• প্রচ্ছদ » » প্রতিটি নক্ষত্রের পতনের জন্য সময় নির্ধারণ করা আছে


প্রতিটি নক্ষত্রের পতনের জন্য সময় নির্ধারণ করা আছে

আমাদের নতুন সময় : 26/10/2020

আসিফ আকবর : সিনেমা, নাটক পত্রিকায় তারকাদের দেখার জন্য উদগ্রীব থাকতাম। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম তাদের ব্যাপারে। এখনকার মতো আটলান্টিকসম মিডিয়া আমাদের সময় ছিলো না। ভিলেন ছাড়া সব তারকাদের প্রতি রেসপেক্ট ছিলো অনেক। সাদাকালো স্ক্রিনের ওপার থেকে একটু নাক বোঁচা বা ছোট চোখের নায়িকা, গায়িকা দেখলে খুব চিন্তায় পড়ে যেতাম। ভাবতাম তাদের যদি ভালো বিয়ে না হয় তাহলে খুব কষ্ট পাবো। বাসায় প্রিয় প্লেয়ারদের পোস্টার কিনে লাগিয়ে রাখতাম, ভিউকার্ড জমাতাম। বন্ধুদের আড্ডায় যে যতো বেশি জানে তার ততো বেশি চাপা মারার সুযোগ ছিলো। আমার ছোটবেলায় তারকারা ছিলেন কল্পজগতের বাসিন্দা। দেশের ভেতরে বাইরে পুলিশ কিংবা ইমিগ্রেশনের জেরার চিন্তায় নিজেকে কখনো তারকা ভাবি না। তবে তারকাদের সঙ্গে এখন ওঠাবসা আমার, বলতে গেলে এই জীবনটাই জড়িয়ে গেছে শোবিজে। যাদের বিয়ে না হওয়া নিয়ে চিন্তা করতাম তাদের সাথেও মেশার সৌভাগ্য হয়েছে। সাদাকালো স্ক্রিনের ধোঁকায় ছোটবেলায় তাদের সৌন্দর্য বুঝতে পারিনি। তাদের এখন বলতেও পারি না, আপা আপনার বোঁচা নাক নিয়ে আমার টেনশন ছিলো। এ এক আজব পরীক্ষা, যাদের নিয়ে ভাবতাম তারা সামনে অথচ ভয়ে অতীত ভাবনা শেয়ার করতে পারছি না। এখন তো মেকআপের আক্রমণে আসল নকল বুঝি না। অনেক জুনিয়র তারকাদের সঙ্গে বারবার পরিচিত হয়েও চেহারা মনে রাখতে পারি না। ভুল নামে ডেকে বিপদে পড়ে যাই প্রায়ই। তেইশ বছর কাটিয়ে দিলাম এই রঙিন জগতে। আমি কখনোই ফ্যাশনেবল ছিলাম না। তারকাদের সাথে যেসব ব্যাপারগুলো যায়, সেগুলো আমার মধ্যে নেই। সাধাসিধে জীবনযাপনের সঙ্গে নামডাক হয়ে যাওয়ার কাহিনিগুলো এডজাস্ট করে চলার চেষ্টা করছি এখনো। আমিও সাধারণ থেকে আসিফ হয়েছি। আমাকে নিয়ে আমার ফ্যানদের আবেগগুলো বহুলাংশেই বুঝতে পারি, ভালো লাগে ভাবতে। তারকাদের চুল পড়তে পারে না, তাদের বয়স বাড়তে পারে না, শারীরিক গড়নের উত্থান-পতন হতে পারে না, এরকম নানান ভাবনা প্রচলিত, প্রচুর কমেন্টও পাই। আমার মনে হয়ে এটাই খ্যাতিমান হওয়ার বড় প্রাপ্তি, সবুজ হয়ে মানুষের মনে বেঁচে থাকা যায়। আমার মাথায় চুল কমেছে, চোখের দৃষ্টিও হালকা ক্ষীণ হয়েছে, শরীরে মেদ জমেছে আরও কতো কী। এভাবে আস্তে আস্তে ক্ষয়ে ক্ষয়ে একদিন সরে যেতে হবে দুনিয়া থেকে, রয়ে যাবে শুধু স্মৃতিগুলো। আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সূর্যটাও প্রতিদিন উদয় হওয়া অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে আসল সত্যটা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিটি নক্ষত্রের পতনের জন্য সময় নির্ধারণ করা আছে, এটাই নিয়ম, একটু আগে আর পরে এই যা। সব শেষ হয়ে যাবে একসময়, থেকে যাবে শুধু ভালোবাসাবাসিটা, মরে যাবে ঘৃণার শাখা প্রশাখা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]