

[৬] ধর্ষকদের ২০ শতাংশ হয়তো কোনো দল করে না, কিন্তু বাকি সবই সরকারি দলের লোক। সরকারি দল বা এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। অন্য কোনো দলের কারও নাম এসেছে? আসেনি। সরকারি দলের মধ্যে এই ধর্ষকেরা ছিলো। এমনও নয় যে, এই ধর্ষকেরা লুকিয়ে ছিলো কোথাও। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সিলেট এমসি কলেজে শিক্ষার্থীরা কীভাবে থাকে? ধর্ষণ করা হচ্ছে জেনে পুলিশ গেছেও, ঢোকার অনুমতি পায়নি! মধুর ক্যান্টিনে ঢুকতে অনুমতি লাগে না। গ্রেপ্তার করতেও অনুমতির দরকার হয় না। অথচ সিলেট এমসি কলেজে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। নোয়াখালির দেলোয়ারকে আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গণপিটুনির শিকার হয়েছে। কিন্তু ২৯ ডিসেমবরের রাতের ভোটের সময় সে-ই নেতৃত্ব দিয়েছিলো। সেই থেকে তার উত্থান।
[৭] মানুষ ধর্ষণ করে না, ধর্ষণ করে ক্ষমতা। ক্ষমতা অর্থের হতে পারে, পেশীশক্তির হতে পারে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও হতে পারে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মদদে নোয়াখালির দেলোয়ার এক বছর আগে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছিলো। নির্যাতন করেছে। একবছর আগে থেকে ওই নারী নির্যাতিত হয়ে আসছে, কেউ জানতো না, তাতো হতেই পারে না। রাষ্ট্রের সব অনিয়ম একসঙ্গে করে বললে বলতে হবে, ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মধ্যে আছে এখন দেশ।
[৮] বিএনপির এখন কী করার আছে? আলাদাভাবে আমি দলটির সমালোচনা করতে পারি, বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। সেটা অন্য টপিক। এটা এর সঙ্গে আসছে না। ফ্যাসিজম, স্বৈরতন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র হোকÑ এর মধ্যেই বিরোধী দল তার নিজস্ব ভ‚মিকা পালন করবে। এটা কখনো পারছি, কখনো পালন করতে পারছি না। এমনটি হতেই পারে। ওসি প্রদীপ একবছরে ১০২টি খুন করেছে। যারা মাদক ব্যবসায়ী তাদের ক্রসফায়ারে দেওয়ার কি কোনো আইন আছে দেশে? মাদকের ঘটনায় বদি চিহ্নিত, তার তো কোনো কিছু হয়নি। চার বছরের সাজা চার খেটে বেরিয়ে গেছেন। এসব ঘটনার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করবো কেন? এসবের জন্য সরকার দায়ী, তাদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। [৯] আমি আমার কথা বলতে পারি। এখানে যে সবার চিন্তা এক তা নয়। সবার চিন্তা যদি এক না হয়, তাহলে একক কোনো কর্মসূচি হয় না। এসব জবরদখলকারী ক্ষমতার কারণে হয়েছে। সরকার একটা লোককে ধর্ষণ করার কথা শিখিয়ে দিচ্ছি তা বলছি না, কিন্তু জবর দখল পুলিশকে দিয়ে করিয়েছে সরকার! নুসরাতের সময়ও সত্যি ছিলো, সুবর্ণচরের সময়েও সত্য ছিলো, এমসি কলেজের ঘটনার সময়েও সত্যি ছিলো এবং নোয়াখালির ব্যাপারেও সত্যি। সমস্ত মূল্যবোধ গুড়িয়ে যাচ্ছে, যখন দখলদাররা ক্ষমতায় আছে।
[১০] সর্বোচ্চ সাজার বিধান ধর্ষণ বন্ধ করতে পারবে, এমন কোনো গ্যারান্টি কিন্তু নেই। কেন? কারণ ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা করেছেন আইনজীবীরা। আরও সাতটি ধারা আছে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে, যেখানে অপরাধীর ফাঁসির সুযোগ আছে। তবুও ধর্ষণ বন্ধ হয়নি। যা বলি তার কিছুই মানে না সরকার, আমরা তো পরামর্শ দিতে যাবো না। পরামর্শ হচ্ছেÑ আপনারা যান। জনগণের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় আছেন আপনারা, আপনাকেই বের করতে হবে কীভাবে ধর্ষণ বন্ধ হবে। না পারলে ক্ষমতা থেকে সরে যান, দেখুন আমরা পারি কিনা। [১১] যে কারও সঙ্গে কথা বলেন, সরকারের প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন দেখবেন। আপনি বাসে যান, লঞ্চে উঠেন, স্টিমারে যান, কোনো একটা ভিড়ে কথা তোলেন, দেখেন কী প্রতিক্রিয়া দেয় মানুষ। ভোটই হতে দেয় না সরকার। ভোটের দিন বেরই হতে পারিনি। যেদিন ক্ষমতা থেকে যাবে সেদিন তাদের কাউকেই দেখা যাবে না। এটাই বাস্তবতা। [১২] সামাজিক আন্দোলন হচ্ছে না কোথায়? রাত বারোটায় নারীরা মিছিল নিয়ে রাজপথে কাঁপাচ্ছেন। পাকিস্তান আমল থেকে এ পর্যন্ত কোনোদিন এভাবে নারীরা মিছিল বের করেনি! আমরা তো ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন করছি। করোনাকেও পাত্তা দিচ্ছি না। করোনার শুরুর পর থেকে আমরা অল্প কয়েকজন নেতা মাঠে ছিলাম, কিন্তু এখন আমি একা নই, অনেকেই আন্দোলনে যাচ্ছেন। সমর্থন দিচ্ছেন। মানুষ নামছে, মানুষ আরও নামবে। জনস্রোত তৈরি হবে।
[১৩] ঐক্যফ্রন্টের কোনো কর্মকাÐ এখন নেই কেন? ঐক্যফ্রন্ট এখনো আছে, কিন্তু তা নিষ্ক্রিয়। এ নিয়ে বসিই না, কী পরিকল্পনা করবো? আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলবো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন লাগবে। ঐক্যফ্রন্ট থাকুক, বড় হোক, অন্যান্যরাও আসুক এই জোটে। যাকে যেভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা যায় তা করতে হবে। ঐক্যফ্রন্টের বিরোধিতা করছি না। তবে ফ্রন্টের সক্রিয় থাকা উচিত ছিলো, সেটা নেই। [১৪] ঐক্যফ্রন্ট ব্যর্থ হয়েছে, কারা বলছেন তা আপনি জানেন, জানি আমরাও। এটা ঠিক বিএনপির মধ্যে কেউ কেউ এমনটি বলে থাকেন। কিন্তু মূলত এই কথাটি সরকার বা সরকারি দল বলে থাকে। আওয়ামী লীগের মধ্যে এতো বিএনপি বিশেষজ্ঞ, ঐক্যফ্রন্ট বিশেষজ্ঞ, ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপির লোকজনও এতো নিজেদের চিনে না যতো আওয়ামী লীগ পক্ষের লোক চিনে! আমরা যেজন্য ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম, তা সফল ছিলো। গণজাগরণ বলতে যা বোঝায়, সেটি হয়েছিলো। তবুও ভোট ডাকাতি ঠেকাতে পারিনি। কারণ আমাদের রাতের ভোট ঠেকাতে যুদ্ধের প্রস্তুতি ছিলো না। আমরা গণঅভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছি, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো। ভোট হলে ভেসে যেতো সরকারি দল। মানুষ দলে দলে ভোট দিতে গিয়েছিলো, কিন্তু গিয়ে দেখে ভোট আগেই দেওয়া শেষ করে ফেলেছে। একটা চ‚ড়ান্ত স্বৈরাচারী থাবার সামনে আমরা টিকতে পারিনি। [১৫] এখন মানুষ অনেক সচেতন। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি অপশাসন নিয়ে কথা বলছে। ব্যাপক ভিত্তিতে মানুষের একটা জাগরণ দেখা যাচ্ছে। মানুষ জেগে উঠলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আপনাকে লড়াই করে অপশাসনের বিরুদ্ধে জিততে হবে। এই ভোট হয়, এসবের কোনো মানে আছে? বিএনপি কী কারণে বিতর্কিত ভোটে অংশগ্রহণ করে জানি না। গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।
[১৬] এই দুঃসময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপিকে তো মোচড় দিতেও দেখছি না। তাহলে ঘুরবে কীভাবে? কেন দেখছি না? আমি এতো জানি না। তবে তারা ভয় পায়, লোভী, সরকারের সঙ্গে লিঁয়াজো করে এরকম কতো কথাই তো আছে তাদের নিয়ে, তা আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে এখন বিএনপির আরও বড় ভ‚মিকায় থাকা উচিত ছিলো। দলটির নেতাকর্মীরা কিন্তু এখন মাঠে নামছে। বৃষ্টির মধ্যেও মিছিল করছে। বিক্ষিপ্তভাবে মাঠে নামছে, কিন্তু দলগতভাবে রাজপথে নামছে না। কারণ কী আমি জানি না। [১৭] বামদের সমালোচনা করতে চাই না, বিএনপিরও সমালোচনা করতে চাই না। কেন? কারণ তাদের বেশি সমালোচনা করলে আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। আওয়ামী লীগকে কোনো সুযোগ আমি দিতে চাই না! সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]