• প্রচ্ছদ » » ‘বাংলাদেশের তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হওয়ার গল্প’ এবং সাংবাদিক মার্ক টালি


‘বাংলাদেশের তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হওয়ার গল্প’ এবং সাংবাদিক মার্ক টালি

আমাদের নতুন সময় : 30/10/2020

অমি রহমান পিয়াল : ভারতীয় নাগরিক মার্ক টালি এখন অবসর জীবনযাপন করছেন। আমাদের বয়সীরা অর্থাৎ সত্তরের কাছাকাছি তদোর্ধ যারা এখনো বেঁচে আছি, তাদের কাছে মার্ক টালি, বিবিসি এবং সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে এক সূত্রে গাঁথা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিবিসি রেডিও ছিলো একমাত্র বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যম বাঙালির কাছে। সেই ১৯৬৯ সালের শুরু থেকে সকালে ও সন্ধ্যায় যথাক্রমে আধা ঘণ্টা ও এক ঘণ্টার বিবিসির সংবাদ শুনতে আমাদের মতো রেডিওবিহীন পরিবারের ছেলেদের কোনো অসুবিধা হতো না। রাস্তায় এক জায়গায় দাঁড়ালে চারিদিক থেকে ‘বিবিসি লন্ডন’ কথাটা দিয়ে শুরু হতো বিবিসির সংবাদ। ঢাকা থেকে আতাউস সামাদ, লন্ডনে ছিলেন সেরাজুর রহমান আর দিল্লিতে ছিলেন মার্ক টালি। আমরা সবসময় বেশি আগ্রহ নিয়ে শুনতাম মার্ক টালির প্রতিবেদন। ১৯৭১ সালে মার্ক টালির উপর আমাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেড়ে গেলো। কারণ ঢাকার আতাউস সামাদ কিংবা তার পূর্বে যিনি ছিলেন (নামটা সম্ভবত নিজামউদ্দিন ছিলো), তাদের পক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো কঠিন ছিলো ২৫ মার্চের পরে। আর মার্ক টালির সাংবাদিকতার মান নিয়ে আমি কী বলবো। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম দুই-চার দিন মার্ক টালি ঢাকায় আনাগোনা করতে পারলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই পাকিরা তার বাংলাদেশে আসা বন্ধ করে দিলো। কিন্তু মার্ক টালি বিন্দুমাত্র দমার পাত্র ছিলেন না। তিনি বর্ডার এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন, যেখানে পাকিদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ বাঁধতো, সেখানেই মার্ক টালি। যেমন আগরতলা বর্ডার এলাকায় বাংলাদেশের ২ মাইল ভেতরে মুক্তি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা নিরাপদ এলাকা থেকে আমি মার্ক টালি বলছি, ইত্যাদি। যশোরের বর্ডার এলাকায় ওমুক সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা বর্ণনা দিলেন কীভাবে ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হামলা চালিয়েছিল, প্রসঙ্গত পাকি সেনাদের হোমড়াচোমরারা তখন ওই হোটেলে থাকা নিরাপদ মনে করতো।
কিন্তু মার্ক টালির কারণে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিদের তাৎক্ষণিক অবস্থা সব সময় অবগত ছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৯ মাস সময় অতি সাহসিকতার সঙ্গে স্বচ্ছ সাংবাদিকতার স্বীকৃতিসরূপ তিনি দিল্লিতে বিবিসির ব্যুরো প্রধান থেকে বিবিসি বোর্ডের ডিরেক্টর হয়ে যান। সে অবস্থান দীর্ঘ স্থায়ী হয়নি। আপোসহীন সৎ ও সাহসিক সাংবাদিক মার্ক টালি বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে ব্রিটিশ সরকারের তাবেদার হয়ে যাওয়ার স্বিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়া মাত্র সেদিনের ফ্লাইটে সোজা দিল্লি চলে আসেন চির জীবনের জন্য। আসার আগে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে আসতে ভুলেননি। যাই হোক, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে সম্ভবত আশির দশকে ভারত সরকারকে রাজি করিয়ে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। শেখ হাসিনা সরকার তাকে তার ভ‚মিকার জন্য সম্মানিত করে আমাদের দায় কিছুটা হলেও শোধ করেছেন। এই মার্ক টালি বাংলাদেশকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছেন, লেখাটির নাম দিয়েছেন ‘বাংলাদেশের তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উদিয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হওয়ার গল্প’! আমি তার লেখার সব যুক্তির সাথে একমত নই, তবে তিনি যে বাংলাদেশের কতো বড় শুভাকাক্সক্ষী, তার লেখা পড়ে সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু! (মুরুব্বি বার্তা) ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]