• প্রচ্ছদ » » স¤প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের ‘উৎসব’ হোক জোরালো


স¤প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের ‘উৎসব’ হোক জোরালো

আমাদের নতুন সময় : 26/10/2020

শরীফ আহমদ সাদী : ঈদ তো ধর্মীয় অনুষ্ঠান। পূজাও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঈদের নামাজ এবং নামাজ সংশ্লিষ্ট অনুসঙ্গগুলো ধর্মীয় অনুশাসন। একজন মুসলমান হিসেবে ইসলামী অনুশাসন অনুশীলন করা তার কর্তব্য। দুর্গাপূজার পূজা-অর্চনা, দেবীর তরে মন্ত্রপাঠ ও নৈবেদ্য অর্পণ হিন্দুদের কর্তব্য। সেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অংশ নেওয়ার কিছু নেই। আদিম সমাজেও এই ভ‚-প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে অজানা-অদেখা-অদৃশ্য কোনো কিছুর ওপর একটা ‘বিশ্বাস’ ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিলো। সেটি প্রকৃতি-নির্ভর, শিকার-নির্ভর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়, ভালো কিছু শিকার (পশু-পাখি) পাওয়ার আশায়, অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তির অস্তিত্ব কল্পনায় এনে সেই শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতো আদিম হোমো সেপিয়েন্স মানুষ, আর এই আত্মসমর্পণকেই বলা হচ্ছে ধর্ম। লিখিত ইতিহাসে পাওয়া যায়, এখনকার ধর্মগুলো অর্থাৎ বর্তমানে মানবগোষ্ঠী যে সকল ধর্মের চর্চা করছে এর বয়স মোটামুটি ৫ হাজার বছর। বর্তমানে প্রধান প্রধান ধর্মগুলো সনাতন, বৌদ্ধ, ইহুদি, খ্রিস্টান, ইসলাম। ধর্মীয় রীতি-নীতির বাইরে কিছু সর্বজনীন সামাজিকতা গড়ে ওঠে। যেহেতু মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, তার একান্ত নিজস্ব ধর্ম-চর্চার পরেও একে ঘিরে একই সমাজে যুথবদ্ধ মানুষগুলোর মাঝে কিছু সম্মিলনি আচার-আচরণের উদ্ভব ঘটে।
মানুষ মাত্রেরই মিলনের সুর আছে, আনন্দ আবাহনী গান আছে। সেই মিলন-সূত্রেই কেতাব বহিভর্‚ত সম্মিলনের সামাজিক রীতির চর্চা হয়। কেতাবি আইন, বিধি-বিধান, রীতি-নীতি ও অনুশাসনের ঊর্ধে যুথবদ্ধ মানুষের অলিখিত কিছু নিজস্ব ইতিবাচক কর্মকাÐ থাকে। এগুলো তাদের সর্বজনীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। এটি একেক সীমানায় একেক রকমের হয়ে থাকে। সামাজিক মানুষের ভাব-বিনিময়, আচার-আচরণ, আনন্দ-বেদনার অংশীদারিত্ব থাকে। এগুলো স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্নরকম হয়। নতুন পোশাক, সাজ-সজ্জা,পায়েস,পিঠা, পুলি, সুস্বাদু খাবার তৈরি, উপহার বিনিময়, পারস্পরিক নিমন্ত্রণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ইত্যাদি। ধর্মের নির্দিষ্ট কর্মকাÐের পরে একটু বাইরে এসে, পরিসর একটু বড় করে সবাইকে নিয়ে তথা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা কী দোষের? না-তো। সুস্থ-সুন্দর, মনোরম-মনোহর, শালীন-শোভন আনন্দ-বিনোদন ধর্মীয় সীমানার ঊর্ধে, সমাজের সকলের নাম স¤প্রীতির নাম ভ্রাতৃত্ব। এর নাম ‘উৎসব’ যেখানে মানবসমাজের সব স্রোতধারা এসে মিলে গেছে। এবং এ কারণেই ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। একশ্রেণির কট্টরপন্থী ধর্মান্ধরা এই উৎসবকে সংকীর্ণ গÐীতে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায়। ধর্মে-ধর্মে বিবাদ-বিসম্বাদ বজায় রেখে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীকে সংখ্যালঘিষ্ঠদের কাছ থেকে আলাদা করে গরিষ্ঠদের কিছুটা উগ্র-উষ্ণ-উত্তপ্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল চালু রাখে। যেন সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ সামাজিক মিলমিশ হতে না পারে, মনোজগতে যেন সবসময় একটা ধর্মীয় কঠোর ভেদাভেদ জিইয়ে রাখে। এটি বজায় থাকলে বা কঠোর বিধিমালার ভয় দেখিয়ে এটি বজায় রাখতে পারলে ধর্মভিত্তিক একটি সা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ফায়দা হয়। আমেরিকায় খ্রিস্টান ধর্মের, ভারতে সনাতন ধর্মের কট্টরপন্থীরা একই কাজ সফলভাবে করছে। যথাক্রমে আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টির ট্রাম্প এবং ভারতে বিজেপির মোদী একই প্রকৃয়ায় সুবিধাবাদী রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে। অন্য অনেক দেশে এর উদাহরণ আছে। আমাদের দেশে এই অপরাজনৈতিক প্রক্রিয়া সেই যে ১৯৪৭ থেকে শুরু হয়েছিলো, তা এখনো অপনোদন হয়নি। তাই স¤প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের ‘উৎসব’ হোক জোরালো। উৎসবে শামিল হোক সকলে। সকলকে শারদীয় উৎসবের বর্ণিল শুভেচ্ছা। লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড (টিইআরবিবি)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]