• প্রচ্ছদ » » ধার্মিক মানুষের ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমন ধর্মীয় প্রথা বা উৎসবের সার্বজনীন হওয়াও সম্ভব নয়


ধার্মিক মানুষের ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমন ধর্মীয় প্রথা বা উৎসবের সার্বজনীন হওয়াও সম্ভব নয়

আমাদের নতুন সময় : 26/10/2020

রাজিক হাসান : ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’Ñ এটা আপাত দৃষ্টিতে সদিচ্ছাপ্রসুৎ মনে হলেও তা কোনোভাবেই স্বচ্ছ চিন্তা হতে পারে না। ঈদ উৎসব কি হিন্দুর হতে পারে কিংবা রথযাত্রা কী হতে পারে মুসলমানের? উৎসব সবার হয় না। হবে কী করে, ধর্মের কাজই তো মানুষকে বিভক্ত করে দেয়া। ধর্মীয় উৎসব মানুষে মানুষে বিভাজন রেখাটি টিকিয়ে রাখে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলমানেরা কি অন্য ধর্মালম্বীদের ডাকে তাদের উৎসবে? বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ডাকে সাড়া মেলে কি মুসলমানদের? কিংবা মুসলমানদের ডাকে সাড়া মিলবে সনাতনীদের? বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের ক্ষীণ কণ্ঠের আহŸান কি পৌঁছয় সবার কাছে? সাঁওতালদের উৎসবের খোঁজও রাখে কি কেউ? উৎসবের এই যে একাধিক স্রোত, কীভাবে তা এসে এক মোহনায় মিলবে? মেলে না। কিন্তু মানুষ তো মিলতে চায়, মেলাতে চায়। প্রাণের টানে ঘরছাড়া হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে যে মানুষ, সে তো সবার রঙে রঙ মেশাবে বলেই। না মেশালে উৎসব তো সার্বজনীন হবে না। হয় না তা। ধার্মিক মানুষের ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমন ধর্মীয় প্রথা বা উৎসবের সার্বজনীন হওয়াও সম্ভব নয়। ধর্মীয় উৎসবে ধর্মই বাধা হয়ে দাঁড়ায় মহামিলনের পথে। ধর্ম ,বর্ণ জাতীয়তা মানুষকে বিভক্ত করে ,খন্ডিত পরিচিতি দেয়। মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে দেয় না । ধর্মের উর্দ্ধে না উঠেই মানুষকে ‘ মানবিক মানুষ’ হতে হয়। যেকোনো উৎসবের প্রধান তাগিদটাই হলো সবার সাথে মিলতে চাওয়া, মিলিয়ে দেয়া। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – ‘আজ সবার রং এ রং মেশাতে হবে’। ঠিক সেভাবে। উৎসব চাই আমাদের। রবীন্দ্রনাথ যেভাবে বলেছেন… ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ’। মনুষ্যত্বের শক্তিতে জেগে ওঠা মহৎ মানুষদের মহামিলন ঘটাবে যে উৎসব আমরা সেই উৎসবের অপেক্ষায়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]