• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশ এখন যে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে যাচ্ছে, তা দেখলে হতাশা লাগে


বাংলাদেশ এখন যে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে যাচ্ছে, তা দেখলে হতাশা লাগে

আমাদের নতুন সময় : 18/11/2020

শুভ কামাল : বাংলাদেশ এখন যে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে যাচ্ছে তা দেখলে আপসেট লাগে। অথচ আমি ধর্মের বেশ মিষ্টি দিক দেখেই বড় হয়েছিলাম। একবার বিস্তারিত লিখেছিলাম, বাপ দাদা ছিলেন সুফি ঘরানার আটরশি পীর সাহেবের মুরিদ। সেখানে বছরে একবার হিন্দু কাকাদেরও সিঁদুর দিয়ে রাঙ্গানো সাদা ছাগল নিয়ে রিজার্ভ বাসে করে যেতে দেখতাম। কেউ কেউ বলতো সেখানে হিন্দুরা যায় কেন? আব্বার উত্তরটা এখনো মনে আছে ‘সবাই তো এক জনেরই সৃষ্টি বাবা’! সেখানে বছরে একবার আমিও যেতাম। আশেপাশে সব কোমল কোমল মানুষ দেখতাম। উনারা অনেকেই ছিলেন রিকশাওয়ালা, দিনমজুর টাইপের লোকজন, বড় বড় অনেক মানুষও যেতেন, একবার মাটিতে শুয়ে আছি একজন একটু জায়গা চাইলেন, জায়গা দেওয়ার একটটু পরে তার কার্ড বের করে দিলেন, তিনি ঢাকা ভার্সিটির টিচার। যাইহোক, এদের সবার একটা মিল ছিলো এরা সবাই ছিলেন সুখী। আমি এর কারন অনুসন্ধানও করেছিলাম বড় হয়ে, এই সুফি টাইপের লোকজন আসলে মামালোক হয়, এদের কোনো টেনশন থাকে না, এদের কথা হচ্ছে আল্লায় কিছু একটা করবে, আমি টেনশন করে কী করবো।
কি মিষ্টি মিষ্টি দরূদ আর গজল পড়তাম। ইয়া নবী সালামু আলাইকা, তুমি যে নূরেরও নবী, নিখিলের ধ্যানেরও ছবি, তুমি না এলে দুনিয়ায়, আঁধারে ডুবিতো সবই, তার পর শেখ সাদীর বালাগাল উলা বি কামালীহি, কাশাফাদ্দোজা বি জামালিহী, হাসানাত তো জামিউ খিছওয়ালিহী, সাল্লু আলাইহি ওয়ালিহি, আল্লাহুম্মা সল্লিওয়ালা সৈয়্যেদিনা মোহাম্মদ আরও কতোকিছু, কলিজা পর্যন্ত নরম হয়ে যেতো, মাঝে মাঝে হতো ইসলামী জলসাও, এখন যে রকম মোল্লারা ওয়াজ মাহফিল নামক একটা অনুষ্ঠান করে অনেকটা সেরকম। তার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হচ্ছে দলে দলে লোকে আহারে হু হু করে সেকি কান্নাকাটি, এমন হৃদয় থেকে কান্নাকাটি কোনো সালাফি মোল্লা সারা রাত চিল্লাইলেও তাদের শ্রোতাদের হৃদয় থেকে বের করতে পারবে না। তারা এমন কাঁদতে পারতো বলেই আমি এখনো বিশ্বাস করি অন্য যাইহোক তাদের হৃদয় পরিষ্কার ছিলো। সুফিজম এই হৃদয় তথা কালব্ব নিয়েই কাজ করে। এ এক অদ্ভুত মাদকতা, যে কাউকে বিমোহিত করে রাখবে।
আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে না এই বাংলায় এতো মুসলমান এলো কোথা থেকে। আরব কিংবা মোগল কিংবা তুর্কিরা তো এসেছিলো আফগানিস্থানের দিক থেকে, মাঝে ইন্ডিয়ার মতো হিন্দু অধ্যুষিত জায়গা, তার এক কোনায় বাংলায় মুসলমান এলো কোথা থেকে। শওকত আলীর ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ বইটা পড়লে এর কারন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এমনই সুফিদের আস্তানায় স¤প্রীতির বন্ধন দেখে, এমন অদ্ভুত মাদকতায় মুগ্ধ হয়ে এই অঞ্চলের নি¤œবর্ণের মানুষেরা দলে দলে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলো। অথচ এই যুগের খাটাশ টাইপের মোল্লাদের কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি দেখলে আর পাশবিক কথাবার্তা শুনলে যে কেউ পুরো ধর্মটাকেই ঘৃণা করবে, উঠে উল্টা দিকে দৌড় দিবে। কোনো স¤প্রীতির কথা বললেই শালারা বইপত্র খুলে দুই লাইন বের করে দেখাবে কোথায় পাইলা উদারতা? এই দেখো বইয়ের দেড় লাইনে লেখা আছে আমরা খাটাশের মতোই। আমাদের উদারতার কথা শুনাতে আইসো না।
এই ধর্মটার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে পশ্চিমের দোসর সৌদি সালাফিদের টাকা খাওয়া মোল্লারাই। ঊনিশশো সত্তর সালের দিকে আমেরিকায় দলে দলে কালা ভাইরা মুসলমান হয়ে যাচ্ছিলো, তারা এটাকে সাম্যের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলো। বক্সার মোহাম্মদ আলীরা সেই সময়কার। এমনকি আমি সেই সময়কার আমেরিকার মেইনস্ট্রিম সাহিত্যেও দেখেছি সেখানে সেই সময়কার এক কালাভাই চরিত্রকে দেখিয়েছিলো তার বোন মুসলমান হয়ে গেছে, সেও কনভার্ট করার কথা ভাবছে। একটা ছোটো গল্পের সংকলনে পড়েছিলাম, নামটা এই মুহূর্তে ভুলে গেছি। এটা থেমেছে কখন জানেন? ওয়ান এলেভেনের পরে। এখন সালাফি মোল্লাদের তাফালিং এ লোকে মুসলমান পরিচয় দিতেই লজ্জ্বা পায়। অথচ এই দুই নম্বরী মোল্লাগুলো বলবে না এইভাবে ওয়াজের বিনিময়ে টাকা নেওয়া যে জায়েজ না। এমনকি এদের অনেকের পেমেন্ট ¯িøপও আছে। টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে, হেলিকপ্টারে করে এসে নবীর খেজুর পাতায় শোয়ার বয়ান করে।
কোরান শরীফে যারা ধর্ম প্রচার করবে তাদের ব্যাপারে বলা আছে, ‘তারা সেই লোক যাদেরকে আল্লাহতায়ালা পথ প্রদর্শন করেছেন। অতএব, আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো পারিশ্রমিক চাই না। সূরা আনআম ঃ ৯০, হাদিসে আছে, ‘তোমরা কোরআন পড়ো এবং তার ওপর আমল করো। আর তাতে সীমালংঘন করো না, তার ব্যাপারে শৈথিল্য করো না, তার বিনিময় খেয়ো না এবং তাকে নিয়ে রিয়া করো না’। মুসনাদে আহমাদ : ১৫৫৬৮, সুনানে বায়হাকি : ২৬২৪, মুজামে তাবরানি আওসাত : ২৫৭৪। অর্থাৎ এর বিনিময়ে খেতে মানা করে হয়েছে। আপনারাই এখন কোরান হাদিসের সাথে এসব ডিসকো মোল্লাদের কাজ কারবার মেলান। টাকা হালাল করার জন্য তারা এখন ওয়াজের নামে কনসার্ট করে, আর বয়ান করে কি নিয়ে? ইয়া নবী সালামু আলাইকা বলা যাবে কিনা সেটা নিয়ে। সেটা বললে নাকি নবীর অসম্মান করা হয়। অথচ এরাই আবার ক্যাঁচাল করবে নবীকে সালাম জানানোর সময় নাকি দাঁড়ানো যাবে না, সেটা বলে।
এই সব ক্যাঁচাল করে করে তারা বাংলার কোমল টাইপের মানুষ গুলোকে তারা পাথরের মতো, পশুর মতো বানাচ্ছে। যাইহোক, এই যে কওমী মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র পাস করে প্রতি বছর, এদের পেশা কী? মূলত খয়রাতি। কিন্তু ওপরের কোরান হাদিসের রেফারেন্স পড়ে কী বুঝলেন, এইরকম খয়রাতি পেশা কী ইসলামে জায়েজ। এরা তাই কথায় কথায় লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর পেছনে ধান্ধা ছাড়া অন্য উদ্দেশ্য নেই, রেলের জমি পাওয়ার আশায় বড় হুজুররা এদের রাস্তায় নামায়া দেয়। যাই হোক অনেক কঠিন কঠিন কথা বলে ফেললাম। সুফি হিসেবে আমার এতো চ্যাতা ঠিক না। তবে এদের তাফালিং এ মেজাজ ঠিক রাখা দায়। যা শুরু করেছে আজকাল! ঈষৎ সংক্ষেপিত। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]