• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপেষু সরবরাহ/মূল্য নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কর্তৃপক্ষ চাই


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপেষু সরবরাহ/মূল্য নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কর্তৃপক্ষ চাই

আমাদের নতুন সময় : 26/10/2020

নাঈমুল ইসলাম খান: [১] বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে ঘাটতি প্রায় সাংবাৎসরিক ও নিয়মিত দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
[২] অনেক সময় সরবরাহ সংকট কিংবা মূল্যবৃদ্ধির কিছু যৌক্তিক কারণ থাকলেও অধিকাংশ সময় এই দুর্ভোগের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকেই না।[৩] সাংবাদিকতায় চার দশকের অভিজ্ঞতা এবং আমার ষাট বছরের জীবনে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমি মনে করি এই সংকট গুলো মূলত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অবর্তমানে সামঞ্জ্যহীনভাবে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তরুণ বয়সে নিজেই বাজারে গিয়েছি মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে। নিত্যপণ্যের দামে ওঠা-নামা আমাকে প্রায়ই সমস্যায় ফেলেছে। বাকী

[৪] বাংলাদেশের জন্য এমন সংকট সৃষ্টিকারী নিত্যপণ্য আছে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টি। যেমন:(১) ভোজ্য তেল, (২) চিনি, (৩) লবণ, (৪) পেয়াজ, (৫) রসুন, (৬) আলু, (৭) গুড়ো দুধ, (৮) আটা/গম, (৯) চাল, (১০) ডাল, (১১) মরিচ, (১২) আদা, (১৩) ছোলা, (১৪) খেজুর, (১৫) হলুদ, (১৬) জিরা, (১৭) গরম মসলা ইত্যাদি ইত্যাদি।
[৫] দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকার অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলতে পারে, বদনাম তো অবশ্যই হয়। সাধারণ নাগরিক পণ্যের ঘাটতিতে বা অস্বভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে অসন্তুষ্ট হয় সরকারের ওপর। তাই সরকারের উচিত বছরব্যাপী সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পণ্য মূল্য যৌক্তিক ও সহনীয় রাখতে কার্যকর একটি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
[৬] সরকারের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এমনকি আরও বাড়াতে, জনপ্রিয়তাকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করতে নিত্যপন্যের দেশব্যাপি সুষ্ঠু বিতরণ এবং প্রাপ্যতা নিশ্চত করতে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য আমার প্রস্তাবিত নাম ‘জাতীয় নিত্যপণ্য কর্তৃপক্ষ’।
[৭] বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় অথবা খাদ্য মন্ত্রণালয় কেউই তাদের অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কাজের ভিড়ে নিত্যপণ্যের ব্যবস্থাপনা, সার্বক্ষণিক ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিনা বিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে না।
[৮] পর্যবেক্ষণ ও পদক্ষেপ গ্রহণের যেকোনো বিলম্ব সংকটকে স্বল্পতম সময়ে বিস্তৃত করে, জটিল ও অসহনীয় নির্মম করে তোলে। [৯] পর্যবেক্ষণ ও পদক্ষেপ গ্রহণে দেরি হওয়ার ফলে অধিকাংশ সময় সরকারকে সৃষ্ট সংকটের অনেক পেছনে, অনেক দেরিতে, অনেক দূরে পিছু নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে এমনকি দৌড়াতে হয়। [১০] সংকট যাতে সৃষ্টি হতে না পারে অর্থাৎ সংকট ঠেকানো বা প্রতিরোধ গড়ার কৌশলই হবে সর্বোত্তম। অর্থাৎ সংকটে পেছনে নয় বরং উল্টো সংকটের অনেক অনেক আগে থাকতে হবে কর্তৃপক্ষকে। [১১] বাংলাদেশে এমন একটা সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার কর্মকর্তা থাকবেন উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত। তারপর জেলা পর্যায় এবং সবার উপরে জাতীয় পর্যায়, ঢাকায়। এর প্রধান কর্মকর্তা হবেন সিনিয়র সচিব/সচিব পদমর্যাদার।
এই বিষয়টা এতো গুরুত্বপূর্ণ যে এর নেতৃত্বে একমন্য জাদরেল মন্ত্রীকেও নিয়োজিত করা যেতে পারে।
[১২] এই কর্তৃপক্ষের প্রধান বা মুখ্য কাজ হবে প্রতিদিন প্রতিটি নিত্যপণ্যের স্থানীয় ব্যবসায়ি এবং মজুদকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং প্রতিদিনের ভিত্তিতে মজুদ ও সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতির তথ্য উপাত্ত স্থানীয়ভাবে, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদিনই প্রেরণ। [১৩] জাতীয় নিত্য পণ্য কর্তৃপক্ষ কোনো একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিলে সমন্বয় দূরুহ হবে। কারণ নিত্যপণ্যের ব্যবস্থাপনায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি, বাণিজ্য, খাদ্য, দূর্যোগ ও ত্রাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ অনেক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা প্রয়োজন হবে। তাই জাতীয় নিত্যপণ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়, তাঁরই অধীনে।
[১৪] জাতীয় নিত্যপণ্য কর্তৃপক্ষ সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ি এবং তাদের এসোসিয়েশন সমূহের সাথে নিয়মিত এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেই হবে। ব্যবসায়িদের নূন্যতম যুক্তিসঙ্গত অসুবিধা দূর করতে হবে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে। বাজার নিয়ন্ত্রণের স্বৈরাচারী চেষ্টার পরিবর্তে সমঝোতা ও সহযোগিতার কৌশল হবে সবচেয়ে কার্যকর ও বুদ্ধিমানের।
[১৫] জাতীয় পর্যায়েও কর্মকর্তারা শীর্ষ সকল সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িদের সাথে প্রতিদিনের যোগাযোগ রাখবেন এবং জাতীয় ভিত্তিক মূল্য, মজুদ, আমদানি, এলসি ওপেনিং এবং সরবরাহ পরিস্থিতির খুঁটিনাটি তথ্যউপাত্ত প্রাত্যহিক ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন।
[১৬] দেশে কোথায় কোন পণ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি কী, জাতীয় এবং স্থানীয়ভাবে এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিদিনের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং করণীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
[১৭] সকল তথ্য উপাত্ত প্রতিদিনের ভিত্তিতেই যথাযথ কম্পিউটার সফটওয়্যার দিয়ে বিশে^র, দেশের এবং অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, পূর্বাভাস এবং করণীয় ধর্মী দৈনিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
[১৮] এভাবে বিশ^ এবং বাংলাদেশে পরিস্থিতির উপর নজনদারি এবং আগাম তথ্য থাকলে যেকোনো নিত্যপণ্যের সরবারহ এবং মজুদ পরিস্থিতি সবসময় ৩ মাসের জন্য পর্যাপ্ত ভান্ডার রাখা অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে। এভাবে আমরা নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য যুক্তিসঙ্গত ও সহনীয় নিশ্চিত করতে পারবো। [১৯] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান প্রতিষ্ঠিত ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) সকল নিত্য পণ্যের একটি আপদকালীন ভান্ডার রাখবে প্রত্যেকটা জেলা পর্যায়ে। যেনো যেখানেই ঘাটতি বা যখনই মূল্যবৃদ্ধি কাল বিলম্ব না করে সেখানেই ন্যায্য মূল্যে সেই পণ্য জনগণকে সরবরাহ করা যায়। টিসিবিকে জাতীয় নিত্যপণ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একীভূত করতে হবে। [২০] বেসরকারি ব্যবসায়িরা যখনই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অসৎ ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করবে সেখানেই বিলম্ব না করে সহনীয় মূল্যে সেই পণ্য বাজারে নির্ধারিত টিসিবি এজেন্টের কাছে সরবারহ করা যাবে, ফলে কখনোই পণ্যমূল্য অসহনীয় হওয়ার সময় ও সুযোগ পাবে না।
এই প্রতিবেদনের অনুলেখক: ফাহমিদা তিশা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]